
বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু তারিখ আছে, যেগুলো ক্যালেন্ডারে ফিরে আসে না; বরং প্রতিবার নতুন রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে হাজির হয়। ১৫ আগস্ট তেমনই একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়েছিল। একটি স্বাধীন দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাজনৈতিক নেতাকে নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি সরকারের পতন ঘটেনি; বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ, দায়মুক্তি এবং হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের এক ভয়ংকর নজির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
কিন্তু অর্ধশতাব্দী পর ১৫ আগস্ট আর কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শোকের দিন, রাজনৈতিক আনুগত্যের পরীক্ষা, রাষ্ট্রীয় বয়ানের অংশ এবং একই সঙ্গে ইতিহাসের মালিকানা নিয়ে চলমান সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে দিনটির ভাষা, মর্যাদা, অনুষ্ঠান এবং জনপরিসরে এর উপস্থিতিও বদলেছে।
তাই আজকের মৌলিক প্রশ্ন—১৫ আগস্টের ইতিহাস কার? আওয়ামী লীগের, শেখ মুজিবের পরিবারের, রাষ্ট্রের, নাকি বাংলাদেশের সব নাগরিকের?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই একটি নৈতিক সীমারেখা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তাঁর সরকারের ব্যর্থতা কিংবা ১৯৭৫ সালের একদলীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করা ইতিহাসচর্চার স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক ব্যর্থতাই সপরিবারে হত্যার ন্যায্যতা তৈরি করে না। সমালোচনা ও হত্যার অনুমোদন এক বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক বিচারে একজন শাসকের জবাবদিহি হতে পারে নির্বাচন, সংসদ, আদালত ও জনমতের কাছে; বন্দুকধারী সেনা কর্মকর্তাদের কাছে নয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা অস্বীকার করে দেশের জন্মের ইতিহাস পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা সম্ভব নয়। পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ছয় দফা, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি একটি জাতির আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক ভাষা দিয়েছিলেন। তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর তাঁর শাসনামলের ব্যর্থতাগুলোও ইতিহাসের অংশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং শেষ পর্যন্ত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত—এসব বিষয়কে বাদ দিয়ে শেখ মুজিবের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। বাংলাপিডিয়ার বিবরণেও দুর্ভিক্ষ, অস্থিতিশীলতা এবং একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রেক্ষাপটকে তাঁর শেষ সময়ের রাজনৈতিক সংকটের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। Banglapedia
কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন দুটি বিপরীত রাজনৈতিক প্রবণতা কাজ করেছে। এক পক্ষ শেখ মুজিবকে এমন এক প্রশ্নাতীত প্রতীকে পরিণত করেছে, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও প্রায় রাষ্ট্রবিরোধিতার সমতুল্য হয়ে উঠেছিল। অন্য পক্ষ তাঁর শাসনামলের ব্যর্থতাকে ব্যবহার করে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা মুছে দিতে কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহনশীলতা তৈরি করতে চেয়েছে।
দুটি প্রবণতাই ইতিহাসকে সংকুচিত করেছে।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। জাতীয় শোক দিবস, সরকারি কর্মসূচি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আলোচনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারের মধ্য দিয়ে দিনটি জাতীয় স্মৃতির কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই স্মরণ অনেক ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্ত নাগরিক শোকের পরিবর্তে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা ও রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের আয়োজনে রূপ নেয়।
একজন ঐতিহাসিক নেতাকে স্মরণ এবং ক্ষমতাসীন পরিবারের রাজনৈতিক বৈধতা নির্মাণ—এই দুটি বিষয় ধীরে ধীরে একাকার হয়ে যায়। শেখ মুজিবকে জাতির ইতিহাসের সম্পদ হিসেবে উপস্থাপনের পরিবর্তে কার্যত একটি দলের একচেটিয়া সম্পদে পরিণত করা হয়। তাঁর ছবি, ভাষণ ও নাম রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি স্তরে এমনভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে, যেখানে ইতিহাসের চেয়ে ক্ষমতার উপস্থিতিই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
এর পরিণতি হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের একটি অংশ শেখ মুজিবের স্মৃতি ও তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থাপনার ওপরও গিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবং বিশেষত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের ঘটনা দেখিয়েছে—ক্ষমতা যখন ইতিহাসকে নিজের সম্পত্তিতে পরিণত করে, ক্ষমতার পতনের সঙ্গে সেই ইতিহাসও প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু কোনো সরকারের অপরাধ বা কর্তৃত্ববাদ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের নৈতিক অনুমতি দেয় না। ধানমন্ডি ৩২ শুধু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক ছিল না। বাড়িটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বৈঠক এবং ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য বহন করত। সেই স্থাপনা ধ্বংস করা মানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত একটি প্রাথমিক ঐতিহাসিক উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
ইতিহাসের সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে। ইতিহাসের স্থাপনা ভেঙে দেওয়া সেই মতবিরোধের উত্তর নয়।
আজকের বাস্তবতা আরও জটিল। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত দমন-পীড়ন, প্রাণহানি এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রতি জনমনে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একদিকে বিগত সরকারের গুরুতর নিপীড়নের বিচার দাবি করেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্বিচার আটক ও প্রতিশোধমূলক আচরণের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে। Human Rights Watch
