
১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট ভোর হওয়ার আগেই ব্রিটিশ সরকার মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল, মৌলানা আবুল কালাম আজাদসহ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রায় পুরো শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করে। বোম্বের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতৃত্বকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা কার্যকর হয়। ব্রিটিশদের ধারণা ছিল, মাথা কেটে দিলে আন্দোলনের শরীর আর নড়বে না।
ঘটেছিল উল্টোটি। নেতাদের গ্রেপ্তারই সারা দেশে প্রতিরোধের বিস্ফোরণ ঘটায়। কোথাও ধর্মঘট ও মিছিল, কোথাও রেললাইন ও টেলিগ্রাফ বিচ্ছিন্ন করা, কোথাও থানা ও সরকারি দপ্তর দখলের চেষ্টা, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ‘জাতীয় সরকার’ গড়ে ওঠে। একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় মানুষের নিজস্ব বিদ্রোহে পরিণত হয়।
এই কারণেই ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব ৮ আগস্ট গৃহীত হলেও ৯ আগস্ট স্মরণ করা হয় ‘আগস্ট ক্রান্তি দিবস’ হিসেবে। দিনটি শুধু একটি আন্দোলনের সূচনা নয়; এটি সেই মুহূর্ত, যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবি আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি থাকেনি—তা হয়ে উঠেছিল অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা।
যুদ্ধের মধ্যে স্বাধীনতার দাবি
ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে বুঝতে হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিরতে হয়। ১৯৩৯ সালে ব্রিটেন ভারতীয়দের মতামত না নিয়েই উপমহাদেশকে যুদ্ধে যুক্ত ঘোষণা করে। ভারতীয় সৈন্য, অর্থ, খাদ্য ও কাঁচামাল ব্রিটিশ যুদ্ধযন্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছিল, কিন্তু ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার কোনো নিশ্চিত অঙ্গীকার ছিল না।
১৯৪২ সালের শুরুতে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়। জাপান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে বার্মা দখল করে ভারতের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহযোগিতা চাইছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসকে দিল্লিতে পাঠানো হয়। ক্রিপস মিশন যুদ্ধশেষে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের একটি অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও অবিলম্বে দায়িত্বশীল জাতীয় সরকার বা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি মানেনি। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ—দুই পক্ষই ভিন্ন কারণে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
গান্ধীর যুক্তি ছিল, যে ব্রিটেন নিজেই স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করার দাবি করছে, সে ভারতকে পরাধীন রেখে নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারে না। ব্রিটিশ উপস্থিতি ভারতকে জাপানি আক্রমণ থেকে রক্ষা করার বদলে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত করছে—এমন ধারণাও তাঁর বক্তব্যে ছিল। তাই ব্রিটেনকে যুদ্ধের পরে নয়, তখনই ভারত ছাড়ার দাবি জানানো হয়।
৮ আগস্টের আহ্বান, ৯ আগস্টের বিস্ফোরণ
১৯৪২ সালের ৭ ও ৮ আগস্ট বোম্বের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশন বসে। ৮ আগস্ট রাতে ভারত ছাড়ো প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। গান্ধী তাঁর ভাষণে অহিংস গণসংগ্রামের ওপর জোর দিয়ে মানুষকে একটি সংক্ষিপ্ত মন্ত্র দেন—‘Do or Die’, বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘করো অথবা মরো’। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতকে স্বাধীন করতে হবে অথবা সেই চেষ্টায় জীবন দিতে হবে; পরাধীনতার স্থায়িত্ব মেনে বেঁচে থাকা যাবে না।
এই আহ্বান আত্মহত্যা বা নির্বিচার সহিংসতার নির্দেশ ছিল না। গান্ধী এটিকে অহিংস সত্যাগ্রহীর সর্বোচ্চ সংকল্প হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন শুরু হওয়ার সুযোগই দিতে চায়নি। ৯ আগস্ট ভোরে গান্ধী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়, কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং সভা-সমাবেশ ও সংবাদ প্রকাশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
গান্ধীকে পুনের আগা খান প্রাসাদে বন্দী রাখা হয়। নেহরু, প্যাটেল, আজাদসহ অন্য নেতাদের অনেককে আহমেদনগর দুর্গে পাঠানো হয়। সরকার ভেবেছিল, আন্দোলনের ঘোষিত নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে সংগঠন ভেঙে পড়বে। কিন্তু গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বোম্বে, আহমেদাবাদ, পুনে, কলকাতা, পাটনা, দিল্লি এবং বহু শহরে প্রতিবাদ শুরু হয়। গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে অরুণা আসফ আলী কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন করে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
৯ আগস্ট তাই কেবল নেতাদের বন্দিত্বের দিন নয়। এটি নেতৃত্বহীন হয়েও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের মালিকানা গ্রহণ করার দিন। স্বাধীনতার সংগ্রাম প্রথম সারির কয়েকজন নেতার কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী ও স্থানীয় সংগঠকদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে।
অহিংস আন্দোলন কেন সহিংস হয়ে উঠল?
