মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই আরও জটিল করে তুলছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব যুদ্ধজাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করাসহ বিভিন্ন সামরিক মিশনে নিয়োজিত রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ অচল করে দেয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস রস বা ডিডিজি-৭১-এর নাবিকেরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এই যুদ্ধজাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি।
একটি সরু জলপথ কীভাবে এত বড় আন্তর্জাতিক সংকটের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিকালে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
এই কারণেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান টানাপড়েনকে নিছক সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেলের সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়তে পারে, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাজারে নতুন ধরনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—হরমুজ প্রণালি কবে এবং কী শর্তে আবার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে? ইরান জানিয়েছে, নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তেহরানের অবস্থান হলো, প্রণালিটি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ওই শর্তগুলো পূরণ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে নতুন জাহাজ চলাচলের পথগুলো কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ তেহরানের কাছে হরমুজ শুধু একটি নৌপথ নয়; এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দরকষাকষিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে—এমন দাবি করছে না ইরান। আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরানের অনীহা রয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটন বিষয়টি ‘লো-কিইং’ করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনো সীমিত বা ‘সেমি-নেগোশিয়েশন’ পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্প ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও আলোচনায় আনেন।
এখানেই বর্তমান সংকটের জটিলতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফলে সামরিক উপস্থিতি যত বাড়ছে, কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টিও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার শর্তগুলোর একটি। তেহরানের এই দাবি দেখিয়ে দেয়, হরমুজের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জাহাজ চলাচল বা নৌ অবরোধের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামরিক ক্ষয়ক্ষতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর প্রশ্নও।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মাদ বাঘের জোলঘাদরও তেহরানের কয়েকটি শর্তের কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের নতুন হুমকি বন্ধ করা, ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে দেয়া।
এই শর্তগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধটি মূলত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের অংশ। ইরান শুধু নিজেদের ভূখণ্ড বা জলসীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষি করছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—সবকিছুকেই আলোচনার পরিধিতে আনতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আবার হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ভিন্ন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত বিষয়। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নৌ অবরোধকে কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি একদিকে সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন, অন্যদিকে ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করছে।
তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও কম নয়। বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, জাহাজে তল্লাশি কিংবা কোনো জাহাজ অচল করে দেয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ভুল হিসাব, ভুল বোঝাবুঝি বা কোনো সামরিক ঘটনার আকস্মিক বিস্তার বড় ধরনের সংঘাতের পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন একই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি সক্রিয় থাকে, তখন ছোট একটি ঘটনাও বড় সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্বেগের পেছনেও রয়েছে এই অনিশ্চয়তা। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা দেশগুলোর কাছেও হরমুজ পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে একই সঙ্গে একটি কূটনৈতিক পথও খোলা রয়েছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ না করার বক্তব্য দেখাচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনীতির জায়গাটিও এখনো রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন হলো, সেই সমঝোতা কতটা বিস্তৃত হবে। শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়েই যদি আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে হয়তো স্বল্পমেয়াদি একটি সমাধান পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ইরানের শর্তগুলো বিবেচনায় নিলে বোঝা যায়, তেহরান আরও বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ছাড় চায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, সামরিক হুমকি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধের মতো বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নিশ্চয়ই শুধু হরমুজ খুলে দেয়ার বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সমঝোতায় যেতে চাইবে না, যদি তাতে নিজের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দুই পক্ষের আলোচনায় সবচেয়ে কঠিন বিষয় হতে পারে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি। একটি পক্ষ যদি মনে করে অন্য পক্ষ সাময়িক সমঝোতাকে ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে আবার অবস্থান বদলাবে, তাহলে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওমানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান অতীতেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভূমিকা রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত থাকলেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়; এটি পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের একটি প্রতীকী ও কৌশলগত কেন্দ্রে। একদিকে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি, অন্যদিকে ইরানের কঠোর শর্ত—দুই পক্ষের অবস্থানই সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে। ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন এবং কয়েকটি জাহাজে অভিযান চালানোর খবর পরিস্থিতিকে আরও বাস্তব ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তবু সামরিক শক্তির পাশাপাশি আলোচনার দরজাও খোলা থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। বিপরীতে অবরোধ ও সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
শেষ পর্যন্ত হরমুজের সংকটের সমাধান নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক ছাড় এবং মধ্যস্থতাকারীদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। সামরিক উপস্থিতি দিয়ে একটি জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা। কারণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় নয়—এটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই কারণে হরমুজে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ যেমন বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে, তেমনি প্রতিটি কূটনৈতিক বার্তাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত জানানঃ