‘পবিত্রকরণ’—শব্দটি শুনলে সাধারণত ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো আচার-অনুষ্ঠানের কথা মনে হয়। কিন্তু সেই শব্দের আড়ালেই যদি একজন মানুষকে অপমান, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়, তখন সেটি আর কোনো আচার থাকে না; হয়ে ওঠে নির্মম অপরাধ। ভারতের গুজরাটে এক নারীকে তথাকথিত ‘পবিত্রকরণ রিচুয়াল’-এর নামে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ এমনই এক ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। ঘটনাটি শুধু একজন নারীর ওপর সংঘটিত সহিংসতার গল্প নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, কুসংস্কার, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং অপরাধকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়াবহ প্রবণতা।
ঘটনাটি গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের বাইরে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বসবাস শুরু করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ। একপর্যায়ে ওই নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ বা ‘পবিত্রকরণ’ আচার করার কথা বলা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ নির্যাতনে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর তাঁর ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকেও জোর করে সেই নির্যাতনের অংশ হতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কেউ কীভাবে তাঁর ওপর এমন নির্যাতন চালানোর অধিকার পেতে পারে? কোনো নারী তাঁর বৈবাহিক জীবন নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে, কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলে বা প্রচলিত সামাজিক রীতির বাইরে জীবনযাপন করলে সেটি নিয়ে সামাজিক বা পারিবারিক বিরোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই সেই বিরোধ একজন মানুষকে নির্যাতন করার বৈধতা দেয় না।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার জন্য আইন রয়েছে, আদালত রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা স্থানীয় কোনো গোষ্ঠী নিজেরাই বিচারক, পুলিশ ও শাস্তিদাতা হয়ে উঠতে পারে না। নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ আজ একজন নারীকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার নামে যে সহিংসতা ঘটছে, আগামীকাল একই যুক্তিতে অন্য কাউকে টার্গেট করা হতে পারে।
গুজরাটের এই ঘটনা তাই শুধু যৌন সহিংসতার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে নারীর ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ভয়ংকর মানসিকতা। একজন নারী কী পরবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাকে ভালোবাসবেন, কার সঙ্গে সংসার করবেন কিংবা কোথায় থাকবেন—এসব সিদ্ধান্তে সমাজের বিভিন্ন স্তর এখনো নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নারী নিজের জীবনের ওপর সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় সেটিকে পরিবারের ‘সম্মান’, সামাজিক রীতি কিংবা নৈতিকতার সঙ্গে সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হয়।
এই ‘সম্মান’-এর ধারণাই অনেক ক্ষেত্রে নারীর ওপর সহিংসতার পথ তৈরি করে। পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে নারীকে ঘরে আটকে রাখা, সম্পর্কের জন্য মারধর করা, জোর করে বিয়ে দেওয়া, সামাজিকভাবে অপমান করা কিংবা শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সমাজে এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। গুজরাটের ঘটনাটি সেই পুরোনো মানসিকতারই আরও ভয়াবহ রূপ সামনে এনেছে।
এখানে ‘পবিত্রতা’ শব্দটির ব্যবহারও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একজন নারীকে পবিত্র বা অপবিত্র হিসেবে বিচার করার অধিকার কে দিয়েছে? একজন মানুষের শরীর, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবনকে সামাজিকভাবে ‘শুদ্ধ’ করার নামে অন্য মানুষ কীভাবে তার ওপর সহিংসতা চালাতে পারে? বাস্তবে ‘পবিত্রকরণ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে যদি কাউকে নির্যাতন করা হয়, তাহলে সেটি কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার নয়; সেটি অপরাধকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অপরাধের এই নতুন মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। একসময় কোনো নির্যাতনের ঘটনা একটি নির্দিষ্ট জায়গা ও কয়েকজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। এখন একটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই ঘটনাকে মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
কোনো যৌন সহিংসতার ভিডিও ধারণ করা এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ভুক্তভোগীর ওপর দ্বিতীয় দফা নির্যাতনের মতো। কারণ শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি তখন তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও মানসিক ক্ষত। ভিডিওটি একবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সেটি পুরোপুরি মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। ফলে ভুক্তভোগীকে বছরের পর বছর সেই ঘটনার স্মৃতি ও সামাজিক অপমানের বোঝা বহন করতে হতে পারে।
এখানে সাধারণ মানুষের দায়িত্বও কম নয়। কোনো নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলে সেটি ডাউনলোড করা, অন্যকে পাঠানো কিংবা আবার পোস্ট করা উচিত নয়। অনেক মানুষ কৌতূহলবশত এমন ভিডিও শেয়ার করেন। কিন্তু তাঁরা হয়তো বুঝতে পারেন না, সেই শেয়ারই একজন নির্যাতিত মানুষের কষ্টকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অপরাধীদের তৈরি করা অপমানের দৃশ্যকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও এ ধরনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যৌন সহিংসতার ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষিত রাখা—এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদেরও ডিজিটাল নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। প্রশ্ন উঠতে হবে, এমন একটি ঘটনা ঘটার আগেই কেন কেউ বাধা দিল না? একজন নারীকে আটকে রাখা বা তাঁর ওপর নির্যাতন চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে আশপাশের মানুষ কোথায় ছিলেন? সামাজিক চাপের ভয়ে মানুষ কেন অনেক সময় অন্যায় দেখেও নীরব থাকে?