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সবচেয়ে জটিল অধ্যায় হলো সহিংসতা। গান্ধী অহিংস সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বকে শুরুতেই বন্দী করার ফলে আন্দোলন পরিচালনার কেন্দ্রীয় কাঠামো ছিল না। বহু জায়গায় পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ এবং গণগ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় জনতা থানা, আদালত, ডাকঘর ও রেলওয়ে অবকাঠামোয় হামলা চালায়। টেলিগ্রাফের তার কাটা এবং রেল যোগাযোগ নষ্ট করার উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক প্রশাসন ও যুদ্ধকালীন সরবরাহব্যবস্থাকে অচল করা।
ব্রিটিশ সরকার পাল্টা দমন চালায়। সরকারি হিসাবে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছিল; গ্রেপ্তারের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার থেকে এক লাখেরও বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ আছে। অনেক স্থানে গুলি, বেত্রাঘাত, যৌথ জরিমানা এবং সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ প্রয়োগ করা হয়। সংখ্যার ভিন্নতা থাকলেও দমনের ব্যাপকতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিরোধ নেই।
সহিংসতার কারণে আন্দোলনটিকে কেবল গান্ধীর অহিংস সত্যাগ্রহের ধারাবাহিকতা বলা যায় না। আবার কয়েকটি সহিংস ঘটনাকে সামনে এনে পুরো আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ বলাও ঔপনিবেশিক ব্যাখ্যা পুনরাবৃত্তি করা হবে। বাস্তবে এটি ছিল অহিংস প্রতিবাদ, স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ, প্রশাসনিক নাশকতা, শ্রমিক ধর্মঘট এবং স্থানীয় ক্ষমতা দখলের বিচিত্র সমন্বয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীনতার দুর্বলতাই আন্দোলনকে একদিকে অনিয়ন্ত্রিত করেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাধীন উদ্যোগের জায়গাও তৈরি করেছে।
মাটির নিচে যে আন্দোলন টিকে ছিল
প্রকাশ্য বিক্ষোভ দমন হওয়ার পর আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। জয়প্রকাশ নারায়ণ, রামমনোহর লোহিয়া, অচ্যুত পাটবর্ধন, অরুণা আসফ আলী, সুচেতা কৃপালানী ও উষা মেহতাসহ বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থেকে যোগাযোগ ও প্রচার চালান। উষা মেহতার গোপন ‘কংগ্রেস রেডিও’ কয়েক মাস ধরে ব্রিটিশ সেন্সরশিপ ভেঙে আন্দোলনের সংবাদ ও বার্তা সম্প্রচার করে।
বলিয়া, সাতারা এবং বাংলার তমলুকে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প কাঠামো গড়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশের বলিয়ায় স্থানীয় মানুষ অল্প সময়ের জন্য প্রশাসন দখল করে বন্দীদের মুক্ত করেন। মহারাষ্ট্রের সাতারায় ‘প্রতি সরকার’ গ্রামীণ এলাকায় সমান্তরাল বিচার ও শাসন চালায়।
বাংলার মেদিনীপুরে আন্দোলন বিশেষ গভীরতা পায়। ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানা অভিমুখে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে প্রবীণ স্বাধীনতাসংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পতাকা হাতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা বাংলায় আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর তমলুকে ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রশাসন, সালিশ, শিক্ষা ও ত্রাণকাজ পরিচালনা করে প্রায় দুই বছর টিকে ছিল।
এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখিয়েছিল, ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুধু ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার দাবি ছিল না; কিছু অঞ্চলে মানুষ ব্রিটিশ কর্তৃত্বের জায়গায় নিজেদের শাসনক্ষমতার পরীক্ষাও করেছিল।
পুরো ভারত কি একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিল?
