বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। পুলিশের জবাবদিহি, পেশাদারত্ব, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তবে অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে পুলিশের অস্ত্রভান্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। লাখ লাখ রাউন্ড গুলি, বিপুলসংখ্যক কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট, গ্রেনেড এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার লাঠি কেনার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
নেট্রা নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ক্রয়াদেশ, দরপত্র ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের একটি বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে পুলিশের জন্য খাদ্যসামগ্রী, হেলমেটসহ বিভিন্ন পণ্য কেনার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ মোট ৪ হাজার ৪৪০টি ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এসব ক্রয়াদেশের সবই অবশ্য অস্ত্রসংক্রান্ত নয়।
অনুসন্ধানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তুরস্ক থেকে পুলিশের জন্য একটি এমপি৫কে সাবমেশিনগান আমদানি। ২০২৬ সালের ২ মে বাংলাদেশে আসা চালানটিতে ছিল একটি এমপি৫কে সাবমেশিনগান ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম। আমদানি নথিতে এর ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮ মার্কিন ডলার।
এমপি৫কে হলো বহুল পরিচিত এমপি৫ অস্ত্রের ছোট সংস্করণ। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজে বহন করা যায় এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইউনিটের কাজে ব্যবহারের উপযোগী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নেইল কর্নি মনে করেন, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণ পুলিশি কার্যক্রমের জন্য নয়; বরং বিশেষায়িত ইউনিটের ব্যবহারের উপযোগী।
তবে একটি অস্ত্র আমদানির তথ্য থেকেই পুলিশের বড় পরিসরে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এটি প্রশিক্ষণ, পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন কিংবা নমুনা হিসেবে আমদানি করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে এমপি৫ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ইতিহাস থাকায় নতুন করে এ ধরনের অস্ত্র আমদানির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নেইল কর্নির মতে, বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে এমপি৫কে অস্ত্রের কোনো বৈধ ব্যবহারিক স্থান নেই। তাঁর এই বক্তব্য পুলিশের অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যতে অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
অস্ত্র সংগ্রহের আরেকটি বড় দিক হলো বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ কেনার উদ্যোগ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এবং ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ পুলিশ ৯ মিলিমিটার আকারের মোট ৬০ লাখ রাউন্ড গুলি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। তবে দরপত্রে উল্লেখিত পরিমাণকে চূড়ান্তভাবে সরবরাহ করা গোলাবারুদের পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এটি মূলত পুলিশের কেনার আগ্রহ ও পরিকল্পনার পরিমাণ নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, আমদানি তথ্যেও গোলাবারুদ সংগ্রহের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিলে তুরস্ক থেকে ৯ মিলিমিটার কার্তুজের একাধিক চালান বাংলাদেশে এসেছে। এপ্রিলের একটি চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার। পাশাপাশি ৭.৬২×৫১ মিলিমিটার আকারের ১ লাখ ৫০ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ আমদানির তথ্যও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ মিলিমিটার ও ৭.৬২×৫১ মিলিমিটার—দুই ধরনের গোলাবারুদই পুলিশের ব্যবহৃত প্রচলিত অস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নেইল কর্নি ধারণা দিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিপুল পরিমাণ গুলি ব্যবহারের পর অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূরণ করার প্রয়োজন থেকেই এ ধরনের কেনাকাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, নিশ্চিত সরকারি বক্তব্য নয়।
গোলাবারুদের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার লাঠি কেনার উদ্যোগও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে। ২ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ১২ এপ্রিল ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বৈদ্যুতিক শক লাঠি এমন একটি সরঞ্জাম, যা সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক শক দেয়। এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেইল কর্নি। তাঁর মতে, এ ধরনের সরঞ্জাম মূলত মানুষের ওপর যন্ত্রণা প্রয়োগের জন্য তৈরি, তাই পুলিশের প্রচলিত কার্যক্রমে এর কোনো বৈধ ব্যবহার নেই।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব গঠনের পর এ ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল। তবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রচলিত অনুমোদিত অস্ত্রের তালিকায় বৈদ্যুতিক শক লাঠি অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
