বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট যে মাত্রায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে, তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্রাম থেকে শহর—অনেক এলাকাতেই ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, কোথাও আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি স্তরে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান সংকট মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা। অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতিকেও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে বিএনপি সরকার।
কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, অতীতের দায় থাকলেও বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাস পার হয়ে গেছে। সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো সেই পরিকল্পনার কার্যকর প্রতিফলন যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করছে। এক পর্যায়ে সারাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গত ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং প্রায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলেও লোডশেডিং সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। ফলে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার—সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার দিক থেকে অবশ্য বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান এতটা দুর্বল নয়। আমদানি ও ক্যাপটিভ মিলিয়ে দেশে ৩৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এত বড় সক্ষমতা থাকার পরও কেন বিদ্যুৎ সংকট এত তীব্র হচ্ছে?
এর একটি বড় কারণ জ্বালানি। বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না; সেগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজন গ্যাস, কয়লা, তেল বা অন্য কোনো জ্বালানি। বাংলাদেশ গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
বর্তমান সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখছে। তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
তবে শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করলেই সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পিক আওয়ারে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তা কতটা কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, সংকটের সময়ে একটি সরকারের তাৎক্ষণিক বা ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’, মধ্যমেয়াদি কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তিনটিই থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার সুস্পষ্ট কর্মসূচি তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।
তার বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি হলো—যদি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সক্ষমতা থেকেই থাকে, তাহলে সেটিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত লোডশেডিং কমানো যায়, তার একটি কার্যকর পরিকল্পনা কোথায়?
জ্বালানি খাতের আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদও বর্তমান ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, শুধু ছয় মাসে দীর্ঘদিনের একটি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়—এটি বাস্তবতা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সংকটের ধরন বিশ্লেষণ করে বিকল্প পথের একটি পরিষ্কার রূপরেখা তৈরি করবে, সেটিই প্রত্যাশিত ছিল।
এখানেই বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কারণ আগের সরকারের নীতির সমালোচনা করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও ক্ষমতায় থাকার পর সেই সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান করা অনেক বেশি কঠিন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সালের পর বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। দরপত্রের বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এলএনজি, কয়লা, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়।
বর্তমান সরকার সেই নীতিরই দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির কথা বলছে। তাদের যুক্তি হলো, রাতারাতি এই কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমদানি করা জ্বালানির মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়েও তৎপরতা চলছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোলা থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিল্প খাতে গ্যাসের ওপর চাপ কিছুটা কমানো যায়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণাও এসেছে। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, ঘোষণার বাস্তবায়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ আমদানি করা তেল, গ্যাস ও কয়লার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কাছে দুর্বল করে দেয়। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের সম্প্রসারণ একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমাতে পারে, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়াতে পারে।
তবে এখানেও প্রশ্ন রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হলেও আজকের লোডশেডিং কমাতে এটি কত দ্রুত ভূমিকা রাখতে পারবে? নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদনে সময় লাগে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও সময় লাগে। তাই তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামোকে কীভাবে সর্বোচ্চ দক্ষতায় ব্যবহার করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেছেন যে ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তার মতে, বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ যুদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই সমস্যা বহু বছরের। আগের সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার—কেউই স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে প্রত্যাশিত মাত্রায় কাজ করেনি।
অর্থাৎ সরকারের বক্তব্যে একটি দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট। একদিকে তারা বর্তমান সংকটের জন্য অতীতের নীতিকে দায়ী করছে, অন্যদিকে স্বীকার করছে যে বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনাতেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
এই বাস্তবতাই বিএনপি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। জনগণ বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংকটের রাজনৈতিক ইতিহাস জানতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা জানতে চায়—কখন পরিস্থিতির উন্নতি হবে?
একজন গৃহস্থের কাছে বিদ্যুৎ না থাকা মানে শুধু অন্ধকার নয়। গরমের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ, পানি তোলার সমস্যা, পড়াশোনায় ব্যাঘাত, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষতি—সবকিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তার কাছে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া মানে উৎপাদন কমে যাওয়া, কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং বাড়তি ব্যয়। আর দেশের অর্থনীতির জন্য এর অর্থ হলো উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ও বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া।
তাই বর্তমান সংকটকে শুধু আওয়ামী লীগ আমলের নীতির ফল কিংবা শুধু আন্তর্জাতিক যুদ্ধের ফল হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। অতীতের ভুল নীতি যেমন সংকটের ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তেমনি বর্তমান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এখন প্রয়োজন দায় নির্ধারণের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না, কোথায় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, কোন কেন্দ্র দ্রুত মেরামত করা সম্ভব, পিক আওয়ারে কোথা থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আনা যায়, দেশীয় গ্যাস কোথায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনায় থাকা দরকার।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সক্ষমতা যেন অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপি সরকার এখন বলছে, সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে দুই বছর অনেক দীর্ঘ সময়। শিল্প উদ্যোক্তাদের কাছেও এটি অনিশ্চয়তার দীর্ঘ সময়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর একটি সংকট মোকাবিলা পরিকল্পনা জরুরি।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ‘দায় কার’—এখানে আটকে থাকলে চলবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির দায় কতটা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব কতটা এবং বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কতটা—এসব নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি সমাধানের পথও দেখানো।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পুরোনো নীতির ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো—দুটিই জরুরি। শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা আরও বেশি জ্বালানি আমদানি করলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দেশীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা।
কারণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। বিএনপি সরকার শেষ পর্যন্ত এই সংকটকে কীভাবে সামলায়, সেটিই নির্ধারণ করবে—তারা শুধু আগের সরকারের ব্যর্থতার হিসাব তুলে ধরবে, নাকি নিজেদের সময়ে একটি নতুন ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থার ভিত্তিও তৈরি করতে পারবে।
আপনার মতামত জানানঃ