কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ছবি তৈরি করা কিংবা ভাষা অনুবাদের প্রযুক্তি নয়। জীববিজ্ঞানের মতো জটিল ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আর সেই অগ্রগতিরই এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সামনে এসেছে—এআই ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করেছেন। শুনতে বিষয়টি যতটা আতঙ্কজনক, গবেষণাটির উদ্দেশ্য ততটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানীরা এমন ভাইরাস তৈরি করেছেন, যেগুলো মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এই বিশেষ ধরনের ভাইরাসকে বলা হয় ব্যাকটেরিওফাজ বা সংক্ষেপে ফাজ। সাধারণ ভাইরাসের মতোই ফাজও জীবন্ত কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিজের সংখ্যা বাড়ায়। তবে এর বিশেষত্ব হলো, ফাজ মূলত ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর কোষকে সাধারণত লক্ষ্য করে না। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফাজকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনাময় অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য কারণে। এতদিন বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ফাজ খুঁজে বের করে সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতেন। কিন্তু এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এমন ফাজের জিনগত নকশা তৈরি করা হয়েছে, যা প্রকৃতিতে আগে দেখা যায়নি। পরে সেই নকশা অনুসরণ করে গবেষণাগারে বাস্তব ফাজ তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশলী ড. ব্রায়ান হাই এবং তার সহকর্মীরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। গবেষণায় তারা জিনোম ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের এআই ব্যবহার করেন। নামের মধ্যে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ’ শব্দটি থাকলেও এটি মানুষের ভাষা বোঝার জন্য তৈরি সাধারণ বড় ভাষা মডেলের মতো কাজ করে না। বরং জীবের জিনগত তথ্যকে এক ধরনের ভাষা বা কোড হিসেবে বিবেচনা করে তার কাঠামো ও সম্ভাব্য বিন্যাস বিশ্লেষণ করতে পারে।
গবেষকরা এআই মডেলকে প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফাজের জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। এরপর মডেলকে ব্যবহার করে সম্ভাব্য নতুন ফাজের জিনোম তৈরি করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশিক্ষণের সময় মানুষ, প্রাণী কিংবা গাছে রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন ভাইরাসের জিনগত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়েছিল। এর ফলে গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ব্যাকটেরিয়া-সংক্রমণকারী ফাজ তৈরি করা, মানুষের জন্য বিপজ্জনক কোনো ভাইরাস তৈরির পথ তৈরি করা নয়।
এআই কয়েক হাজার সম্ভাব্য জিনোম তৈরি করেছিল। কিন্তু কম্পিউটারে একটি জিনগত নকশা তৈরি করা আর বাস্তবে সেটি কার্যকর ভাইরাসে পরিণত করা এক বিষয় নয়। তাই গবেষকরা সম্ভাব্য নকশাগুলোর মধ্য থেকে প্রায় ৩০০টি নির্বাচন করে পরীক্ষাগারে তৈরি করেন। ফলাফল ছিল মিশ্র। প্রায় ৩০০টি নকশার মধ্যে মাত্র ১৬টি বাস্তবে কার্যকর ফাজ হিসেবে কাজ করেছে।
সংখ্যাটি হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু এই ১৬টি ফাজের গুরুত্ব এখানেই যে, এগুলোকে একসঙ্গে ব্যবহার করে এমন দুটি কঠিন ধরনের ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিক ফাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিল। অর্থাৎ প্রকৃতিতে পাওয়া প্রচলিত ফাজ যখন কাজ করতে পারছিল না, তখন এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ফাজের সমন্বয় ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে কার্যকর হয়েছে।
এখানেই গবেষণাটির চিকিৎসাগত সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারের ফলে বহু ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ব্যাকটেরিয়া যখন প্রচলিত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন চিকিৎসার বিকল্প দ্রুত সীমিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে এমন ফাজ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
ফাজ থেরাপির ধারণা অবশ্য নতুন নয়। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগেও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ফাজ ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ফাজের একটি বড় সমস্যা হলো, একটি নির্দিষ্ট ফাজ সাধারণত নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে। রোগীর শরীরে কোন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটিয়েছে, সেটি শনাক্ত করার পর সেই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ফাজ খুঁজে বের করতে সময় লাগতে পারে। এআই যদি দ্রুত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার উপযোগী ফাজের জিনগত নকশা তৈরি করতে পারে, তাহলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে অনেক দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে এখানেই এসে ‘এআই দিয়ে ভাইরাস বানানো’ কথাটির প্রকৃত অর্থ বোঝা জরুরি। এই গবেষণাকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে বিজ্ঞানীরা এআইকে দিয়ে ইচ্ছামতো যেকোনো ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়ে গেছেন। ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম তুলনামূলকভাবে ছোট ও সহজ। মানুষের বা প্রাণীর রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন ভাইরাসের জিনগত কাঠামো অনেক বেশি জটিল। ফলে ব্যাকটেরিওফাজ তৈরিতে সফল হওয়া মানেই ভবিষ্যতে এআই দিয়ে সহজেই ভয়ংকর মানব ভাইরাস তৈরি করা যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
তবু উদ্বেগের জায়গাটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ একই প্রযুক্তির উন্নয়ন ভবিষ্যতে দ্বিমুখী ব্যবহার বা ‘ডুয়াল ইউজ’ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যে প্রযুক্তি একদিকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসা তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে অসতর্ক বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার হলে জীববৈজ্ঞানিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই গবেষণাটির সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টম ইংলেসবি ও মরিটজ হ্যাঙ্কে মনে করেন, এখন এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব হলেও এই প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নিয়মকানুন এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না—এটাই মূল উদ্বেগ।
