গত আড়াই শতাব্দীতে বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো পাল্টে দিয়েছে একাধিক বিপ্লব। এর মধ্যে রাশিয়া, চীন ও কিউবার বিপ্লব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিপ্লবের পেছনের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকা তুলে ধরেছেন লেখক সাইমন হল তাঁর Three Revolutions: Russia, China and Cuba বইয়ে।
পাকিস্তানি সাংবাদিক এফ এস আইয়াজউদ্দিনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তিন মার্কিন লেখক ও সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কীভাবে এই বিপ্লবগুলোকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল। তাঁরা হলেন জন রিড, এডগার স্নো ও হারবার্ট ম্যাথিউস।
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেন জন রিড। তাঁর Ten Days That Shook the World বইয়ে বলশেভিক বিপ্লব, লেনিনের নেতৃত্ব এবং ক্ষমতা দখলের ঘটনাগুলো উঠে এসেছে। অন্যদিকে, এডগার স্নো ১৯৩৬ সালে মাও সেতুংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং চীনের বিপ্লবী সংগ্রাম নিয়ে লেখেন Red Star over China। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে দীর্ঘ অভিযাত্রা বা লং মার্চের কঠিন বাস্তবতা এবং কৃষকদের সমর্থন আদায়ে মাওয়ের দক্ষতা।
কিউবার বিপ্লবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাংবাদিক হারবার্ট ম্যাথিউস। ১৯৫৭ সালে তিনি পাহাড়ি এলাকায় ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎকার নেন। সীমিত অস্ত্র ও জনবল নিয়ে কাস্ত্রোর গেরিলা সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত মার্কিন সমর্থনপুষ্ট বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটায়।
লেখকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিপ্লব শুধু রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি; বরং বিশ্বরাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। একবিংশ শতাব্দীতে বিপ্লবের জায়গায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রাধান্য পেলেও ইতিহাসের গতিপথ যে অনিশ্চিত, তা স্মরণ করিয়ে দেয় এই তিন বিপ্লব।
আপনার মতামত জানানঃ