
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ দিল্লি ও ঢাকার হাতে। কিন্তু দুই দেশের দীর্ঘতম স্থলসীমান্তের প্রায় অর্ধেকই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কলকাতায় সরকার বদল হলে তার প্রভাব কেবল পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও তার প্রতিফলন ঘটে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর সেই পরিবর্তন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার দায়িত্ব নিয়েই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর, অনথিভুক্ত বিদেশি শনাক্তকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এতদিন বিজেপি যে বিষয়গুলোকে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত, এখন সেগুলোই প্রশাসনিক নীতিতে রূপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তাই শুধু পশ্চিমবঙ্গে কোন দল ক্ষমতায় এসেছে—তা নয়। প্রশ্ন হলো, নতুন সরকার সীমান্তকে সহযোগিতা ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখছে, নাকি নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনৈতিক রেখা হিসেবে আরও কঠোর করে তুলছে।
বদলে যাওয়া সীমান্তনীতি
ভারত ও বাংলাদেশের মোট স্থলসীমান্ত চার হাজার কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার। এই সীমান্তের বড় অংশে বেড়া থাকলেও নদী, চর, জনবসতি, কৃষিজমি এবং ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে বহু স্থান এখনো বেড়াবিহীন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত কেন্দ্র ও বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া। জুলাই পর্যন্ত নয়টি জেলায় মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এই জমি ব্যবহার করে প্রায় ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এগিয়ে নেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদে ৩৩৭ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২৪১ একরের বেশি, মালদায় প্রায় ১৭৭ একর এবং কোচবিহারে ১৩৫ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জমির অভাব ছিল সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম প্রধান বাধা। Times of India
এটি শুধু প্রশাসনিক দ্রুততার উদাহরণ নয়; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে দিল্লির যে রাজনৈতিক সংঘাত ছিল, তারও অবসান নির্দেশ করে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ ছিল, ‘ভোটব্যাংক’ রক্ষার জন্য সীমান্তে বেড়া নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়নি। তৃণমূল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভূমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় মানুষের ক্ষতিপূরণ এবং সীমান্তের জটিল ভূপ্রকৃতির কথা বলত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মমতা সরকারের শেষ দিকেও ১০৫ একর জমি বিএসএফকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ সীমান্ত অবকাঠামোর কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না। নতুন সরকারের পার্থক্য হচ্ছে—তারা বিষয়টিকে অধিকতর দ্রুততা, রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভাষার সঙ্গে যুক্ত করেছে। Times of India
‘অনুপ্রবেশ’ থেকে ‘পুশ-ইন’
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দলটি অনথিভুক্ত অভিবাসনকে নিরাপত্তা, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে আসছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারেও ‘শনাক্ত করো, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দাও এবং ফেরত পাঠাও’ ধরনের কঠোর অবস্থান সামনে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বিরোধী দলে থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারে এসে তা কার্যকর করা এক নয়। অনথিভুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং অন্য দেশে ফেরত পাঠাতে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কোনো ব্যক্তিকে শুধু ভাষা, ধর্ম, চেহারা কিংবা সন্দেহের ভিত্তিতে বাংলাদেশি ঘোষণা করা যায় না।
এই জায়গাতেই বাংলাদেশের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ঢাকা অভিযোগ করেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কিছু মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালের মে ও জুনে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ায় এবং একাধিক কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানায়।
ভারত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে প্রমাণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে ফেরত পাঠানো যেতে পারে; জোর করে সীমান্ত পার করানো গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগ করেছে, এমন অভিযানে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ও দীর্ঘদিনের বাসিন্দারাও হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। Reuters—২৬ মে, Reuters—৪ জুন
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ফলে ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর অধীনে। ফলে আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে অনথিভুক্ত অভিবাসন নিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। The Diplomat
সীমান্তবাসীর জন্য কী বদলাবে?
