ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে কখনো কখনো একটি বিপ্লবই যথেষ্ট। দীর্ঘদিনের শোষণ, বৈষম্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা যখন এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়, তখন জন্ম নিতে পারে এমন এক আন্দোলন, যা পাল্টে দেয় একটি দেশের শাসনব্যবস্থা, সমাজের কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ। গত আড়াই শতাব্দীতে পৃথিবী বহু বিপ্লব দেখেছে। আমেরিকান বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, চীনা বিপ্লব কিংবা কিউবার বিপ্লব—প্রতিটিই নিজস্ব বাস্তবতায় জন্ম নিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে রেখে গেছে গভীর ছাপ।
তবে বিংশ শতাব্দীর রাশিয়া, চীন ও কিউবার বিপ্লবের মধ্যে একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। এই তিন বিপ্লব শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, শ্রেণিসংগ্রাম এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। রাশিয়ায় লেনিন, চীনে মাও সেতুং এবং কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সংঘটিত এসব বিপ্লব পরবর্তী কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়।
এই তিন বিপ্লবের উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাস নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন ইতিহাসবিদ সাইমন হল তাঁর ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই ‘Three Revolutions: Russia, China and Cuba’-তে। বইটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিন মার্কিন লেখক ও সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিপ্লবগুলোর ইতিহাস তুলে ধরা। তাঁরা হলেন জন রিড, এডগার স্নো এবং হারবার্ট ম্যাথিউস। রুশ বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলেন জন রিড। চীনের কমিউনিস্ট আন্দোলন এবং মাও সেতুংয়ের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিয়েছিলেন এডগার স্নো। আর কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছিলেন হারবার্ট ম্যাথিউস।
এই সাংবাদিকদের লেখার গুরুত্ব শুধু ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিপ্লবী নেতাদের ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক কৌশল, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সংগ্রামের অনিশ্চিত বাস্তবতা। পশ্চিমা বিশ্বে যেসব বিপ্লবকে অনেক সময় সন্দেহের চোখে দেখা হতো, সেসব আন্দোলনের ভেতরের পরিস্থিতি বোঝার জন্য তাঁদের লেখা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে ওঠে।
রাশিয়ার বিপ্লবের পটভূমি তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। রোমানভ রাজবংশের শাসনে রাশিয়া ছিল একটি বিশাল সাম্রাজ্য। জার দ্বিতীয় নিকোলাসের হাতে ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। রাজনৈতিক বিরোধিতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সীমিত। অন্যদিকে দেশের অধিকাংশ কৃষক জমির মালিকানা ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। দ্রুত শিল্পায়নের ফলে শহরগুলোতে শ্রমিক শ্রেণির বিস্তার ঘটলেও তাঁদের কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অনিরাপদ কর্মস্থল শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ রাশিয়ার এই সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। ১৯১৪ সালে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক সৈন্যের প্রাণহানি, খাদ্যসংকট, পরিবহনব্যবস্থার বিপর্যয় এবং সরকারের ব্যর্থতা জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর মধ্যেও মনোবল কমতে থাকে। যুদ্ধের ময়দানে পরাজয় এবং রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে দেয়।
১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদে খাদ্যসংকট ও যুদ্ধবিরোধী অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত গণআন্দোলনে রূপ নেয়। শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং সেনাদের বিদ্রোহ পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে চলা রোমানভ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর গঠিত হয় অস্থায়ী সরকার। কিন্তু নতুন সরকারও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে বের করে আনা, কৃষকদের জমির দাবি পূরণ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে বিপ্লবী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। লেনিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুদ্ধের অবসান, কৃষকদের জমি এবং শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। ‘শান্তি, জমি ও রুটি’ স্লোগানটি সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অস্থায়ী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমতে থাকায় বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা বাড়ে।
১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে বলশেভিকরা পেত্রোগ্রাদে সশস্ত্র অভ্যুত্থান শুরু করে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো দখলের মাধ্যমে তারা অস্থায়ী সরকারের ক্ষমতা কার্যত অকার্যকর করে দেয়। শীতপ্রাসাদ দখলের ঘটনা এই বিপ্লবের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হয়ে ওঠে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন মার্কিন সাংবাদিক জন রিড। তিনি বিপ্লবের সময় পেত্রোগ্রাদে অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর বিখ্যাত বই ‘Ten Days That Shook the World’ প্রকাশিত হয় ১৯১৯ সালে। বইটিতে তিনি বিপ্লবের উত্তাল পরিবেশ, রাজনৈতিক বিতর্ক, শ্রমিক ও সৈন্যদের ভূমিকা এবং বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের ঘটনাগুলো তুলে ধরেন।
