পৃথিবীর ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল, যখন আজকের পরিচিত পৃথিবীর সঙ্গে এর কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যেত না। কোথাও বিস্তীর্ণ মরুভূমি, কোথাও শুষ্ক প্রান্তর, আবার কোথাও ছিল ঘন বনভূমি ও বিশাল জলাভূমি। কিন্তু প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীর জলবায়ুতে এমন এক পরিবর্তন ঘটেছিল, যা বিজ্ঞানীদের আজও বিস্মিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়, বদলে যেতে থাকে নদী, হ্রদ, বনভূমি ও প্রাণিজগতের পরিবেশ। বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ সময়কে নাম দিয়েছেন ‘কার্নিয়ান প্লুভিয়াল এপিসোড’ (Carnian Pluvial Episode)। পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনা।
ঘটনাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সময়কাল। প্রায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ২৩ কোটি ২০ লাখ বছর আগে বিস্তৃত এই জলবায়ু পরিবর্তনের সময়কাল আনুমানিক ২০ লাখ বছর। তবে এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবীর প্রতিটি জায়গায় একটানা ২০ লাখ বছর বৃষ্টি হয়েছিল। বরং এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কয়েকটি পর্যায়ে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাবও ছিল ভিন্ন। কোথাও নদী ও জলাভূমির বিস্তার ঘটেছিল, কোথাও আবার শুষ্কতার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ এটি ছিল পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তনের সময়।
তখন পৃথিবীর মহাদেশগুলোর অবস্থানও ছিল আজকের মতো নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ স্থলভাগ মিলে গঠিত হয়েছিল বিশাল মহাদেশ প্যানজিয়া। এর চারপাশে বিস্তৃত ছিল মহাসাগর। বিশাল এই মহাদেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলো ছিল অনেকটাই শুষ্ক। সমুদ্র থেকে দূরে থাকার কারণে এসব অঞ্চলে আর্দ্র বাতাস সহজে পৌঁছাতে পারত না। ফলে কোথাও ছিল মরুভূমির মতো পরিবেশ, কোথাও ছিল শুষ্ক সমতলভূমি। কিন্তু একসময় এই পরিচিত জলবায়ু ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, সমুদ্র এবং স্থলভাগের মধ্যে পানির চলাচল আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বিশাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে এমন কিছু আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ লাভা ও গ্যাস নির্গত হয়েছিল। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত র্যাঙ্গেলিয়া লার্জ ইগনিয়াস প্রভিন্সের (Wrangellia Large Igneous Province) আগ্নেয় কার্যকলাপ।
বিশাল এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। এটি বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখতে সাহায্য করে। ফলে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে পৃথিবীর তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সময়ও এমন একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র থেকে পানির বাষ্পীভবন বাড়তে থাকে। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং জলচক্র আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়।
বিষয়টি কেবল একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাময়িকী PNAS-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা চীনের উত্তরাঞ্চলের জিয়ুয়ান অববাহিকার প্রাচীন হ্রদের পলির নমুনা বিশ্লেষণ করেন। সেখানে তাঁরা আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক খুঁজে পান। গবেষণায় কার্নিয়ান প্লুভিয়াল এপিসোডের সময় চারটি পৃথক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিটি পর্যায়ের সঙ্গে কার্বন চক্রের পরিবর্তন এবং পরিবেশের আর্দ্রতা বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেছে। অর্থাৎ পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনটি কোনো একক ঘটনার ফল ছিল না; বরং কয়েক দফায় সংঘটিত বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর উদ্ভিদজগতেও বড় ধরনের রূপান্তর ঘটে। যেসব অঞ্চলে আগে শুষ্ক পরিবেশের কারণে উদ্ভিদের বিস্তার সীমিত ছিল, সেখানে আর্দ্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাচীন হ্রদগুলোর আয়তন বৃদ্ধি পায়। নদীর প্রবাহ ও পলির পরিমাণেও পরিবর্তন আসে। উদ্ভিদের পরাগরেণু ও জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, সেই সময় আর্দ্র পরিবেশে বেড়ে উঠতে সক্ষম উদ্ভিদের গুরুত্ব অনেক বেড়েছিল। ফলে শুধু আবহাওয়া নয়, পৃথিবীর স্থলভাগের বাস্তুতন্ত্রও নতুনভাবে সাজতে শুরু করে।
