
৬ অক্টোবর ২০২৬, জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য পার্লামেন্ট। গোপন ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হলেন কট্টর ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা AfD-এর টোবিয়াস রাউশ। ৮২টি বৈধ ভোটের মধ্যে তিনি পেলেন ৪৮টি; বিপক্ষে পড়ল ২৯টি, বিরত থাকলেন পাঁচজন। পার্লামেন্টের নিজস্ব প্রকাশনা এই ফল নিশ্চিত করেছে। এএফপি ঘটনাটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্য পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থী দলের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার প্রথম ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই নির্বাচন দিয়ে জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, তা বলা যাবে না। স্পিকার পার্লামেন্টের নেতৃত্ব দেন; তিনি রাজ্য সরকারের প্রধান নন। কিন্তু ঘটনাটিকে শুধু একটি পদে নিয়োগ হিসেবেও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা একটি দল এখন প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপূর্ণ আসনে পৌঁছেছে। প্রশ্ন তাই শুধু AfD কত ভোট পেল, তা নয়; প্রশ্ন হলো, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা না করার সীমারেখা কোথায় এবং কীভাবে বদলাচ্ছে।
ভোটের শক্তি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা
সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে স্যাক্সনি-আনহাল্টে AfD পেয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট এবং ৮৩ আসনের মধ্যে ৩৯টি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি। স্পিকার নির্বাচনে বামপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল BSW-এর পাঁচ সদস্য আগেই রাউশকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। AfD ও BSW মিলে আসন ৪৪টি, অথচ রাউশ পেয়েছেন ৪৮ ভোট। অর্থাৎ এই দুই দলের বাইরে থেকেও অন্তত চারটি সমর্থন এসেছে। গোপন ভোটের কারণে কারা দিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
এখানেই ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য। ‘ব্র্যান্ডমাউয়ার’ বা ‘ফায়ারওয়াল’ নামে পরিচিত রীতি হলো AfD-এর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা ও সরকার গঠন থেকে মূলধারার দলগুলোর দূরে থাকা। এটি কোনো একক আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়; রাজনৈতিক অবস্থান। আনুষ্ঠানিক জোট প্রত্যাখ্যান করেও কোনো পদে ভোট দেওয়া, নির্দিষ্ট প্রস্তাবে সহযোগিতা করা কিংবা সংখ্যালঘু সরকারকে পরোক্ষভাবে টিকতে দেওয়া সম্ভব। ফলে সীমারেখাটি শুধু জোটচুক্তির প্রশ্নে বিচার করলে তার ভেতরের পরিবর্তন ধরা পড়ে না।
তবে স্পিকারের পক্ষে ভোটকে ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে ভোট হিসেবে ধরে নেওয়াও ভুল। রয়টার্সের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, AfD তখনো রাজ্য সরকার গঠনের নিশ্চিত পথ পায়নি। BSW সহযোগিতার সব সম্ভাবনা বন্ধ করেনি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক জোটে যাওয়াও প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার গঠনের অচলাবস্থা এবং স্পিকার পদে সাফল্য—দুটি বাস্তবতা পাশাপাশি আছে।
জাতীয় স্তরের পরিবর্তনও বড়। সরকারি চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেডারেল নির্বাচনে AfD-এর দ্বিতীয় ভোটের অংশ ছিল ১০.৪ শতাংশ; ২০২৫ সালে তা হয় ২০.৮ শতাংশ। দলটি পায় ১৫২টি আসন। ফলে তাদের শক্তি কেবল একটি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। আবার একটি রাজ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটকে গোটা জার্মানির সমর্থন হিসেবেও দেখানো যাবে না।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কীভাবে পরিচয়ের রাজনীতিতে যায়
AfD-এর উত্থানকে শুধু অভিবাসনবিরোধী মনোভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে চাকরি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন আড়াল হয়। আবার শুধু অর্থনৈতিক কষ্ট বললে দলটির রাজনৈতিক আদর্শ ও ভোটারের সচেতন পছন্দকে ছোট করা হয়। ক্ষোভ এবং মতাদর্শ একে অন্যকে শক্তি দিতে পারে।
জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তরের ২০২৫ সালের অর্থনীতির প্রাথমিক হিসাবে, টানা দুই বছরের সংকোচনের পর প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। এটি সর্বশেষ সংশোধিত হিসাব বলে ব্যবহার করা উচিত নয়; তবে দীর্ঘ দুর্বলতার পটভূমি বোঝায়। অর্থনীতির সামান্য বৃদ্ধি প্রত্যেক পরিবারের নিরাপত্তা ফিরে আসার সমান নয়। শিল্পে পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের উদ্বেগ ও ব্যয়ের চাপ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারণা বদলে দিতে পারে।
রয়টার্সের ফেব্রুয়ারির অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাড়িশিল্পের চাকরি নিয়ে উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে AfD-ঘনিষ্ঠ Zentrum কর্মী প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর এবং চীনা প্রতিযোগিতার চাপে থাকা শিল্পে এই উদ্যোগ দেখায়, কট্টর ডানপন্থার সংগঠন শুধু নির্বাচনী সভায় সীমিত নেই; কর্মক্ষেত্রেও জায়গা খুঁজছে।
এর রাজনৈতিক কৌশলটি বোঝা জরুরি। শিল্প প্রতিযোগিতা, আবাসনের ঘাটতি কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার বাস্তব সমস্যা সমাধান জটিল। কিন্তু এসবের ব্যাখ্যাকে ‘সরকার বাইরের মানুষের জন্য কাজ করছে, আমাদের জন্য নয়’ কথায় নামিয়ে আনলে একটি সহজ দায়ী পক্ষ পাওয়া যায়। অসন্তোষ তখন নীতির ব্যর্থতা থেকে মানুষের পরিচয়ের বিরুদ্ধে ঘুরে যেতে পারে। এটি তথ্যগুলোর ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা; প্রতিটি ভোটারের অভিপ্রায় সম্পর্কে দাবি নয়।
জার্মানির ফেডারেল রাজনৈতিক শিক্ষা সংস্থা bpb-তে প্রকাশিত বিশ্লেষণ সতর্ক করে, বেশি বেকারত্ব বা বেশি বিদেশি জনসংখ্যা থাকলেই AfD-এর ভোট বেশি হয় না। দলটির সমর্থনে রাজনৈতিক অসন্তোষ ও কট্টর ডানপন্থী বিশ্বাস প্রায়ই একসঙ্গে কাজ করে। একই বিশ্লেষণে পশ্চিমের শিল্পাঞ্চল এবং পূর্বের জনসংখ্যা হারাতে থাকা গ্রামীণ এলাকায় দলটির শক্তির আলাদা সামাজিক পটভূমি দেখানো হয়েছে।
অতএব সব AfD ভোটারকে একই পরিচয়ে ব্যাখ্যা করা দুর্বল বিশ্লেষণ। কেউ প্রতিষ্ঠিত দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, কেউ অভিবাসননীতির সমর্থক, কেউ জাতীয়তাবাদী অবস্থানের সঙ্গে একমত। কোনো রাজনৈতিক দল কীভাবে এই ভিন্ন উদ্দেশ্যকে একত্র করে, সেটিই উত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পূর্বের ক্ষোভ, মূলধারার প্রতিনিধিত্বের সংকট
পূর্ব জার্মানিতে AfD-এর শক্তি বোঝার ক্ষেত্রে পুনরেকত্রীকরণের পর পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা, প্রতিনিধিত্ব এবং নিজের অঞ্চলকে কীভাবে দেখা হচ্ছে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ‘পূর্বের মানুষ পিছিয়ে আছে বলেই ডানপন্থী’ ধরনের সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিকে অপমান করে এবং রাজনৈতিক বৈচিত্র্যও মুছে দেয়।
bpb-র পূর্ব জার্মানি নিয়ে আলোচনায় দেখা যায়, প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি বাস্তব হলেও তার ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি অতিরঞ্জিতভাবে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহৃত হয়; অন্য কিছু ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে পূর্বের মানুষের কম উপস্থিতি প্রকৃত সমস্যা। অভিজ্ঞতা এবং সেই অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক বর্ণনা এক নয়।
মূলধারার দলগুলোর সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। মানুষের ক্ষোভকে অবজ্ঞা করলে বিকল্পের দাবি জোরালো হয়। আবার ক্ষোভের ব্যাখ্যা হিসেবে সংখ্যালঘু বা অভিবাসীকে দায়ী করার ভাষা গ্রহণ করলে কট্টর ডানপন্থার বক্তব্য আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। এই দ্বিতীয় ফল অবধারিত নয়, কিন্তু মূলধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।
প্রতিনিধিত্বের সংকট নিয়ে bpb-তে প্রকাশিত আরেকটি বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, জনতুষ্টিবাদী দলগুলো নিজেদের ‘অশ্রুত মানুষের কণ্ঠ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। জোটের সমঝোতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অপূর্ণ প্রতিশ্রুতিকে তারা গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