রিডের বর্ণনায় শীতপ্রাসাদ দখলের পর বিপ্লবীদের আচরণের একটি উল্লেখযোগ্য দিক পাওয়া যায়। প্রাসাদের মূল্যবান সম্পদ লুটপাট থেকে রক্ষা করতে কয়েকজন বিপ্লবী স্বেচ্ছায় পাহারার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এসব সম্পদ জনগণের সম্পত্তি। একই সময়ে নতুন অস্থায়ী প্রশাসনের প্রতিনিধিদের প্রবেশের বিরোধিতা করে একজন বিপ্লবী নাবিক কঠোর অবস্থান নেন। এই ঘটনাগুলো বিপ্লবের সময়কার উত্তেজনা এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
লেনিনের ব্যক্তিত্ব নিয়েও জন রিডের পর্যবেক্ষণ ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। রিড তাঁকে এমন একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি আলোচনার সময় অত্যন্ত মনোযোগী এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে দৃঢ় ছিলেন। বিপ্লবের আগে লেনিনের রাজনৈতিক কৌশল, দলীয় সংগঠন এবং ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা বলশেভিক আন্দোলনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রুশ বিপ্লবের পরপরই দেশটি গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। বলশেভিক সরকারের বিরোধী বিভিন্ন শক্তি এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সংঘাতের পর বলশেভিকরা নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করে। ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন এবং শ্রমিক রাজনীতির ওপর এই বিপ্লবের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয় এবং শীতল যুদ্ধের বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
রাশিয়ার বিপ্লবের প্রায় দুই দশক পর চীনে আরেকটি বিপ্লবী সংগ্রাম নতুন মাত্রা পেতে শুরু করে। চীনের রাজনৈতিক সংকটের শিকড় ছিল আরও গভীরে। দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যিক শাসনের অবসান ঘটে ১৯১১ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে। কিন্তু রাজতন্ত্রের পতনের পর দেশটিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সামরিক শাসক, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তির প্রভাব চীনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে রেখেছিল।
চীনের অধিকাংশ মানুষ ছিলেন কৃষিজীবী। জমির মালিকানা, ঋণের বোঝা, দারিদ্র্য এবং গ্রামীণ বৈষম্য তাঁদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। শহরাঞ্চলে শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছিল। অন্যদিকে জাপানের সামরিক আগ্রাসন এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চীনের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও উসকে দেয়।
১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে থাকে। প্রথম দিকে শহরকেন্দ্রিক শ্রমিক আন্দোলন ছিল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক অভিযানের কারণে কমিউনিস্টদের অনেকেই গ্রামীণ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই বাস্তবতায় মাও সেতুং কৃষকদের সংগঠিত করার কৌশলকে বিপ্লবের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।
মাওয়ের রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শক্তি। তিনি মনে করতেন, চীনের মতো কৃষিনির্ভর সমাজে কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বিপ্লব সফল করা কঠিন। এই কৌশল প্রচলিত মার্কসবাদী বিপ্লবের শহরকেন্দ্রিক ধারণা থেকে কিছুটা ভিন্ন ছিল। গ্রামীণ এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগণের সমর্থন অর্জন এবং গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো তাঁর আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।
১৯৩৪ সালে জাতীয়তাবাদী বাহিনীর সামরিক চাপের মুখে চীনা কমিউনিস্টদের একটি বড় অংশ জিয়াংসি অঞ্চল ছেড়ে দীর্ঘ অভিযাত্রা শুরু করে। ইতিহাসে এই অভিযান লং মার্চ নামে পরিচিত। দুর্গম পাহাড়, নদী, তুষারাবৃত অঞ্চল এবং খাদ্যসংকটের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় বিপ্লবীদের। প্রায় এক লাখ সৈন্য ও দলীয় কর্মী যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত অল্পসংখ্যক মানুষ ইয়ানানে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
এই দীর্ঘ অভিযাত্রা শুধু সামরিক পিছু হটার ঘটনা ছিল না; এটি চীনা কমিউনিস্ট আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আন্দোলনের মধ্যে নতুন শক্তি তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে লং মার্চ বিপ্লবী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়।
১৯৩৬ সালে মার্কিন সাংবাদিক এডগার স্নো চীনের কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পৌঁছান এবং মাও সেতুংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি কয়েক মাস সেখানে অবস্থান করে কমিউনিস্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিপ্লবের পেছনের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বই ‘Red Star over China’।
স্নো মাওকে বর্ণনা করেছিলেন একজন চিন্তাশীল, দৃঢ়চেতা এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বোঝার ক্ষমতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে। তাঁর পর্যবেক্ষণে মাওয়ের রাজনৈতিক দক্ষতার সবচেয়ে বড় দিক ছিল কৃষকদের দাবিকে বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা। স্নোর বইটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনা কমিউনিস্টদের পরিচিতি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পশ্চিমা পাঠকদের অনেকেই প্রথমবারের মতো এই বইয়ের মাধ্যমে চীনের বিপ্লবী আন্দোলনের ভেতরের চিত্র সম্পর্কে ধারণা পান।
চীনের বিপ্লবী সংগ্রাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি আগ্রাসনের কারণে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পাশাপাশি কমিউনিস্ট ও জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের পর ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিস্টরা বিজয় অর্জন করে। ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী চীন।
চীনের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি নতুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ভূমি সংস্কার, শিল্পায়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের কর্মসূচি শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নীতির কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটে। ফলে চীনা বিপ্লবের ইতিহাসে যেমন জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে গভীর বিতর্ক ও বেদনাদায়ক বাস্তবতা।
রাশিয়া ও চীনের বিপ্লবের পর লাতিন আমেরিকার কিউবা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিউবার বিপ্লবের পেছনে ছিল স্বৈরশাসন, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। ১৯৫০-এর দশকে জেনারেল ফুলহেনসিও বাতিস্তার শাসনামলে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত দমনমূলক। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্যাতন, সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হতো।
কিউবার অর্থনীতিতে চিনি উৎপাদন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্পদ ও জমির মালিকানা ছিল অসমভাবে বণ্টিত। শহরাঞ্চলে কিছু মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং মৌসুমি কাজের অনিশ্চয়তা ছিল বড় সমস্যা। একই সঙ্গে কিউবার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেশটির জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে তরুণ আইনজীবী ফিদেল কাস্ত্রো সশস্ত্র আন্দোলনের পথে এগিয়ে যান। ১৯৫৩ সালে তিনি মনকাদা সামরিক ব্যারাকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেন। অভিযানটি ব্যর্থ হয় এবং কাস্ত্রো গ্রেপ্তার হন। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া তাঁর ভাষণ পরবর্তী সময়ে ‘History Will Absolve Me’ নামে পরিচিতি পায়। ভাষণে তিনি রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
কারাদণ্ড ভোগের পর সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পেয়ে কাস্ত্রো মেক্সিকোতে চলে যান। সেখানে তিনি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং কিউবায় ফিরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালানোর প্রস্তুতি নেন। ১৯৫৬ সালে গ্রানমা নামের একটি ছোট নৌযানে করে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে কিউবায় অবতরণ করেন। কিন্তু বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে তাঁদের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। অল্প কয়েকজন যোদ্ধা প্রাণে বেঁচে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে আশ্রয় নেন।
সংখ্যায় কম, অস্ত্রে দুর্বল এবং যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ হলেও কাস্ত্রোর দল পাহাড়ি অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। স্থানীয় জনগণের সমর্থন অর্জন, সামরিক অভিযানের সুযোগ কাজে লাগানো এবং বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো ছিল তাঁদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধীরে ধীরে আন্দোলন বিস্তৃত হতে থাকে। কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রো, আর্জেন্টাইন বিপ্লবী চে গুয়েভারা এবং অন্যান্য সহযোগীরা এই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক হারবার্ট ম্যাথিউস গোপনে কাস্ত্রোর পাহাড়ি আস্তানায় পৌঁছান। তিনি কাস্ত্রোর সাক্ষাৎকার নেন এবং তাঁর নেতৃত্ব, আদর্শ ও আন্দোলনের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। বাতিস্তা সরকারের প্রচারণায় কাস্ত্রোর আন্দোলনের শক্তি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, ম্যাথিউসের প্রতিবেদন তা অনেকাংশে ভেঙে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাস্ত্রোর পরিচিতি বাড়ে এবং কিউবার তরুণদের মধ্যে বিপ্লবী আন্দোলন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়।
ম্যাথিউস কাস্ত্রোকে একজন শিক্ষিত, আদর্শনিষ্ঠ, সাহসী এবং অসাধারণ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর প্রতিবেদনে কাস্ত্রোর ব্যক্তিত্ব ও সংগ্রামের যে চিত্র ফুটে ওঠে, তা কিউবার বিপ্লবের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৫৮ সালে বাতিস্তা সরকার বিপ্লবীদের দমন করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু গেরিলা বাহিনীর প্রতিরোধ, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং সেনাবাহিনীর দুর্বলতা পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে কিউবার বিপ্লব বিজয় অর্জন করে।
বিপ্লবের পর কিউবায় ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়। ভূমি সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে কাস্ত্রোর সরকারের সমালোচনাও তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিউবা সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়। ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট শীতল যুদ্ধকে পারমাণবিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।
