Trial Run

চলে গেলেন ফ্যাশন কিংবদন্তি পিয়েরে কার্ডিন

ব্যাকপ্যাক ব্র্যান্ড পিয়েরে কার্ডিনের কল্যাণে বাংলাদেশেও অনেক মানুষ তার নাম শুনেছেন। ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে জগৎজোড়া তার নামডাক হলেও জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইতালিতে। ৯৮ বছর বয়সে প্রয়াণ হলো গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফ্যাশন জগতে বিপ্লব আনা এই ডিজাইনারের। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিউলি এলাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

১৯২২ এ ইটালির ভেনিসে জন্ম পিয়েরে কার্ডিনের। মাত্র ১৭ বছর বয়সে এক দর্জির সহকারী হিসাবে জীবন শুরু করেন। খুব অল্প দিনেই মেয়েদের পোশাক তৈরিতে দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন কার্ডিন। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৪৭ সালে। ওই বছরই প্যারিসে গিয়ে জাঁ ককতোর সিনেমা বিউটি এন্ড বিস্ট-এর জন্য পোশাক ডিজাইন করার সুযোগ পান তিনি। সেই শুরু। আর পিছনে ঘুরে তাকাতে হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি নিজেই হয়ে উঠলেন এক আস্ত ফ্যাশন ব্র‍্যাণ্ড।

বলা হয়, তার ডিজাইন ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে। ফ্যাশন যে কেবল নারীদের বিষয় নয়, পুরুষেরও সমানাধিকার রয়েছে তাতে, সেই ধারণাটি তৈরির পিছনে যে মানুষটির ভূমিকা সর্বাধিক তার নাম নিঃসংশয়ভাবে পিয়েরে কার্ডিন। তার ডিজাইনে তৈরি বিখ্যাত ‘বাবল পোশাক’ তো কিংবদন্তী হয়ে গেছে। তার বিশেষ কাজের মধ্যে এই ‘ইউনিসেক্স’ পোষাক অন্যতম, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য থাকে না। অর্থাৎ নারী-পুরুষের জন্য একই ডিজাইন।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। সানগ্লাসসহ একাধিক পণ্যে তার নাম ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স করা হয়েছিল। ১৯৫০ সালে তিনি তার নিজের ফ্যাশন বুটিকের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে তার আইকনিক বাবল ড্রেস এবং ১৯৬৪ সালে তার স্পেস এজ সংগ্রহ তাকে বিখ্যাত করে তোলে। এখনো কার্ডিনের সাম্রাজ্যে রয়েছে হোটেল, কারখানা ও বুটিক ব্যবসা। পিয়েরে কার্ডিনের উল্লেখযোগ্য অধিগ্রহণের মধ্যে রয়েছে প্যারিসের অভিজাত রেস্তোরাঁ ম্যাক্সিম। পরবর্তী সময়ে এটাকে তিনি আন্তর্জাতিক চেইনে পরিণত করেন।

সেরা সময়ে তার নামে এক হাজারের মতো লাইসেন্স ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল। যার মধ্যে ছিল ফ্যাশন, খাবার থেকে শুরু করে সিগারেট ও ফার্নিচার। তিনি জাপান, রাশিয়া ও চীনেও বড় বড় ফ্যাশন শো আয়োজন করেছেন। ১৯৯১ সালে মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত ফ্যাশন শোতে দুই লাখের বেশি দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছিল। ২০১০ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া বাদে আমি পুরো বিশ্বেই ফ্যাশন শো করেছি। আমি চাইলে সেখানেও যেতে পারি।

২৯ ডিসেম্বর ২০২০ পরিবারের তরফে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মৃত্যুর খবর জানানোর পর পিয়েরে কার্ডিনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি উক্তি পোস্ট করা হয়। কার্ডিনের ওই উক্তিটি হলো- আমি সবসময় আমার নিজস্ব স্টাইলে কাজ করার চেষ্টা করেছি, যা অন্য সবার চেয়ে আলাদা। সবসময়ই আমি আলাদা হতে চেয়েছি, কারণ এর মাধ্যমেই টিকে থাকা যায়।

এসডাব্লিউ/বিবি-ওয়াল/নাসি/আরা/১১৫০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares