ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার সব নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা সবাইকে মেনে নিতে হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, শিক্ষা, জুলাই জাদুঘর, পার্বত্য অঞ্চলের খাদ্য সরবরাহ এবং কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিকে ঘিরে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। তিনি যদি দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে তার অধিকার নিশ্চিত করে আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে একই সঙ্গে আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যত গুরুতর অপরাধেই অভিযুক্ত হন না কেন, তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই নীতির বাইরে শেখ হাসিনা বা অন্য কোনো ব্যক্তিকেও রাখা হবে না। অর্থাৎ দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিচারিক বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির পথেই এগোবে।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। সাকিব আল হাসানের বিষয়ে তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আল হাসানের দক্ষতা থাকলেও রাজনৈতিকভাবে তার অবস্থান নিয়ে সরকারের সমালোচনা রয়েছে। সাকিব আল হাসান দেশে ফিরলে নিরাপত্তার সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ মোকাবিলা করতে পারবেন বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি অভিযোগ করেন, সাকিব আল হাসান শেখ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন ছিলেন এবং এখনো সেই অবস্থানে রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সময়কার রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দেশে আর কোনো ‘মাফিয়া রেজিম’ দেখতে চায় না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা হতে দেয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের কাঠামো গণতান্ত্রিক হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের অবস্থানের কারণে কাউকে আইনের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা কিংবা সাকিব আল হাসান—যিনিই হোন না কেন, সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তবে অধিকার নিশ্চিত করার অর্থ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়। বরং অভিযোগের বিচার আইন ও আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাদুঘর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। জাদুঘরটি চালুর শুরুতে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দর্শনার্থীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে জাদুঘর পরিদর্শন করছেন।
জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতি মাসে একটি দিন স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হবে। ওইদিন সরকারি উদ্যোগে বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুলাই জাদুঘরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস এবং গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের সুযোগ পাবে বলে মনে করছে সরকার।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে ইতিহাস জানার পরিবর্তে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর স্মৃতি ও নিদর্শনের সঙ্গে পরিচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জুলাই জাদুঘরকে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক স্থান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও বাস্তব ও প্রত্যক্ষ করার চেষ্টা করা হবে।
এই উদ্যোগ শুধু জুলাই জাদুঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। জাতীয় জাদুঘরেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত করা। শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জাদুঘর পরিদর্শনের মতো বাস্তব অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য অঞ্চলের খাদ্য সরবরাহ নিয়েও সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা অনেক সময় প্রতিকূল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস, অতিবৃষ্টি কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব গুদামে প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত রাখা হলে দুর্যোগ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সময় স্থানীয়ভাবে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। দুর্গম এলাকার মানুষ যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পান, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে মজুত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে খাদ্য গুদামের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার মনে করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, এবারের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তবে সরকার বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে না। বরং শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ফলাফলকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। শিক্ষার্থীদের কত বেশি সংখ্যায় পাস করানো যায়, অনেক সময় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ফলে শুধু পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে কতটা শিখছে এবং তাদের শিক্ষার মান কেমন হচ্ছে—সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেরও সামঞ্জস্য রয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। ফল প্রকাশের সময় শিক্ষামন্ত্রীও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারের দৃষ্টিতে পরীক্ষার ফলাফলকে শুধু সংখ্যার বিচারে মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা এবং শেখার মানের দিক থেকেও দেখা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা, সাকিব আল হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান, জুলাই জাদুঘরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ, জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের পরিকল্পনা, পার্বত্য তিন জেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ এবং পরীক্ষার ফলাফল—সব মিলিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অবস্থান তুলে ধরা হয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সরকারের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং একই সঙ্গে তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়াকে আলাদা দুটি বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হলেও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচার আদালতের মাধ্যমে হবে—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন তথ্য উপদেষ্টা।
অন্যদিকে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে তার কঠোর মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। দেশের অন্যতম পরিচিত ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান ইতিমধ্যে নানা সময়ে আলোচনায় এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা তার রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করলেও একই সঙ্গে দেশে ফিরলে নিরাপত্তার সঙ্গে অভিযোগ মোকাবিলার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন।
সরকারের বক্তব্যে বারবার যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো—অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অতীতের ভূমিকা যাই হোক না কেন, বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনা ও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে করা মন্তব্যের পাশাপাশি সরকার তার ঘোষিত আইনি অবস্থানও স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে।
জুলাই জাদুঘরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের ইতিহাস ও নাগরিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতি মাসে একটি দিন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের প্রত্যক্ষ ধারণা তৈরির সুযোগ হবে। একইভাবে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পার্বত্য তিন জেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্তও সরকারের বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে খাদ্য সরবরাহে যে সংকট দেখা দিতে পারে, তা মোকাবিলায় আগে থেকেই খাদ্য মজুত রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের জন্য দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেয়া সহজ হবে।
সব মিলিয়ে তথ্য উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা, বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর, সাকিব আল হাসানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য, জুলাই জাদুঘরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের উদ্যোগ এবং পার্বত্য তিন জেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ—এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়াকে শিক্ষার মানোন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথাও জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকার একদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে শিক্ষা, ইতিহাস সংরক্ষণ ও দুর্গম অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়েও তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
আপনার মতামত জানানঃ