রাষ্ট্রের মানচিত্রে সীমান্ত একটি রেখা; কিন্তু সীমান্তবাসীর কাছে এটি প্রতিদিনের জীবন। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বহু এলাকায় একই ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং স্থানীয় অর্থনীতির ধারাবাহিকতা রয়েছে। কোথাও কৃষিজমির মাঝখান দিয়ে সীমান্ত গেছে, কোথাও বাড়ি ও জমির মাঝখানে বেড়া তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও নদীর গতিপথই সীমান্ত নির্ধারণ করে।
আরও বেড়া নির্মিত হলে অবৈধ পারাপার, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারিও বাড়বে। ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নতুন সরকারের প্রধান যুক্তি।
তবে বেড়া নির্মাণের সামাজিক মূল্যও রয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখা ও বেড়ার মধ্যবর্তী জমিতে যাতায়াত কঠিন হতে পারে। কৃষকদের নির্দিষ্ট গেট এবং সময়সূচির ওপর নির্ভর করতে হয়। নদী ও চরাঞ্চলে মাছ ধরা, কৃষিকাজ এবং স্থানীয় চলাচলে বিধিনিষেধ বাড়তে পারে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধও তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের দিকেও নিরাপত্তা বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হবে। কথিত পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবিকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, টহল এবং স্থানীয় জনসচেতনতা বাড়াতে হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের বাহিনী কাছাকাছি ও অধিক সক্রিয় থাকলে ছোট ঘটনাও দ্রুত কূটনৈতিক উত্তেজনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে জুনে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সমন্বিত টহল, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই বাহিনী বৈঠককে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী বলেছে। এটি দেখায়, রাজনৈতিক ভাষা কঠোর হলেও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা এখনো সম্ভব। Reuters
বাণিজ্য ও যোগাযোগের দ্বৈত বাস্তবতা
পশ্চিমবঙ্গ শুধু বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়; এটি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবাণিজ্যের প্রধান প্রবেশপথ। পেট্রাপোল–বেনাপোল স্থলবন্দর দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগ। রেল, সড়ক ও নদীপথের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।
তাই সীমান্ত কঠোর হওয়ার অর্থ এই নয় যে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। বরং বিজেপি সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য—দুটিকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে পারে। অনানুষ্ঠানিক পারাপার ও চোরাচালান বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত স্থলবন্দর, স্ক্যানার, ডিজিটাল কাস্টমস এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু সীমান্তে অতিরিক্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে বৈধ বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কাস্টমস জটিলতা, ট্রাক আটকে থাকা, ভিসা সীমাবদ্ধতা কিংবা হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ায়। ২০২৫ সালে ভারত বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছিল; এতে বাংলাদেশের, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিবহন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। Reuters
পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও মানুষের বৈধ চলাচল সহজ করে, তবে নতুন নীতি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে কঠোর এবং সুযোগসৃষ্টিকারী হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তার যুক্তি যদি রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা চাপা পড়ে যাবে।
কলকাতা এখন দিল্লির সহযোগী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য ছিল। তিস্তার পানিবণ্টন তার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। কেন্দ্র কোনো সমঝোতায় যেতে চাইলেও পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি ভারতের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছিল। সীমান্তে জমি হস্তান্তর ও বিএসএফের এখতিয়ার নিয়েও কেন্দ্র–রাজ্যের বিরোধ ছিল।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা ও দিল্লি এখন একই রাজনৈতিক রেখায়। এর ফলে সীমান্ত বেড়া, বিএসএফ অবকাঠামো, অনথিভুক্ত অভিবাসন এবং নিরাপত্তা অভিযানে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এখন দিল্লি ও কলকাতার ভিন্ন অবস্থানকে কাজে লাগানোর সুযোগ কমবে।
তবে একই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি ইতিবাচক সম্ভাবনাও আছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় বাড়লে স্থলবন্দর, রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগের প্রকল্প দ্রুত হতে পারে। বাংলাদেশ যদি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গও সেই আঞ্চলিক অর্থনীতির সুবিধা পেতে পারে।
কোন পথটি প্রাধান্য পাবে—নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কঠোরতা, নাকি নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং ঢাকা–দিল্লির সম্পর্কের ওপর।
বাংলাদেশের কী করা প্রয়োজন?
বাংলাদেশের জন্য কেবল সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়। কথিত পুশ-ইনের প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাগরিকত্ব যৌথভাবে যাচাই এবং প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট প্রটোকল কার্যকর করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি দিল্লি পরিচালনা করলেও সীমান্তের জমি, স্থানীয় পুলিশ, বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও জনজীবনের বহু সিদ্ধান্ত কলকাতার হাতে। ফলে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা সীমান্ত সমস্যার পূর্ণ সমাধান দেবে না।
বাংলাদেশকে সীমান্ত নিরাপত্তার বৈধ উদ্বেগ অস্বীকার না করে মানবাধিকার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তুলতে হবে। চোরাচালান, মানবপাচার ও অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ালে অনথিভুক্ত অভিবাসনের রাজনৈতিক ভাষ্য মোকাবিলা করাও সহজ হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক বিপর্যয় নয়, আবার সাধারণ সরকার পরিবর্তনও নয়। এটি সীমান্তের রাজনৈতিক অর্থ বদলে দিচ্ছে। যে সীমান্ত এতদিন কেন্দ্র–রাজ্য বিরোধে আটকে ছিল, সেটি এখন দিল্লি ও কলকাতার সমন্বিত নিরাপত্তানীতির পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য বড় পরিবর্তনটি এখানেই: পশ্চিমবঙ্গ এখন আর দিল্লির সীমান্তনীতির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়; বরং সক্রিয় সহযোগী। এই নতুন বাস্তবতায় ঢাকা যদি কেবল প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে সীমান্তের আলোচ্যসূচি ভারতই নির্ধারণ করবে। আর যদি নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সীমান্তবাসীর জীবন ও বৈধ বাণিজ্য—চারটি বিষয় একসঙ্গে নিয়ে আগাম কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে কঠোর সীমান্তের মধ্যেও সহযোগিতার জায়গা ধরে রাখা সম্ভব।
আপনার মতামত জানানঃ