গবেষণায় ব্যবহৃত ইভিও১ এবং ইভিও২ নামের এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় বিপজ্জনক ভাইরাসের তথ্য বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ। এটি এক ধরনের নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু শুধু প্রশিক্ষণের তথ্য সীমিত করলেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী জিনোম মডেল তৈরি হলে সেগুলো কী ধরনের তথ্য থেকে শিখবে, কে সেগুলো ব্যবহার করবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে—এসব প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম এলিসও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, এআইকে যদি বিপজ্জনক রোগজীবাণুর জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে জিনগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বিপজ্জনক জিনোম তৈরির ওপর নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। কম্পিউটারে কোনো জিনগত নকশা তৈরি হওয়া এবং সেই নকশা বাস্তবে ডিএনএ বা জীববৈজ্ঞানিক উপাদানে পরিণত হওয়া—এই দুই ধাপের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. ফিলিপা লেনজোস তাই পরীক্ষাগারে ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াতেও কঠোর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অর্থাৎ এআই, জিন সংশ্লেষণ, গবেষণাগার এবং জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষা—প্রতিটি স্তরেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই গবেষণার আরেকটি শিক্ষা হলো, এআই এখন বিজ্ঞানীদের শুধু তথ্য বিশ্লেষণে সাহায্য করছে না; বরং নতুন জৈবিক নকশা তৈরির ক্ষেত্রেও অংশ নিচ্ছে। এতদিন একজন গবেষককে প্রকৃতিতে থাকা অসংখ্য জীববৈজ্ঞানিক নমুনা পরীক্ষা করে সম্ভাবনাময় কিছু খুঁজে বের করতে হতো। এখন এআই বিশাল পরিমাণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন নকশা প্রস্তাব করতে পারে, যেগুলোর কিছু প্রকৃতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি।
তবে কম্পিউটারের তৈরি প্রতিটি নকশা যে বাস্তবে কাজ করবে, তা নয়। এই গবেষণাতেও তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। হাজার হাজার সম্ভাব্য জিনোমের মধ্য থেকে কয়েকশটি পরীক্ষাগারে তৈরি করার পর মাত্র ১৬টি কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ এআই এখনো বিজ্ঞানীদের বিকল্প নয়। বরং এটি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি শক্তিশালী নকশা তৈরির ও সম্ভাবনা খোঁজার হাতিয়ার।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে রোগীর সংক্রমণ ঘটানো নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে দ্রুত ফাজ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। কোনো রোগীর শরীরে এমন ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেল, যার বিরুদ্ধে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়—এমন পরিস্থিতিতে এআই হয়তো সেই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফাজের নকশা তৈরি করতে সাহায্য করবে। এরপর পরীক্ষাগারে সেটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করে চিকিৎসায় ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে সেই ভবিষ্যৎ এখনো দূরে। গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হওয়া আর মানুষের শরীরে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা এক নয়। মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, ফাজের স্থায়িত্বসহ নানা বিষয় নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।
তারপরও গবেষণাটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে জীববিজ্ঞানের এমন জায়গায় প্রবেশ করছে, যেখানে আগে মূলত মানুষের দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা এবং প্রকৃতিতে পাওয়া উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন কম্পিউটার মডেল সম্ভাব্য জৈবিক নকশা তৈরি করছে, আর গবেষকরা সেগুলো বাস্তবে পরীক্ষা করে দেখছেন।
এই অগ্রগতি একই সঙ্গে আশার এবং সতর্কতার। আশার কারণ, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার মতো কঠিন সমস্যার সমাধানে নতুন অস্ত্র পাওয়া যেতে পারে। সতর্কতার কারণ, জীববিজ্ঞানের সঙ্গে এআইয়ের এই সংযোগ ভবিষ্যতে এমন ক্ষমতা তৈরি করতে পারে, যার ব্যবহার সবসময় মানবকল্যাণে হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
তাই প্রশ্নটি শুধু ‘এআই দিয়ে ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব কি না’—এখানে আটকে থাকলে চলবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কে ব্যবহার করবে, কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং ভুল হাতে পড়লে কীভাবে ঝুঁকি ঠেকানো হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়া হয়তো বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু তার ব্যবহারকে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা সম্ভব।
এআই দিয়ে তৈরি নতুন ফাজের সাফল্য তাই একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অর্জন এবং একটি সতর্কবার্তা। এটি দেখিয়েছে, জীববিজ্ঞানের জটিল সমস্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো শক্তিশালী প্রযুক্তি কেবল তার সম্ভাবনার কারণে নিরাপদ হয়ে যায় না। নিরাপত্তা, নৈতিকতা, গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ আইন—সবকিছুকে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে একই গতিতে এগিয়ে নিতে হয়।
ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে হয়তো এমন এক সময় আসবে, যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিজ্ঞানীরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত একটি উপযোগী ফাজ নকশা করতে পারবেন। সেই সম্ভাবনা বাস্তব হলে এআই চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। কিন্তু একই প্রযুক্তি যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে নতুন জীববৈজ্ঞানিক বিপদ তৈরি না করে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
শেষ পর্যন্ত এআই নিজে আশীর্বাদ বা অভিশাপ নয়। এটি মানুষের হাতে থাকা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরি হবে, নাকি ভবিষ্যতের নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে—তার উত্তর নির্ভর করবে প্রযুক্তির চেয়ে বেশি মানুষের সিদ্ধান্ত, দায়িত্ববোধ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।
আপনার মতামত জানানঃ