
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সাধারণত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। দেশের মানুষের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর ভূমিকা শুধু প্রতিরক্ষা ব্যারাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজনীতি, প্রশাসন, অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রশ্নটি তাই সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়। মূল প্রশ্ন হলো, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের সীমা কোথায় হওয়া উচিত এবং সেই প্রভাবের ওপর কার্যকর বেসামরিক ও সংসদীয় তদারকি আছে কি না।
রাজনীতিতে প্রবেশের ঐতিহাসিক পথ
স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে। এরপর জিয়াউর রহমান এবং পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে ছিলেন সামরিক কর্মকর্তারা। ১৯৯০ সালে গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও সেনাবাহিনী পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে চলে যায়নি।
১৯৯১ সালের পর নির্বাচিত সরকারগুলো ক্ষমতায় থাকলেও বড় রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন, সহিংসতা কিংবা সরকার পরিবর্তনের মুহূর্তে সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ব্যাপকভাবে সামরিক-সমর্থিত সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে সময় সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ না করলেও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগে তাদের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ও সেনাবাহিনীর অবস্থান ছিল নির্ধারক। সরাসরি ক্ষমতা দখল না করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি পথ উন্মুক্ত রাখার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশংসিত হয়। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে—একটি নির্বাচিত বা কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ও পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরে সেনাবাহিনীর অবস্থান যদি চূড়ান্ত নিয়ামক হয়ে ওঠে, তাহলে বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে কতটা শক্তিশালী?
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে Financial Times বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সেনাবাহিনীর রাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থেকে দূরে থাকার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি একটি বিশ্লেষণাত্মক মত, চূড়ান্ত সত্য নয়; তবে বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোকে প্রশ্নটি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। Financial Times
ব্যবসায় কতটা বিস্তার?
বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সবচেয়ে পরিচিত প্রতিষ্ঠান সেনা কল্যাণ সংস্থা। অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের কল্যাণে আয় সৃষ্টি করা এর ঘোষিত উদ্দেশ্য। পৃথিবীর অনেক দেশেই সামরিক সদস্যদের পেনশন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য এমন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই অর্থে এর অস্তিত্ব নিজেই অস্বাভাবিক নয়।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কার্যক্রমের পরিধি অনেক বড়। সেনা কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের ব্যবসা সিমেন্ট, তৈরি কংক্রিট, এলপিজি, খাদ্য ও পানীয়, ভোজ্যতেল, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক পণ্য, বস্ত্র, পোশাক, পর্যটন, নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, বিদেশে কর্মসংস্থান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন ও রিয়েল এস্টেট প্রকল্প। সেনা কল্যাণ সংস্থা
এর বাইরে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টসহ সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে আবাসন, হোটেল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান সরাসরি সামরিক ইউনিট নয়; পৃথক ট্রাস্ট বা কোম্পানি কাঠামোয় পরিচালিত। ফলে সব ব্যবসাকে সরাসরি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মালিকানাধীন বলা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্ভুল হবে না। কিন্তু পরিচালনা, সুবিধাভোগী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের কারণে এগুলোকে সামরিক অর্থনৈতিক পরিসরের অংশ হিসেবেই গবেষকেরা বিবেচনা করেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ব্যবসা করা বৈধ কি না—শুধু সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, সামরিক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কি বেসরকারি প্রতিযোগীদের মতো একই কর, ঋণ, জমি, দরপত্র, নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় থাকে? সরকারি প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ সুবিধা পায় কি না? তাদের মুনাফা কোথায় যায়, কল্যাণ খাতে কতটা ব্যয় হয় এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব জনগণ বা সংসদ দেখতে পারে কি না?