সমুদ্রের পরিবেশেও এর প্রভাব ছিল ব্যাপক। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে স্থলভাগ থেকে নদীর মাধ্যমে প্রচুর পলি ও পুষ্টি উপাদান সমুদ্রে পৌঁছাতে থাকে। এতে কিছু সামুদ্রিক অঞ্চলে পানির রাসায়নিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়। কোথাও অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের কারণে শৈবালের বিস্তার বাড়ে। আবার সমুদ্রের কিছু অঞ্চলে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য এটি ছিল বড় ধরনের পরিবেশগত চাপ। ফলে বিভিন্ন প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে বিলুপ্তি ও পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। পৃথিবীর ইতিহাসে জলবায়ুর পরিবর্তন যে শুধু স্থলভাগের প্রাণীদের প্রভাবিত করে না, সমুদ্রের গভীরেও তার প্রভাব পৌঁছে যায়, এই ঘটনা তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তবে এই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ডাইনোসরদের উত্থান। কার্নিয়ান যুগের আগে থেকেই পৃথিবীতে ডাইনোসরের পূর্বপুরুষ ও প্রাথমিক ডাইনোসরদের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু এই সময়ের আশপাশে তাদের বৈচিত্র্য ও বিস্তারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। একই সময়ে কুমিরের প্রাচীন আত্মীয়, কচ্ছপ, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রাথমিক গোষ্ঠী এবং আধুনিক কনিফার উদ্ভিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার বিবর্তন ও বিস্তারের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করেন, জলবায়ুর এই পরিবর্তন নতুন পরিবেশ ও বাস্তুতান্ত্রিক সুযোগ তৈরি করেছিল। ফলে কিছু প্রাণীগোষ্ঠী নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছিল, অন্যদিকে কিছু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায় বা তাদের বিস্তার সীমিত হয়ে পড়ে। ডাইনোসরদের পরবর্তী বিবর্তনের ইতিহাসে এই সময়কে তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ডাইনোসরদের উত্থানের একমাত্র কারণ যে এই বৃষ্টির যুগ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিবর্তন একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে জলবায়ু, খাদ্য, প্রতিযোগিতা, ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নানা বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।
এত কোটি বছর আগের বৃষ্টিপাতের ঘটনা বিজ্ঞানীরা কীভাবে জানতে পারলেন, সেটিও বিস্ময়কর। পৃথিবীর অতীতের আবহাওয়া জানার জন্য তাঁদের কাছে কোনো প্রত্যক্ষ আবহাওয়া রেকর্ড নেই। নেই কোনো বৃষ্টিমাপার যন্ত্র কিংবা প্রাচীন আবহাওয়ার ছবি। তাই বিজ্ঞানীরা নির্ভর করেন পাথরের স্তর, প্রাচীন হ্রদের পলি, জীবাশ্ম, উদ্ভিদের পরাগরেণু এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ওপর। কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে নদীর প্রবাহ, মাটির ক্ষয়, পলি জমার ধরন এবং উদ্ভিদের বিস্তারে তার ছাপ থেকে যায়। লাখ লাখ বছর পরেও সেই ছাপ পাথরের স্তরে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
কার্বন আইসোটোপ বিশ্লেষণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কার্বনের বিভিন্ন আইসোটোপের অনুপাত পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন বায়ুমণ্ডল ও কার্বন চক্রের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পান। একইভাবে পাথরের মধ্যে আটকে থাকা পারদ বা মার্কারির উপস্থিতি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সম্ভাব্য সংকেত দিতে পারে। কারণ বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের সময় বায়ুমণ্ডলে পারদ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীকালে তা পলির স্তরে জমা হতে পারে। এসব প্রমাণ একত্র করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বহু কোটি বছর আগের পরিবেশের একটি বৈজ্ঞানিক চিত্র তৈরি করেন।
এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন Nature Communications-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা নতুন তথ্য সামনে আনে। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জুংগার অববাহিকার প্রাচীন হ্রদের পলির ওপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, কার্নিয়ান প্লুভিয়াল এপিসোডের জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর সব অঞ্চলে একই রকম ছিল না। কিছু নিম্ন অক্ষাংশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় এবং মেরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কেন্দ্র তৈরি হলেও মহাদেশের অভ্যন্তরীণ কিছু অঞ্চল আরও শুষ্ক হয়ে উঠেছিল। গবেষণাটিতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ ও পরবর্তী কার্বন চক্রের প্রতিক্রিয়ার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সূচনা তুলনামূলক দ্রুত ঘটতে পারে। অর্থাৎ পৃথিবীতে দীর্ঘ সময় ধরে আর্দ্রতার প্রবণতা থাকলেও এর প্রভাব ছিল ভৌগোলিকভাবে অসম।
এই বিষয়টি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন মানেই সব জায়গায় একই ধরনের পরিবর্তন নয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়লে কোথাও অতিবৃষ্টি হতে পারে, কোথাও খরা আরও তীব্র হতে পারে। কোনো অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, অন্য অঞ্চলে পানির সংকট তৈরি হতে পারে। কোটি কোটি বছর আগে কার্নিয়ান প্লুভিয়াল এপিসোডের সময়ও এমন বৈচিত্র্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
আজকের পৃথিবীর সঙ্গে এই প্রাচীন ঘটনার তুলনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মানুষের কর্মকাণ্ড, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বন উজাড় এবং শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড যোগ করে পৃথিবীর জলবায়ুতে বড় পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমান সময়ে মানুষের কর্মকাণ্ডও একই ধরনের গ্রিনহাউস প্রভাবকে শক্তিশালী করছে। অবশ্য দুই ঘটনার কারণ, সময়কাল ও পরিস্থিতি এক নয়। প্রাচীন পৃথিবীর পরিবর্তন ঘটেছিল ভূতাত্ত্বিক সময়ের প্রেক্ষাপটে, আর আধুনিক জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে মানুষের ইতিহাসের তুলনায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে।
প্রায় ২৩ কোটি বছর আগের সেই বৃষ্টির যুগ শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর জলবায়ুকে আবার পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। আর্দ্রতার প্রবণতা কমতে থাকে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর জীবজগতের যে পরিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রভাব পরবর্তী ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। ডাইনোসরদের বিস্তার, উদ্ভিদের বিবর্তন এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের পরিবর্তনের ইতিহাসে এই সময়ের ছাপ খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা।
তাহলে কি সত্যিই পৃথিবীতে টানা ২০ লাখ বছর বৃষ্টি হয়েছিল? বৈজ্ঞানিক উত্তর হলো, না—পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তবে প্রায় ২০ লাখ বছরজুড়ে পৃথিবীর জলবায়ুতে এমন একটি দীর্ঘ পরিবর্তন ঘটেছিল, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। কয়েকটি পৃথক পর্যায়ে এই পরিবর্তন আরও তীব্র হয়েছিল। তাই একে পৃথিবীর দীর্ঘ বৃষ্টির যুগ বলা হলেও বিষয়টি আসলে একটি জটিল জলবায়ুগত ঘটনা।
পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্যবার বদলেছে এর চেহারা, জলবায়ু, সমুদ্র, বনভূমি এবং প্রাণিজগৎ। কখনো পৃথিবী পরিণত হয়েছে বরফে ঢাকা বিশাল ভূখণ্ডে, কখনো আবার উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে বিস্তৃত হয়েছে নতুন বনভূমি। কার্নিয়ান প্লুভিয়াল এপিসোড সেই পরিবর্তনগুলোরই একটি বিস্ময়কর অধ্যায়। যে পৃথিবীতে আজ মানুষ বসবাস করছে, সেটি কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় গ্রহ নয়। কোটি কোটি বছর ধরে আগ্নেয়গিরি, বায়ুমণ্ডল, সমুদ্র ও জীবজগতের পারস্পরিক ক্রিয়ায় পৃথিবী বারবার নিজের রূপ বদলেছে। আর সেই ইতিহাসের একটি অধ্যায় আমাদের জানায়, একসময় পৃথিবীর জলবায়ু এমনভাবে বদলে গিয়েছিল যে প্রায় ২০ লাখ বছর ধরে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার প্রবণতা হয়ে উঠেছিল ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
আপনার মতামত জানানঃ