এ বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল নেট্রা নিউজ। পুলিশের আইন শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান এবং প্রশিক্ষণ শাখার উপমহাপরিদর্শক একরামুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বৈদ্যুতিক শক লাঠি সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, ব্যবহারবিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অস্ত্রভান্ডারে নতুন সংযোজনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথাকথিত কম প্রাণঘাতী অস্ত্রও রয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ ২ লাখ ২০ হাজার ৩৮ মিলিমিটার কাঁদানে গ্যাসের শেল, ২ লাখ দূরপাল্লার কাঁদানে গ্যাসের শেল, ৬৫ হাজার ৩৮ মিলিমিটার সফট কাইনেটিক প্রজেক্টাইল, ৩০ হাজার মাল্টি-ইমপ্যাক্ট কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড এবং ২৫ হাজার র্যান্ডম মুভমেন্ট কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ধরনের অস্ত্রকে সাধারণত কম প্রাণঘাতী বলা হয়। কিন্তু কম প্রাণঘাতী মানেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভুলভাবে ব্যবহার, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ কিংবা সরাসরি মানুষের শরীরের সংবেদনশীল অংশে আঘাত লাগলে এসব অস্ত্র গুরুতর আহত করা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এসব অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রংপুরে ১৬ জুলাই আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়। ক্যামেরায় ধারণ করা তাঁর মৃত্যুর দৃশ্য দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কম প্রাণঘাতী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, অস্ত্রের শ্রেণিবিভাগ দিয়ে এর প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না।
বিশেষজ্ঞ নেইল কর্নি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক রাবার বা প্লাস্টিকের প্রজেক্টাইল ছুড়তে সক্ষম গোলাবারুদ নিয়ে। এ ধরনের গোলাবারুদ থেকে একসঙ্গে একাধিক প্রজেক্টাইল বের হয়, যেগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করা কঠিন। ফলে বিক্ষোভকারীদের শরীরে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এমনকি এসব প্রজেক্টাইলের আঘাতে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের একাধিক প্রজেক্টাইল ছোড়ার গোলাবারুদ ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্যেও অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ দেখা যায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক গবেষক ও প্রচারক রিহাব মাহামুর মনে করেন, কোনো অস্ত্র প্রাণঘাতী না কম প্রাণঘাতী—সেটিই মূল প্রশ্ন নয়। বরং অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, আইনসম্মততা এবং আনুপাতিকতার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, কোনো পরিস্থিতিতে কম ক্ষতিকর উপায়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হলে কর্তৃপক্ষের সেই পদ্ধতিই বেছে নেওয়া উচিত। শান্তিপূর্ণভাবে মানবাধিকার চর্চা করা মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাসমিমা রহমানও পুলিশের অস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, পুলিশ সদস্যরা কী ধরনের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মোকাবিলায় তাঁদের কী নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং বলপ্রয়োগের আইনগত সীমা সম্পর্কে তাঁরা কতটা সচেতন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।
সাবেক পুলিশপ্রধান বাহারুল আলমও মনে করেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে সব ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বেআইনি বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেয়, তাহলে প্রশিক্ষিত সদস্যদের পক্ষেও তা প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে। তবে আইনবিরুদ্ধ আদেশ পালন না করার দায়িত্বও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রয়েছে।
এই বিষয়টি পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুলিশের কাছে অস্ত্র থাকা যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতার অংশ, তেমনি সেই অস্ত্র ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ, স্বাধীন তদারকি এবং অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অস্ত্র সংগ্রহের নতুন তথ্য সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব নীতির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত একা কোনো বাহিনীর সংস্কার বা সংস্কারহীনতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তবে অস্ত্রের ধরন, ব্যবহারের উদ্দেশ্য, প্রশিক্ষণ এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশকে অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা দিতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, সেই ক্ষমতা যেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ কিংবা সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে অপব্যবহৃত না হয়।
অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করাই নিরাপত্তার একমাত্র মানদণ্ড নয়। কার্যকর প্রশিক্ষণ, সুস্পষ্ট আইন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত দায়িত্ব পালন এবং স্বাধীন জবাবদিহির ব্যবস্থাই পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশার সঙ্গে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালাও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। কারণ, রাষ্ট্রের শক্তি শুধু অস্ত্রের পরিমাণে নয়, নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার মধ্যেও প্রকাশ পায়।
আপনার মতামত জানানঃ