সমাজে অন্যায়কে স্বাভাবিক করে তোলার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো নীরবতা। যখন কোনো নারীকে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জন্য অপমান করা হয় এবং আশপাশের মানুষ সেটিকে ‘পারিবারিক ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যায়, তখন নির্যাতনের পথ আরও প্রশস্ত হয়। যখন কেউ একজন নারীকে মারধর করে এবং অন্যরা সেটিকে ‘শিক্ষা দেওয়া’ হিসেবে দেখে, তখন সহিংসতা সামাজিক অনুমোদনের একটি ছায়া পেয়ে যায়।
আইন তখনই কার্যকর হয়, যখন মানুষ আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বদলে আইনের ওপর আস্থা রাখে। গুজরাটের ঘটনাতেও যদি কারও বিরুদ্ধে বৈবাহিক বা অন্য কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তার সমাধানের পথ ছিল আইনগত প্রক্রিয়া। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে একজন নারীকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা, তাকে অপমান করা এবং যৌন সহিংসতার শিকার করা কোনোভাবেই বিচার হতে পারে না।
নারীর সম্মতি ছাড়া যেকোনো যৌন আচরণই গুরুতর অপরাধ। বৈবাহিক সম্পর্ক, প্রেমের সম্পর্ক কিংবা সামাজিক অবস্থান—কোনোটিই কাউকে অন্যের শরীরের ওপর অধিকার দেয় না। একইভাবে কোনো নারী কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন কি না, তা তাঁর ওপর যৌন সহিংসতা চালানোর অনুমতি তৈরি করে না।
এই ঘটনাটি তাই আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রাখে—একজন নারীর নিজের জীবনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি সমাজ সত্যিই মেনে নিতে প্রস্তুত? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সেই অধিকার শুধু পছন্দের ক্ষেত্রে নয়, ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও স্বীকার করতে হবে। কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু সমাজের পছন্দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি নয়; স্বাধীনতা মানে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকার।
অবশ্যই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব থাকতে পারে। কিন্তু কোনো মতবিরোধের সমাধান সহিংসতা হতে পারে না। কাউকে বোঝানো যায়, আলোচনা করা যায়, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়। কিন্তু নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা অপমান কোনো সমস্যার সমাধান নয়।
গুজরাটের এই ঘটনা আমাদের আরও একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়—কুসংস্কার যখন ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কোনো অযৌক্তিক বিশ্বাস যদি মানুষকে অন্য একজন মানুষের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের অধিকারী মনে করায়, তাহলে সেই বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা জরুরি। ধর্ম, সংস্কৃতি কিংবা সামাজিক রীতির নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় না।
একজন মানুষের মর্যাদা তাঁর সম্পর্কের অবস্থান, সামাজিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। একজন নারী ভুল করতে পারেন, সম্পর্কের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন, নিজের জীবনের পথ বেছে নিতে পারেন—কিন্তু কোনো ভুলের শাস্তি ধর্ষণ হতে পারে না। কোনো সামাজিক রীতির নামে একজন মানুষকে অপমান করা যায় না। আর কোনো তথাকথিত ‘পবিত্রকরণ’ একজন মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বৈধ কারণ হতে পারে না।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিচার শুধু অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন নির্যাতিত মানুষকে আবার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন ফিরিয়ে দেওয়াও ন্যায়বিচারের অংশ।
গুজরাটের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত একটি আয়নার মতো। সেখানে শুধু কয়েকজন অভিযুক্তের মুখ দেখা যায় না; দেখা যায় সমাজের সেই অন্ধকার দিক, যেখানে নারীর স্বাধীনতাকে এখনো অনেকেই নিজের নিয়ন্ত্রণের বিষয় মনে করেন। দেখা যায় কুসংস্কারের নামে সহিংসতার সুযোগ তৈরি হওয়ার বাস্তবতা। দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে অপরাধের সাক্ষী হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো অপরাধের বিস্তারের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
একজন নারীকে ‘পবিত্র’ করার নামে যদি তাকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপমান করা হয়, তাহলে প্রশ্নটি ওই নারীর চরিত্র নিয়ে নয়; প্রশ্নটি সেই সমাজের চরিত্র নিয়ে, যে সমাজ এমন সহিংসতার সুযোগ তৈরি করে। পবিত্রতার নামে বর্বরতা কখনো পবিত্র হতে পারে না। ন্যায়বিচারের নামে প্রতিশোধ কখনো ন্যায়বিচার হতে পারে না। আর সামাজিক সম্মানের নামে একজন মানুষের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্মান রক্ষা নয়।
সত্যিকারের সভ্যতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন একজন নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সমাজের পছন্দের সঙ্গে না মিললেও তাঁর নিরাপত্তা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে। আইন তখনই শক্তিশালী হবে, যখন অপরাধের বিচার আদালতে হবে, রাস্তায় নয়। আর সমাজ তখনই মানবিক হবে, যখন কোনো নির্যাতনের ভিডিও দেখে মানুষ শেয়ার করার আগে ভাববে—এটি কোনো বিনোদন নয়, এটি একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত।
গুজরাটের এই ঘটনা তাই শুধু একটি অপরাধের খবর নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুসংস্কার ও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার সঙ্গে যখন সহিংসতা যুক্ত হয়, তখন ‘পবিত্রকরণ’-এর মতো একটি শব্দও ভয়াবহ অপরাধের আবরণ হয়ে উঠতে পারে। সেই আবরণ সরিয়ে অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে। কারণ কোনো আচার, কোনো সামাজিক রীতি, কোনো পারিবারিক ক্ষোভ এবং কোনো তথাকথিত সম্মান—কোনোটিই একজন মানুষের ওপর সহিংসতার লাইসেন্স হতে পারে না।
আপনার মতামত জানানঃ