বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় বাম, মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী—বিভিন্ন মতাদর্শের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা ও ভারসাম্য ছিল। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, সাম্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, জাতীয়তাবাদ, নাগরিক স্বাধীনতা—এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান আলাদা হলেও জাতীয় আলোচনায় একাধিক ধারার উপস্থিতি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ভারসাম্য ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র সরে যাচ্ছে ডানপন্থী অবস্থানের দিকে। বাম ও উদারপন্থী রাজনীতি শুধু নির্বাচনী শক্তি হারাচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে জনপরিসরেও নিজেদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের রাজনীতি কি সত্যিই ডানপন্থী চিন্তার একচ্ছত্র প্রভাবের দিকে এগোচ্ছে? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে বাম ও উদারপন্থী শক্তিগুলোর সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ কী?
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যপন্থা ও বাস্তববাদী রাজনীতির একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে বৈষ্ণব, বাউল, নাথ, সুফি ও নানা সহজিয়া ধারার প্রভাব ছিল। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক সহাবস্থানের চর্চাও সমাজকে প্রভাবিত করেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের আধুনিক চর্চা অবশ্য তুলনামূলকভাবে নতুন। ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও মতাদর্শের বিকাশ ঘটে।
ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে অনুশীলন, যুগান্তর, সূর্য সেন ও প্রীতিলতার মতো বিপ্লবীদের ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে উজ্জীবিত করেছিল। তবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বেই সম্পন্ন হয়। একই সময়ে কৃষক-প্রজাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন ঘিরে যে রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
১৯৩০-এর দশকে কৃষক-প্রজা আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। জমিদারি ব্যবস্থায় বৈষম্য, সামাজিক অপমান এবং কৃষকের অধিকারহীনতার অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তি তৈরি করেছিল। এ ধারার ধারাবাহিকতায় প্রজা সমিতি ও কৃষক-প্রজা পার্টির উত্থান ঘটে। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কৃষক-প্রজা পার্টির সাফল্য দেখিয়েছিল, ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরেও শ্রেণি ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আন্দোলনের বিস্তারের সঙ্গে মুসলিম লীগ ব্যাপক জনসমর্থন পায়। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ভাষা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও পূর্ব বাংলার অধিকার নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়, তার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী স্বাধিকার আন্দোলনে মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল ধারার নানা অংশ যুক্ত হয়। ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রস্তুতিতে বামপন্থী সংগঠন ও কর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
একসময় বাম রাজনীতি শুধু দলীয় কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না; শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক সংগঠন, ছাত্র আন্দোলন, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামেও তাদের উপস্থিতি ছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কমিউনিস্ট ও বামপন্থী প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও বামপন্থী দলগুলো কিছু আসন অর্জন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রভাব কমতে থাকে।
এই দুর্বলতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের মস্কো-পিকিং বিভাজন বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতেও বিভক্তি তৈরি করে। স্বাধীনতার পর মতাদর্শিক বিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংঘাত এবং কৌশলগত মতপার্থক্য দলগুলোকে আরও খণ্ডিত করে। গবেষকেরা বাম দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি ও দলীয় বিভাজনকে তাদের দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ফলে শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্থায়ী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেক দল সীমিত রাজনৈতিক পরিসরে আটকে পড়ে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলও বাম দলগুলোর নির্বাচনী সংকটকে সামনে এনেছে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত মনোজ দের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই জোটে বিভক্ত হয়ে বাম দলগুলো ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও অধিকাংশ আসনে জামানত হারিয়েছে এবং সম্মিলিত ভোটের হার ছিল খুবই কম। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৬৮টি আসন অর্জন করে। বিএনপি পায় ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। এই ফলাফল একদিকে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরে, অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলোর জনসমর্থন ও সাংগঠনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে।
তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডানপন্থী চিন্তার উত্থানকে শুধু একটি নির্বাচনের ফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিবর্তন। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মানুষের প্রবেশ, বৈশ্বিক ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব, আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধ এবং ২০০১ সালের পর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী রাজনীতির বিস্তার—বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করেছে। তবে এসব কারণের প্রভাব একরৈখিক নয়; অর্থনৈতিক অভিবাসন, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শের সম্পর্কও জটিল।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ, দুর্নীতি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার সংকট সমাজে ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই ক্ষোভের রাজনৈতিক ব্যবহার বিভিন্ন শক্তি বিভিন্নভাবে করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারকে ঘিরে মেরুকরণ বেড়েছে। ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চ ও শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও সমাজে বিভাজনকে গভীর করেছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আনে। আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিসরে নানা ধরনের মতাদর্শিক টানাপোড়েন সামনে আসে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়, নারী অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
প্রথম আলোর কলামিস্ট মনোজ দে তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন, অভ্যুত্থানের পর নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, লিঙ্গীয় সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী এবং পীর-মাজারপন্থী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাউল গান, মাজার এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাধা ও হামলার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার প্রতিটি আলাদাভাবে তদন্ত ও বিচার দাবি করে। তবে সামগ্রিকভাবে এগুলো নাগরিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডানপন্থী রাজনীতি বলতে সব ধর্মীয় বিশ্বাসী মানুষকে বোঝানো যায় না। ধর্ম পালন, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস কিংবা রক্ষণশীল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিজে থেকেই উগ্রবাদ বা অসহিষ্ণুতার সমার্থক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ডানপন্থার বিভিন্ন ধারা, তাদের নীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার পার্থক্য বোঝা জরুরি। একইভাবে বাম বা উদারপন্থী পরিচয় থাকলেই কোনো দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক হয়ে যায় না। দলগুলোর বাস্তব আচরণ, নাগরিক অধিকার বিষয়ে অবস্থান এবং ক্ষমতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র ডানদিকে সরে যাওয়ার একটি লক্ষণ হলো, অনেক দলই এখন নিজেদের বক্তব্যে রক্ষণশীল ভোটারদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে শ্রমিকের মজুরি, কৃষকের ন্যায্য দাম, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী শ্রমিকের অধিকার কিংবা সংখ্যালঘু নাগরিকের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অনেক সময় রাজনৈতিক বিতর্কে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। অথচ এসব প্রশ্নই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বাম ও উদারপন্থী রাজনীতির সামনে তাই প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের জনভিত্তি নতুন করে তৈরি করা। শুধু শহুরে মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো কঠিন। শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, তরুণ, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক কাজ করতে হবে। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে সংগঠন, স্থানীয় উদ্যোগ এবং নীতিনির্ভর রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় বিভাজন ও নেতৃত্বের সংকট কাটানো। মতাদর্শিক পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু অভিন্ন নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে ন্যূনতম ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব। নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নিয়মিত নেতৃত্ব নির্বাচন এবং জবাবদিহি ছাড়া নতুন রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হবে না। অতীতের ভুল, ক্ষমতাকেন্দ্রিক সমঝোতা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, উদারপন্থী রাজনীতিকে কেবল একটি প্রতিরোধী অবস্থানে আটকে থাকলে চলবে না। নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার নিয়ে বাস্তবসম্মত নীতিপ্রস্তাব দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ভাষা সহজ ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি জরুরি হলেও সেটিকে মাঠপর্যায়ের সংগঠন ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প ভাবলে চলবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে শত্রুতা হিসেবে না দেখা। গণতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক মতের বৈচিত্র্য থাকবে। কোনো গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেই অন্যদের অধিকার সীমিত করার সুযোগ পেতে পারে না। আবার সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নও দলীয় সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাবে, তা শুধু দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল দিয়ে নির্ধারিত হবে না। নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের বাস্তব সমস্যা কতটা বুঝতে পারছে, প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জবাবদিহিমূলক হচ্ছে এবং সমাজে ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে—এসব প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। বাম ও উদারপন্থী রাজনীতির সামনে তাই শুধু নির্বাচনে আসন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নেই; রয়েছে নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বহুত্ববাদী সমাজের পক্ষে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করার দায়িত্ব।
রাজনৈতিক আলোচনাকে আবার মধ্যপন্থী ও মানবিক পরিসরে ফিরিয়ে আনার কথা বলা সহজ, কিন্তু কাজটি কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন মাঠের সংগঠন, নীতিগত স্পষ্টতা, আত্মসমালোচনা এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতি। বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দিতে পারলে মতাদর্শের প্রতিযোগিতা আবারও নাগরিকের অধিকার ও কল্যাণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে।
আপনার মতামত জানানঃ