বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এর নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতের বিহার রাজ্য ফারাক্কা ব্যারাজ ও পানি বণ্টনে নিজেদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছে। আর এই দাবিকে বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের পানি সমস্যার সমাধান কি এবার নতুন কোনো সমঝোতার পথে এগোতে পারে, নাকি ফারাক্কাকে ঘিরে পুরোনো বিরোধই নতুনভাবে সামনে আসবে?
সাম্প্রতিক বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জনতা দল-ইউনাইটেডের সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বিহারের পানিসম্পদ, সেচ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পররাষ্ট্র, জলশক্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিহারের পক্ষ থেকে মূল যে অভিযোগটি সামনে আনা হয়েছে, তা হলো ফারাক্কা ব্যারাজে পৌঁছানো পানির বড় একটি অংশ বিহারের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে এলেও রাজ্যটি পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী তার ন্যায্য অংশ পায় না। তাদের দাবি, প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের দাবি আলোচনায় আনা প্রয়োজন।
এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফারাক্কা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে হুগলি নদীতে পানি নেওয়া হয়। একই নদীর নিম্ন অববাহিকায় থাকা বাংলাদেশের জন্য এই পানির প্রবাহ কৃষি, নদী, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর দাবি যতই সামনে আসুক, বাংলাদেশের স্বার্থও আলোচনার একটি অপরিহার্য অংশ।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি ৩০ বছরের জন্য করা হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের শেষদিকে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে নবায়নের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এবারের আলোচনায় শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থ নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর পানির চাহিদাও আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। বিহারের সাম্প্রতিক অবস্থান তারই একটি ইঙ্গিত।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—বিহারের দাবি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পানি চুক্তির বাস্তব সমাধান এক বিষয় নয়। বিহার ভারতের একটি রাজ্য। বাংলাদেশ পানি বণ্টনের বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে রয়েছে। তাই বিহারের দাবি শেষ পর্যন্ত কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পানি নীতিতে প্রতিফলিত হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভারতের অন্যান্য রাজ্য, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পানির চাহিদাও আলোচনায় থাকবে। অর্থাৎ চুক্তি নবায়নের টেবিলে একাধিক স্বার্থকে সমন্বয় করতে হবে।
এই জায়গাতেই নতুন সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এতদিন বাংলাদেশ-ভারত পানি আলোচনায় অনেক সময় প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে—নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি কে পাবে? কিন্তু ভবিষ্যতের আলোচনাকে যদি শুধু পানির ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার দিকে নেওয়া যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে।
গঙ্গা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এর পানি শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো একটি অঞ্চলের বিষয় নয়। উজানে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি, শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া, নদীর নাব্যতা, পলি জমা, বন্যা, কৃষি ও পরিবেশ—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি দেশের চাহিদাকে আলাদা করে দেখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন। বরং পুরো নদী অববাহিকাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
বিহারের বর্তমান দাবির সঙ্গে নেপালের নদীগুলোও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। বৈঠকে নেপালের কোসি ও অন্যান্য নদীর ওপর উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেপাল থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানি ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ফলে নেপালের জলাধার নির্মাণ, ভারতের পানি ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের নদীর প্রবাহ—তিন দেশের সিদ্ধান্ত পরস্পরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে ভারত ও নেপালের সঙ্গে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার আলোচনা জোরদার করা। শুধু ফারাক্কায় কত পানি পাওয়া যাবে—এই প্রশ্নের বাইরে গিয়ে উজানের জলাধার, বর্ষাকালের পানি সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ বাড়ানো এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিন দেশকে একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের পানির প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নেপালে জলাধার নির্মাণের সম্ভাবনাও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে নদীতে ছাড়ার ব্যবস্থা করা গেলে নিচের দিকে পানির প্রবাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অবশ্য এসব প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে।
ভারতের বৈঠকে ২০০৪ সালে নেপালের বিরাটনগরে প্রতিষ্ঠিত যৌথ প্রকল্প কার্যালয়ের প্রসঙ্গও এসেছে। এই কার্যালয়ের উদ্দেশ্য ছিল নেপালে প্রস্তাবিত জলাধার প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া। বিহার সেখানে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব চায়। জয়শঙ্কর বিহারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলে রাজ্যটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর অর্থ হলো ভারত এখন শুধু ফারাক্কা নয়, বৃহত্তর নদী ও জলাধার ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দিচ্ছে।