‘ভারত ছাড়ো’ নামটি সর্বভারতীয় ঐক্যের ধারণা তৈরি করলেও বাস্তব চিত্র ছিল অসম। কংগ্রেস আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকলেও মুসলিম লীগ এতে যোগ দেয়নি। লীগ মনে করেছিল, ক্ষমতা সরাসরি কংগ্রেসের হাতে গেলে মুসলমানদের রাজনৈতিক দাবি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কমিউনিস্ট পার্টিও নাৎসি জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের পর যুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে দেখে মিত্রশক্তির যুদ্ধপ্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিল। হিন্দু মহাসভা, অনেক দেশীয় রাজ্য এবং প্রশাসনিক অভিজাতদের বড় অংশও আন্দোলনের বাইরে ছিল।
পূর্ববঙ্গেও আন্দোলনের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর বা বিহারের মতো সমান তীব্র ছিল না। মুসলিম লীগের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, কৃষক রাজনীতির ভিন্ন অগ্রাধিকার, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতা এখানে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এই সীমাবদ্ধতা স্মরণ করা জরুরি, কারণ স্বাধীনতার ইতিহাসকে একমাত্রিক জাতীয় ঐক্যের গল্প বানালে উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিভক্তি এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পথটি বোঝা যায় না।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন তাই একদিকে ব্রিটিশবিরোধী গণপ্রতিরোধের সর্বোচ্চ বিস্ফোরণ, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতির গভীর বিভাজনেরও দলিল। একই সময়ে স্বাধীনতার দাবি শক্তিশালী হচ্ছিল এবং স্বাধীন রাষ্ট্রটি কেমন হবে—সে প্রশ্নে মতবিরোধও তীব্র হচ্ছিল।
এই আন্দোলন কি ব্রিটিশদের বিদায় নিশ্চিত করেছিল?
ভারত ১৯৪২ সালে স্বাধীন হয়নি। কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশ্য বিদ্রোহের বড় অংশ দমন করা হয় এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বন্দী থাকে। এই অর্থে ভারত ছাড়ো আন্দোলন তাৎক্ষণিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিবর্তিত মনোভাব, সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ, যুদ্ধোত্তর শ্রমিক ও নৌবিদ্রোহ, আন্তর্জাতিক ঔপনিবেশিক বিরোধিতা এবং ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন—সবকিছু মিলেই ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পথ তৈরি করে।
তবু ১৯৪২-এর তাৎপর্য মৌলিক। আগের আলোচনায় ভারতীয় নেতৃত্ব অনেক সময় সাংবিধানিক সংস্কার, ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসন বা যুদ্ধশেষের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দরকষাকষি করেছিল। ভারত ছাড়ো আন্দোলন সেই মধ্যবর্তী পথ বন্ধ করে দেয়। দাবি হয়ে ওঠে—ব্রিটিশ শাসনের অবিলম্বে অবসান। এর পর ব্রিটিশদের সামনে প্রধান প্রশ্ন আর ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে কি না ছিল না; প্রশ্ন ছিল কখন এবং কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
আন্দোলনটি আরও দেখায়, ব্রিটিশ শাসন শুধু সেনা ও আইন দিয়ে স্থায়ী রাখা সম্ভব হলেও রাজনৈতিক সম্মতি পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। যে সাম্রাজ্যকে একটি উপমহাদেশ শাসন করতে ব্যাপক গ্রেপ্তার, সেনা মোতায়েন, গুলি ও সেন্সরশিপের ওপর নির্ভর করতে হয়, তার নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।
৯ আগস্টের উত্তরাধিকার
৯ আগস্ট ঐতিহাসিক, কারণ ওই দিন ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতার দাবি দমন করতে পুরো জাতীয় নেতৃত্বকে একসঙ্গে বন্দী করেছিল—আর সেই দমনই আন্দোলনকে নেতাদের হাত থেকে জনতার হাতে তুলে দিয়েছিল। দিনটি প্রমাণ করে, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কঠোর মুহূর্ত কখনো কখনো প্রতিরোধের সবচেয়ে বিস্তৃত মুহূর্তও তৈরি করতে পারে।
তবে এই ইতিহাসকে কেবল বীরত্বের স্মারক বানালে তার শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকবে। ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমাদের একই সঙ্গে গণআন্দোলনের শক্তি, নেতৃত্বহীনতার ঝুঁকি, দমনের মুখে সহিংসতার বিস্তার, নারীদের অগ্রণী ভূমিকা এবং রাজনৈতিক ঐক্যের সীমা দেখায়। এটি স্বাধীনতার পথ ত্বরান্বিত করেছিল, কিন্তু দেশভাগের দ্বন্দ্ব থামাতে পারেনি।
১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়নি। কিন্তু ওই দিন থেকে ব্রিটিশ শাসনের ভবিষ্যৎ আর আগের মতো ছিল না। সাম্রাজ্য হয়তো আন্দোলন দমন করেছিল, কিন্তু ভারতকে অনির্দিষ্টকাল শাসন করার রাজনৈতিক সম্ভাবনা হারিয়েছিল। সেই অর্থে ৯ আগস্ট কোনো সমাপ্তির দিন নয়—এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ অধ্যায়ের অনিবার্য সূচনা।
তথ্যসূত্র: গান্ধীর ৮ আগস্ট ১৯৪২-এর ভাষণের সংরক্ষিত পাঠ; নেহরু আর্কাইভ; Mani Bhavan Gandhi Sangrahalaya; Smithsonian; ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারবিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণা।
আপনার মতামত জানানঃ