বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ যেন দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে আসছে হত্যাকাণ্ডের খবর। কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও রাজনৈতিক আধিপত্য, কোথাও মাদক ও অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব—আবার কোথাও তুচ্ছ ঘটনাও গড়াচ্ছে প্রাণহানিতে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে ভাবার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৯৬টি হত্যার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। শুধু মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসে হত্যার মামলা হয়েছে ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে ৩১১টি।
সংখ্যাগুলোকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে এর ভয়াবহতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। প্রতিটি হত্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, স্বজন হারানোর দীর্ঘশ্বাস এবং নিরাপত্তাহীনতার নতুন অভিজ্ঞতা। একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না; একই সঙ্গে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে নাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে। একটি পরিবারের ঘরের ভেতর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু অপরাধের ভয়াবহতাই প্রকাশ করে না, সমাজের ভেতরে অপরাধ ও মাদকের প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছেছে, সেই প্রশ্নও সামনে আনে।
এর আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ধরনেও দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্য। কোথাও গুলি করে হত্যা, কোথাও ধারালো অস্ত্রের আঘাত, কোথাও অপহরণ বা নির্যাতনের পর প্রাণহানি। গত ৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগে একটি সেতুর নিচ থেকে এক তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে একক কোনো কারণ নেই—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। টার্গেট কিলিং, অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক বিরোধ, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য, মাদককে কেন্দ্র করে সংঘাত, কিশোর গ্যাং, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের পর হত্যার মতো নানা কারণ সামনে আসছে। অর্থাৎ অপরাধের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি হত্যাকাণ্ডের সামাজিক ও অপরাধমূলক প্রেক্ষাপটও হয়ে উঠছে জটিল।
এ পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বিশেষভাবে উদ্বেগের। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৫৯ জন। একই সময়ে পুলিশের লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে চায়নিজ রাইফেল ও এসএমজির মতো অস্ত্র। উদ্ধার হয়নি বিপুলসংখ্যক গুলিও। এর বাইরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের হাতে থাকা অবৈধ আধুনিক অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা কত, তারও পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই।
অবৈধ অস্ত্র যখন অপরাধীদের হাতে সহজলভ্য হয়ে ওঠে, তখন ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিতে পারে। কথাকাটাকাটি থেকে মারামারি, মারামারি থেকে অস্ত্রের ব্যবহার এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড—এমন প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে অপরাধী চক্রের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।
রাজনৈতিক বিরোধও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় প্রায় ৪০০টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৭ জনের। তাদের মধ্যে ৪০ জন দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক মতবিরোধ যখন ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিশে যায়, তখন সংঘাতের পরিণতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ঢাকার পরিসংখ্যানও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। জুলাই মাসে ঢাকা মহানগরে ৩১টি হত্যার মামলা হয়েছে। জুনে ছিল ২৩টি এবং মে মাসে ১৬টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে রাজধানীতে হত্যার মামলা হয়েছে ৭০টি। মহানগরগুলোর মধ্যে জুলাইয়ে চট্টগ্রামে চারটি, খুলনায় তিনটি, রাজশাহীতে একটি, সিলেটে পাঁচটি এবং গাজীপুরে সাতটি হত্যার মামলা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা রেঞ্জে জুলাই মাসে ৬৬টি হত্যার মামলা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন রেঞ্জের মধ্যে সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি এবং খুলনা রেঞ্জে ২৯টি মামলা হয়েছে।
তবে শুধু সাম্প্রতিক কয়েক মাসের পরিসংখ্যান দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। ২০২৩ সালে দেশে হত্যার মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ২৩টি, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২৫১টি। ২০২৪ সালের বিভিন্ন মাসেও হত্যার মামলা ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই বছরের আগস্টে মামলার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে ৬২৬-এ পৌঁছেছিল, যদিও এর মধ্যে আগের বছরের অপরাধসংক্রান্ত মামলাও ছিল। ২০২৫ সালের মে, জুন ও জুলাইয়ে প্রকৃত হত্যার ঘটনা ছিল যথাক্রমে ২৬১, ২৪৯ ও ২৭২টি। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, দেশে হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগের বিষয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সব হত্যাকাণ্ড আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ক্রোধ থেকেও অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং এ ধরনের অপরাধ অনেক সময় অনির্দেশ্য। ফলে শুধু হত্যার পর তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; হত্যাকাণ্ডের আগের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় অপরাধী চক্রের আধিপত্য, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে, সেসব এলাকায় আগাম গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চললে সেখানে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটার আগেই পরিস্থিতি শনাক্ত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বদলি, সংযুক্তি, মামলা, চাকরি হারানোর আশঙ্কা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির মতো বিষয় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার কথাও বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের কার্যকর সক্ষমতা ও জনসাধারণের আস্থা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনও অপরাধের ধরনকে প্রভাবিত করছে। কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া চিহ্নিত অপরাধী, বিদেশ থেকে ফিরে আসা অপরাধী কিংবা পুরোনো অপরাধী চক্রের সদস্যদের কেউ কেউ আবার নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুরোনো বিরোধের প্রতিশোধ নিতে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
খুলনা, চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুদের মতো অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতার প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতও ঘটছে। ফলে একেক অঞ্চলে হত্যার পেছনে একেক ধরনের অপরাধ কাঠামো কাজ করছে।
খুলনার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে। নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে উদ্ধারের ঘটনা, একই এলাকায় জোড়া খুন, গুলি করে তরুণ হত্যা—এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রতিটি ঘটনা আলাদা হলেও সম্মিলিতভাবে এগুলো একটি অস্বস্তিকর সামাজিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাই শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের উৎস চিহ্নিত করাও জরুরি। মাদক নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, জমি ও পারিবারিক বিরোধ দ্রুত মীমাংসার ব্যবস্থা এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো জনসাধারণের আস্থা। মানুষ যদি মনে করে অপরাধ ঘটলেও বিচার হবে না, অপরাধীরা সহজে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়াবে কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আস্থা দুর্বল হবে। বিপরীতে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, গত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে জনগণই শেষ পর্যন্ত সেই উন্নতির মূল্যায়ন করবে। বাস্তবতা হলো, পরিসংখ্যান ও মাঠের অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় ঘটানো জরুরি। কারণ কাগজে অপরাধের হার কমলেও যদি মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সময়, সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সময় কিংবা রাতে বাড়ি ফেরার পথে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে স্বস্তি তৈরি করা কঠিন।
হত্যার প্রতিটি ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কোনো হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না; প্রতিটি ঘটনার পেছনে থাকা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অপরাধমূলক কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলেও হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ হয় না, যদি তার মূল কারণগুলো অমীমাংসিত থেকে যায়।
দেশের মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে চায়, সন্তানকে নিশ্চিন্তে স্কুলে পাঠাতে চায়, ব্যবসা করতে চায়, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়। তাদের এই প্রত্যাশা পূরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আইনের প্রতি সবার সমান শ্রদ্ধা। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের নিরাপত্তার আয়না। সেই আয়নায় যখন বারবার রক্তের ছাপ দেখা যায়, তখন উদ্বেগকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না।
আপনার মতামত জানানঃ