এসব প্রশ্নের সহজলভ্য ও সমন্বিত উত্তর না থাকাই মূল সমস্যা।
উন্নয়নকাজে সেনাবাহিনী: দক্ষতা এবং দ্বন্দ্ব
বাংলাদেশে সড়ক, সেতু, আবাসন, নদীশাসন, শরণার্থী শিবির ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকার সাধারণত যুক্তি দেয়—সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে। দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।
কিন্তু নিয়মিত বেসামরিক উন্নয়নকাজে সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্রথমত, এতে সরকারি প্রকৌশল ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিবর্তে তাদের ব্যর্থতা স্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়ত, সামরিক প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ এবং ঠিকাদারি কাজে অংশগ্রহণকারী হলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তৃতীয়ত, সাধারণ সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে যেভাবে তথ্য অধিকার আইন, সংসদীয় প্রশ্ন, গণমাধ্যম বা আদালতের মাধ্যমে জবাবদিহি চাওয়া যায়, নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা অনেক কঠিন।
ফলে দক্ষতার বিনিময়ে রাষ্ট্র অজান্তেই এমন একটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, যেখানে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা সীমিত।
প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সংসদীয় তদারকি
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৪২৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি, যদিও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় প্রকৃত বৃদ্ধি সীমিত। বরাদ্দের বড় অংশই পরিচালন ব্যয়। Janes
প্রতিরক্ষা বাজেট থাকা এবং সামরিক আধুনিকায়ন প্রয়োজন—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, সীমান্ত, সাইবার হুমকি ও আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার বাস্তবতা রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি ব্যয়কে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়কত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং সেই ক্ষমতা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে না। অর্থাৎ সংবিধানের মূল দর্শন সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক ও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। বাংলাদেশের সংবিধান
কিন্তু বাস্তবে প্রতিরক্ষা ক্রয়, সামরিক চুক্তি, জমি ব্যবহার এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা নিয়ে সংসদে গভীর আলোচনা খুবই সীমিত। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কিছু তথ্য গোপন রাখা যৌক্তিক; কিন্তু নিরাপত্তার গোপনীয়তা এবং আর্থিক অস্বচ্ছতা এক বিষয় নয়। অস্ত্রের কারিগরি সক্ষমতা প্রকাশ না করেও মূল্য, ক্রয়পদ্ধতি, স্বার্থের সংঘাত এবং নিরীক্ষার কাঠামো পরীক্ষা করা সম্ভব।
সামরিক কল্যাণের যুক্তি বনাম প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ
সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো, এর মুনাফা কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় হয়। রাষ্ট্র যদি পর্যাপ্ত পেনশন, চিকিৎসা, আবাসন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে না পারে, তবে কল্যাণ ট্রাস্ট সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে। ব্যবসা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা সামরিক সদস্যদের অবসরের পর কর্মসংস্থানেও সহায়তা করে।
তবে এই ব্যবস্থার একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বড় অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য তৈরি হলে সেটি শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নয়, নিজের করপোরেট স্বার্থ রক্ষারও অংশীজন হয়ে ওঠে। জমি, লাইসেন্স, সরকারি চুক্তি, করনীতি ও ব্যবসায়িক সুবিধার বিষয়ে তখন প্রতিষ্ঠানটির আলাদা স্বার্থ তৈরি হয়। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের নীতিনির্ধারণে প্রত্যক্ষ নির্দেশনা না থাকলেও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ জন্মায়।
সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্বের জন্যও এটি জটিল। একজন সেনাসদস্যের প্রধান দায়িত্ব যুদ্ধের প্রস্তুতি, প্রতিরক্ষা ও সাংবিধানিক কর্তব্য পালন। নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিচালনা, ঠিকাদারি এবং প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা তার পেশাগত অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে।
সমাধান সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা নয়
বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী, আধুনিক ও পেশাদার সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে প্রয়োজন শক্তিশালী সংসদ, দক্ষ জনপ্রশাসন, স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা। একটি শক্তিশালী বেসামরিক কাঠামো সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে না; বরং তাকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ থেকে রক্ষা করে তার পেশাগত মর্যাদা বাড়ায়।
সামরিক-সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসার মালিকানা, পরিচালনা, আয়, ব্যয় ও সুবিধাভোগীর তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। স্বীকৃত স্বাধীন নিরীক্ষক ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের মাধ্যমে হিসাব পরীক্ষা, সংসদীয় কমিটির গোপনীয় কিন্তু কার্যকর পর্যালোচনা এবং সরকারি দরপত্রে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মরত সামরিক কর্মকর্তা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করাও জরুরি। বেসামরিক উন্নয়ন প্রকল্পে সেনাবাহিনীর ব্যবহার হওয়া উচিত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, নিয়মিত বিকল্প হিসেবে নয়।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা বিস্তৃত—এর সরল উত্তর হলো, এটি প্রতিরক্ষার সীমানা ছাড়িয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রশাসনের বহু স্তরে পৌঁছেছে। কিন্তু বিস্তৃত প্রভাব মানেই সর্বত্র অবৈধতা বা ষড়যন্ত্র নয়। এর একটি অংশ ইতিহাসের উত্তরাধিকার, একটি অংশ রাষ্ট্রের দুর্বল বেসামরিক সক্ষমতার ফল এবং আরেকটি অংশ সামরিক সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই প্রভাবের সঠিক মানচিত্র জনগণের সামনে থাকে না এবং প্রশ্ন তোলাকে নিরাপত্তাবিরোধী হিসেবে দেখা হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর সম্মান রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ তাকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা নয়; বরং স্বচ্ছ নিয়ম, বেসামরিক কর্তৃত্ব এবং কার্যকর জবাবদিহির মধ্যে রাখা। কারণ যে প্রতিষ্ঠান যত শক্তিশালী, তার জবাবদিহিও তত শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত জানানঃ