এই প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবকে স্মরণ করার বিষয়টিও রাজনৈতিক সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেছে। শোক প্রকাশকে কখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে, আবার দিনটিকে উপেক্ষা করাকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ পুরোনো আনুগত্যের পরীক্ষার জায়গায় নতুন আনুগত্যের পরীক্ষা বসছে।
এটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তন নয়। এটি শুধু ক্ষমতার ভাষার পরিবর্তন।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শেখ মুজিবকে স্মরণ করতে আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। একইভাবে তাঁকে সম্মান করতে গিয়ে তাঁর শাসনামলের ব্যর্থতা অস্বীকার করারও প্রয়োজন নেই। একজন নাগরিক একই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিতে পারেন, বাকশালের সমালোচনা করতে পারেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার চাইতে পারেন।
এই অবস্থানগুলো পরস্পরবিরোধী নয়। বরং পরিণত ইতিহাসবোধের পরিচয়।
সমস্যা হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের মানুষ হিসেবে দেখতে শেখেনি। এখানে নেতা হয় দেবত্বপ্রাপ্ত, নয়তো সম্পূর্ণভাবে বাতিল। এক সরকার ইতিহাসের একটি অংশকে রাষ্ট্রীয় সত্যে পরিণত করে, পরবর্তী সরকার সেই অংশকে সরিয়ে নিজের পছন্দের স্মৃতি সামনে আনে। পাঠ্যপুস্তক বদলায়, রাষ্ট্রীয় দিবস বদলায়, স্থাপনার নাম বদলায়, প্রতিকৃতি নামানো বা টাঙানোর মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক আনুগত্য ঘোষণা করা হয়।
ফলে জাতীয় ইতিহাস স্থায়ী কোনো নাগরিক সম্পদ হয়ে উঠতে পারে না; তা ক্ষমতাসীনদের সম্পাদনাযোগ্য নথিতে পরিণত হয়।
রাষ্ট্রীয় স্মৃতি নিরপেক্ষ নয়। কোন ঘটনা স্মরণ করা হবে, কোন স্থাপনা সংরক্ষিত থাকবে এবং পাঠ্যপুস্তকে কাকে কতটা জায়গা দেওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত নাগরিক পরিচয় তৈরি করে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব একটিমাত্র অনুমোদিত ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া নয়। তার দায়িত্ব হলো প্রমাণ, দলিল, সাক্ষ্য ও ভিন্ন ব্যাখ্যার জন্য একটি নিরাপদ পরিসর নিশ্চিত করা।
১৫ আগস্টের ক্ষেত্রেও সেই নীতিই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
রাষ্ট্র হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করবে, নিহতদের স্মরণে নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে এবং সংশ্লিষ্ট দলিল ও স্থাপনা সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে গবেষক, সাংবাদিক ও নাগরিকদের শেখ মুজিবের শাসনামল নিয়ে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দিতে হবে। শোককে বাধ্যতামূলক করা যাবে না; আবার শোক প্রকাশকে অপরাধ বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখা যাবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৫ আগস্টকে শুধু একজন নেতার মৃত্যুর দিন হিসেবে দেখলে এর বড় ঐতিহাসিক শিক্ষা হারিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর দায়মুক্তি অধ্যাদেশের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের বাইরে রাখা হয়েছিল। সেই দায়মুক্তি বহু বছর টিকে ছিল। অর্থাৎ বন্দুকের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবহার করে হত্যাকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার একটি সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে; কিন্তু হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী দায়মুক্তির রাজনৈতিক প্রভাব বহু দশক ধরে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রয়ে গেছে। Institute for Defence Studies and Analyses, Amnesty International
এই ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়—বিচারহীনতা কখনো একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আজ যে রাষ্ট্র রাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি হত্যার বিচার আটকে দেয়, আগামীকাল সেই রাষ্ট্র অন্য হত্যাকেও দায়মুক্তি দিতে পারে। বাংলাদেশের পরবর্তী ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক হত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার পুনরাবৃত্তির সঙ্গে এই সংস্কৃতির সম্পর্ক উপেক্ষা করা যায় না।
অর্ধশতাব্দী পর ১৫ আগস্টের সবচেয়ে জরুরি শিক্ষা তাই কোনো ব্যক্তিপূজা নয়। শিক্ষাটি হলো—রাজনৈতিক বিরোধের নিষ্পত্তি হত্যা দিয়ে হতে পারে না; ক্ষমতাসীনকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না; রাষ্ট্রীয় অপরাধকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না; এবং ইতিহাসকে ক্ষমতাসীন দলের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করা যায় না।
শেখ মুজিবকে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া মালিকানা থেকে মুক্ত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আওয়ামী লীগের অপরাধের প্রতিশোধ হিসেবে তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে নির্বাসিত করার চেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করতে হবে। ১৯৭১ সালের নেতা, স্বাধীনতার পরের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক সাফল্য ও গুরুতর ব্যর্থতায় গঠিত একজন ঐতিহাসিক মানুষ—তাঁকে সম্পূর্ণভাবেই ইতিহাসের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
১৫ আগস্টের শোক একটি পরিবারের, একটি দলের এবং সেই সঙ্গে একটি জাতির। তবে সেই শোকের ওপর কোনো দলের একক মালিকানা নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শোকের নির্দেশ দেওয়া নয়, শোক ও প্রশ্ন—উভয়ের স্বাধীনতা রক্ষা করা।
বাংলাদেশ যদি সত্যিই একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চায়, তবে তাকে এমন একটি ইতিহাসচর্চা গড়ে তুলতে হবে যেখানে শেখ মুজিবকে সম্মান করা যাবে, তাঁর সমালোচনা করা যাবে, তাঁর হত্যার নিন্দা করা যাবে এবং তাঁর উত্তরসূরিদের অপরাধের বিচারও চাওয়া যাবে—কোনোটির জন্যই অন্যটি বিসর্জন দিতে হবে না।
১৫ আগস্ট কার ইতিহাস—এই প্রশ্নের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক উত্তর তাই একটিই: এটি কোনো দল বা পরিবারের একার ইতিহাস নয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাস। আর বাংলাদেশের ইতিহাসের মালিক বাংলাদেশের মানুষ।
আপনার মতামত জানানঃ