বাংলাদেশ চাইলে এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে নিজেদের জন্য কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়নকে শুধু পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে একটি বৃহত্তর পানি সহযোগিতার কাঠামো তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সেখানে গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, নদীর তথ্য বিনিময়, বন্যার পূর্বাভাস এবং অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নদীর প্রকৃত প্রবাহের তথ্য। পানি নিয়ে কোনো সমঝোতা কার্যকর করতে হলে দুই দেশের মধ্যে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় প্রয়োজন। কোন সময়ে নদীতে কত পানি আছে, উজানে কোথায় কত পানি প্রত্যাহার হচ্ছে, বর্ষাকালে কত পানি নেমে আসছে এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত ও যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে বিরোধ কমতে পারে। একটি যৌথ ডেটা প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একই তথ্য ব্যবহার করবে।
বন্যা ব্যবস্থাপনাও পানি সমস্যার সমাধানের একটি অংশ হতে পারে। বাংলাদেশ যেমন শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে পড়ে, তেমনি বর্ষাকালে উজানের অতিরিক্ত পানিতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই শুধু পানি ধরে রাখার দাবি নয়, কখন পানি ছাড়তে হবে, কখন জলাধার ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে আগাম বন্যার তথ্য বাংলাদেশকে দেওয়া হবে—এসব নিয়েও কার্যকর সমঝোতা প্রয়োজন। এতে পানি ব্যবস্থাপনা একটি বিরোধের বিষয় না হয়ে যৌথ স্বার্থের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে নদীর নাব্যতা, মৎস্যসম্পদ, কৃষি এবং নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ে। আবার অতিরিক্ত পলি জমা নদীর গতিপথ ও পানি ধারণক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ চুক্তিতে শুধু পানি বণ্টনের পরিমাণ নয়, নদীর পরিবেশগত প্রয়োজনকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হতে পারে ভারতের অভ্যন্তরীণ পানি সংকটকে আলোচনার অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়া। বিহার যখন নিজের পানির ন্যায্য হিস্যা চাইছে, পশ্চিমবঙ্গও যখন পানির প্রয়োজনের কথা বলে, তখন বাংলাদেশও তার নিম্ন অববাহিকার স্বার্থ তুলে ধরতে পারে। তিন পক্ষের স্বার্থকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর বদলে কীভাবে একই নদীর পানি সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেই প্রশ্ন সামনে আনা যেতে পারে।
তবে এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু চুক্তি স্বাক্ষর করলেই পানি সমস্যা শেষ হবে না। চুক্তির প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা, যৌথ কমিশনের কার্যকর ভূমিকা, তথ্য বিনিময় এবং বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে নদীর প্রবাহ আরও অনিশ্চিত হতে পারে। তাই ৩০ বছর আগের বাস্তবতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পানি চুক্তি তৈরি করলে তা দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখানে বড় বিষয়। হিমালয়ের তুষার ও বরফের পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং হঠাৎ অতিবৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার নদীগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে পানি নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত যদি এখনই সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করতে পারে, তাহলে দুই দেশই লাভবান হবে।
বিহারের সাম্প্রতিক দাবি তাই বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন উদ্বেগ, অন্যদিকে নতুন সুযোগ। উদ্বেগ হলো—ভারতের অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদা বাড়লে বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তির আলোচনাও জটিল হতে পারে। আর সুযোগ হলো—ভারতের রাজ্যগুলো যখন নিজেরাও পানি ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি তুলছে, তখন সমগ্র নদী অববাহিকাকে নিয়ে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়তো শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পাওয়ার মধ্যে নেই। সমাধান হতে পারে এমন একটি ব্যবস্থায়, যেখানে উজান ও ভাটির দেশ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো নদীকে ভাগ করার বদলে নদীকে যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা করবে। গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিহারের উদ্বেগ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান, নেপালের সম্ভাব্য জলাধার প্রকল্প এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পানির দাবি—সবকিছুকে একই আলোচনার কাঠামোয় আনা গেলে নতুন ধরনের আঞ্চলিক পানি সহযোগিতার পথ খুলতে পারে।
তবে সেই আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থকে স্পষ্ট, তথ্যভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। শুধু শুষ্ক মৌসুমে পানি চাওয়ার পাশাপাশি নদীর পরিবেশ, কৃষি, নৌপথ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ পানির চাহিদার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে। কারণ ফারাক্কার পানি নিয়ে যে সমস্যা কয়েক দশক ধরে চলছে, তার সমাধানও এক দিনের কোনো সিদ্ধান্তে হবে না। কিন্তু এবারের চুক্তি নবায়নের আলোচনাকে যদি পুরোনো হিসাব মেলানোর বদলে নতুন পানি সহযোগিতার সূচনা হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত পানি সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কাটিয়ে একটি টেকসই সমাধানের পথে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