রাশিয়া, চীন ও কিউবার বিপ্লবের মধ্যে সময়, সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। প্রতিটি বিপ্লবের পেছনে ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি গভীর অসন্তোষ। প্রতিটি আন্দোলনই সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রত্যাশাকে নিজেদের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তিন বিপ্লবেই সংগঠিত নেতৃত্ব, প্রচার, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তবে এসব বিপ্লবের সাফল্যকে শুধু নেতাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। রাশিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিপর্যয় ও রাজতন্ত্রের দুর্বলতা, চীনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কৃষকদের অসন্তোষ এবং কিউবার ক্ষেত্রে বাতিস্তা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ছিল বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অর্থাৎ নেতৃত্বের পাশাপাশি সময়ের বাস্তবতা এবং সামাজিক পরিস্থিতিও বিপ্লবের গতিপথ নির্ধারণ করেছে।
এই তিন বিপ্লবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা। জন রিড, এডগার স্নো ও হারবার্ট ম্যাথিউসের লেখা বিপ্লবগুলোর ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। তাঁরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এমন সব ঘটনা তুলে ধরেছিলেন, যা শুধু সরকারি বিবৃতি বা রাজনৈতিক প্রচারণা থেকে জানা সম্ভব ছিল না। তাঁদের লেখায় বিপ্লবী নেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন, যুদ্ধের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতাও উঠে আসে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম এবং জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে রাশিয়া, চীন ও কিউবার বিপ্লব প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধের সময় এসব বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। একদিকে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও উদার গণতন্ত্রের ধারণা, অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মডেল—এই দুই ধারার সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে কয়েক দশক ধরে প্রভাবিত করে।
তবে বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা সব সময় বিপ্লবের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। রাশিয়া, চীন ও কিউবায় রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করার মতো ঘটনা ইতিহাসে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিপ্লবের মাধ্যমে শোষণ ও বৈষম্য দূর করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এসব বিপ্লবের মূল্যায়নে অর্জনের পাশাপাশি ব্যর্থতা ও মানবিক মূল্যও বিবেচনা করা জরুরি।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্বরাজনীতির চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে। চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। কিউবা এখনও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যদিও অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে রাশিয়া সোভিয়েত-পরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে।
বর্তমান বিশ্বে বিপ্লবের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সংঘাত, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রাধান্য পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও বৈষম্যকে উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।
এফ এস আইয়াজউদ্দিনের বিশ্লেষণে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিপ্লবের ঢেউ কখনো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনে আসে না। কখনো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কখনো অর্থনৈতিক সংকট, আবার কখনো জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। ক্ষমতাসীনরা বিরোধী কণ্ঠকে দমন করতে পারে, কিন্তু সমাজের গভীরে জমে থাকা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে চিরদিন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
লেনিনের রাজনৈতিক চিন্তায় নিষ্ক্রিয় আলোচনা ও বাস্তব উদ্যোগের মধ্যে যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছিল, তা বিপ্লবের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাত্ত্বিক পরিকল্পনা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সংগঠিত পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক আন্দোলন কার্যকর হয়ে ওঠে। রাশিয়া, চীন ও কিউবার বিপ্লবের ইতিহাসে এই বাস্তবতার বিভিন্ন রূপ দেখা যায়।
তিন বিপ্লবের ইতিহাস তাই কেবল অতীতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিবরণ নয়। এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষমতা, আদর্শ এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অংশ। লেনিন, মাও সেতুং ও ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সংঘটিত এসব বিপ্লব একদিকে যেমন নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তাদের পরবর্তী ইতিহাস নতুন প্রশ্ন ও বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ব ইতিহাসের এই তিনটি অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোনো রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা বদলায়, সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিপ্লবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই—ইতিহাসের গতিপথ কখনো পুরোপুরি স্থির থাকে না; মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও সময়ের পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।
আপনার মতামত জানানঃ