এখানে মূলধারার দলগুলোর সাফল্য শুধু AfD-এর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার ঘোষণায় মাপা যাবে না। বাসা পাওয়া, স্থানীয় পরিষেবা, নিরাপদ কাজ ও কার্যকর প্রশাসনের প্রশ্নে মানুষ কী ফল পাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সীমারেখার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে নাগরিকের অভিজ্ঞতায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
উত্থানের মূল্য কারা দিচ্ছেন
রাজনৈতিক শক্তি বাড়লে তার প্রভাব সরকার গঠনের আগেও অনুভূত হতে পারে। এপির ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে পূর্ব জার্মানির কিছু অভিবাসী তাঁদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর বর্ণবাদী ঘটনার বৃদ্ধি প্রমাণ করার পরিসংখ্যান তখনো নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আশঙ্কা ও পরিমাপযোগ্য প্রবণতার এই পার্থক্য রাখতে হবে।
বিদেশি চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ কর্মীর ওপর নির্ভরশীল একটি সমাজে প্রশ্নটি অর্থনৈতিকও। কর্মীকে প্রয়োজনীয় বলা, কিন্তু তাঁর সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে অনিশ্চিত রাখা—এই টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ মানুষ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষতি ঘটেছে বলার জন্য আলাদা তথ্য প্রয়োজন; তবে রাজনৈতিক পরিবেশ কেন শ্রমবাজারের প্রশ্নও, তা এখান থেকে বোঝা যায়।
AfD-এর উত্থানকে পুরোনো কর্মসূচির অপরিবর্তিত বিস্তার হিসেবেও দেখা ঠিক নয়। ৫ অক্টোবর রয়টার্স একটি কৌশলপত্রের কথা জানিয়েছে, যেখানে দলের কিছু সদস্য সরাসরি ইউরো-বিরোধিতার বদলে ইইউ চুক্তি পুনরায় আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। উদ্যোগ ব্যর্থ হলে সদস্যপদ নিয়ে গণভোটের প্রস্তাবও আছে। এটি অনুমোদিত নতুন দলীয় নীতি নয়; একজন জ্যেষ্ঠ নেতা একে নীতিবদল বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এই আলোচনা থেকে অনুমান করা যায়, দলটির ভেতরে ক্ষমতার সম্ভাবনা মাথায় রেখে কর্মসূচি কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেই হিসাবও চলছে। তবে ভাষা বদলানো এবং আদর্শ বদলানো আলাদা বিষয়। কোনো দলকে পরিমিত দেখানোর প্রচেষ্টা যাচাই করতে তার অনুমোদিত নীতি ও বাস্তব আচরণ দেখতে হয়।
আইনি অবস্থান নিয়েও সতর্কতা জরুরি। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ‘নিশ্চিত কট্টর ডানপন্থী’ শ্রেণিবিন্যাসের বিরুদ্ধে AfD মামলা করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কোলোনের প্রশাসনিক আদালত মূল মামলার প্রথম পর্যায়ের নিষ্পত্তি পর্যন্ত ওই উচ্চতর শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবহার বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। আদালত দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থাবিরোধী প্রবণতার জোরালো সন্দেহের কথাও বলে। তাই সংবাদে ‘কট্টর ডানপন্থী’ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা এবং গোয়েন্দা সংস্থার আইনি শ্রেণিবিন্যাস চূড়ান্ত বলে লেখা এক নয়।
৬ অক্টোবরের স্পিকার নির্বাচন জার্মানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়নি। কিন্তু এটি দেখিয়েছে, ভোটের শক্তি যখন বাড়ে, তখন বিচ্ছিন্ন রাখার রাজনৈতিক রীতিও নতুন পরীক্ষায় পড়ে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি: সরকার গঠনের বাধা আছে, এবং এএফপির প্রতিবেদনে পার্লামেন্টের বাইরে কয়েকশ প্রতিবাদকারীর উপস্থিতিও উঠে এসেছে।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে স্পিকার নির্বাচনের বাইরে সহযোগিতা কতদূর যায়, মূলধারার দলগুলো মানুষের অসন্তোষের কী সমাধান দেয় এবং সমান নাগরিক মর্যাদা কতটা রক্ষা পায়। সব অসন্তুষ্ট ভোটারকে চরমপন্থী মনে করা যেমন ভুল, তেমনি নির্বাচনী জনপ্রিয়তাকে সংখ্যালঘুর অধিকার বা সাংবিধানিক সীমার ওপর অবাধ অনুমোদন ভাবাও ভুল। জার্মানির এই পরিবর্তন তাই একটি দলের উত্থানের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য থাকতে পারছে, তারও পরীক্ষা।
আপনার মতামত জানানঃ