
বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে—সরকারি বক্তব্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এমন একটি আশাবাদের ভিত্তি আছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমেছে, বিনিময় হার আগের তুলনায় স্থিতিশীল এবং বহিঃখাতের ভারসাম্যও উন্নতির দিকে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর একটি নির্বাচিত সরকার, নতুন বাজেট এবং মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আস্থা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কিন্তু অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সরকারি সংজ্ঞা আর একটি নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিজ্ঞতা এক নয়। রাষ্ট্র ডলারের রিজার্ভ দিয়ে স্থিতিশীলতা মাপে; পরিবার মাপে চাল, ডাল, ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ দিয়ে। সরকার প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স দেখে; শ্রমজীবী মানুষ দেখেন মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকছে। এই দুই হিসাব পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচক উন্নত হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে সেই উন্নতির পূর্ণ প্রতিফলন এখনো পড়েনি। অর্থনীতির ব্যালান্সশিট কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, কিন্তু পরিবারের রান্নাঘর এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
ঘুরে দাঁড়ানোর দাবির পক্ষে কী আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর প্রধান অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, FY26-এ রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার—আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩০.৩৩ শতাংশ বেশি। মার্চেই এক মাসে রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ শুধু রিজার্ভ বাড়ায়নি; চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যেও স্বস্তি দিয়েছে। নমনীয় বিনিময় হার চালুর পর ডলারের বাজারে আগের অস্থিরতা কিছুটা কমেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে।
এগুলোকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ডলারের সংকট কমলে জ্বালানি, খাদ্য, কাঁচামাল ও শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ হয়। এলসি খোলার বাধা কমে, উৎপাদক ভবিষ্যৎ ব্যয়ের হিসাব তুলনামূলক নির্ভুলভাবে করতে পারেন এবং বিনিময় হারের আকস্মিক ধাক্কা থেকে বাজার কিছুটা সুরক্ষা পায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই উন্নতি বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতেও সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রেখেছে। মে মাসে ব্যাংকঋণের গড় সুদ ছিল প্রায় ১১.৯২ শতাংশ এবং আমানতের গড় সুদ ৬.২২ শতাংশ। কঠোর মুদ্রানীতি অর্থনীতির জন্য আরামদায়ক নয়, কিন্তু অতিরিক্ত ঋণ ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতিকে নিচে আনার এটি একটি প্রচলিত উপায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪.১০ শতাংশে উঠেছিল; সেই চূড়ার তুলনায় বর্তমান হার নিচে। সুতরাং অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার দাবি পুরোপুরি প্রচারণা নয়—কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সত্যিই শক্ত হয়েছে।
তবে স্থিতিশীলতা আর পুনরুদ্ধার এক জিনিস নয়। স্থিতিশীলতা মানে অবনতি থামা; পুনরুদ্ধার মানে হারানো আয়, কাজ, সঞ্চয় ও জীবনমান ফিরে পাওয়া। বাংলাদেশ এখনো প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি।
মূল্যস্ফীতি কমা মানে দাম কমা নয়
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরকারি দাবির সবচেয়ে বড় দূরত্ব তৈরি হয় মূল্যস্ফীতির ভাষায়। মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নামলে সংবাদে বলা হয় মূল্যস্ফীতি কমেছে। কিন্তু এর অর্থ পণ্যের দাম আগের জায়গায় ফিরে গেছে নয়; অর্থ হলো দাম এখনো বাড়ছে, শুধু বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। কয়েক বছরে জমে ওঠা মূল্যবৃদ্ধি পরিবারের মাসিক বাজেটে স্থায়ীভাবে বসে গেছে।
বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট FY26-এ গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকার কথা বলেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের মজুরি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের তথ্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ, আর মজুরি বৃদ্ধির হার ৮.০৯ শতাংশ। কাগজে ব্যবধানটি শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ পয়েন্ট; কিন্তু কম আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে খাদ্য, ভাড়া ও পরিবহনের মতো অপরিহার্য খাত মোট ব্যয়ের বড় অংশ হওয়ায় বাস্তব চাপ আরও বেশি অনুভূত হয়।
এখানে আরেকটি সমস্যা আছে। মজুরি সূচক গড় প্রবণতা দেখায়, কিন্তু বেকার, অনিয়মিত শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহকর্মী বা নির্দিষ্ট আয়ের অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আয় একই হারে বাড়ে না। সরকারি কর্মচারীর নতুন বেতনকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বেতন সমন্বয় অর্থনীতির বড় অনানুষ্ঠানিক অংশের জন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা তৈরি করে না। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার খবর এলেও বহু পরিবারের প্রতিক্রিয়া হয়—বাজারে তো তার প্রমাণ নেই। এই প্রতিক্রিয়া তথ্যের অজ্ঞতা নয়; এটি ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতার বর্ণনা।
প্রবৃদ্ধির আগে আয় ও কাজের প্রশ্ন
বিশ্বব্যাংক FY26-এ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস কিছুটা বেশি—৪.৭ শতাংশ। দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমানে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের বার্তা একই: অর্থনীতি বাড়ছে, কিন্তু বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার তুলনায় ধীরে। জনসংখ্যা ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ার দেশে এই প্রবৃদ্ধি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কাজ তৈরির জন্য দুর্বল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে থাকার কথা এসেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের নিচে। একই সময়ে বৃহৎ শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়েছে। উচ্চ ঋণসুদ, জ্বালানি অনিশ্চয়তা, দুর্বল ব্যাংক, আমলাতান্ত্রিক ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে সংশয় নতুন বিনিয়োগকে আটকে রাখে। রেমিট্যান্স একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু দেশের ভেতরে উৎপাদনশীল চাকরির বিকল্প হতে পারে না।
সরকার প্রযুক্তি খাতে বছরে দুই লাখ প্রত্যক্ষ এবং প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল, জেলা–উপজেলায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণও বাজেটের অংশ। লক্ষ্যগুলো ইতিবাচক, কিন্তু কতজন চাকরি পেলেন, কাজটি কত দিন টিকল, আয় কত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কত শতাংশ কর্মে প্রবেশ করলেন—এসবের নিয়মিত প্রকাশ্য ড্যাশবোর্ড ছাড়া ঘোষণাকে ফল হিসেবে গণ্য করা যায় না।
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ জিডিপির একটি সংখ্যা নয়; সেটি হবে ভালো মজুরির নতুন কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি এবং একটি পরিবারের ঋণ না করে প্রয়োজনীয় ব্যয় চালাতে পারা।
দারিদ্র্য ও সঞ্চয়: আঘাতের গভীর হিসাব
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ২১.৪ শতাংশে উঠেছে। এক বছরে নয়, কয়েক বছরের মূল্যস্ফীতি, আয়হানি ও অর্থনৈতিক ধীরগতির সম্মিলিত প্রভাবে ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। এই সংখ্যা দেখায় যে অর্থনৈতিক সংকট কেবল দরিদ্র মানুষের সমস্যা ছিল না; নিম্ন-মধ্যবিত্তের একটি অংশও সুরক্ষার সীমার নিচে নেমে গেছে।
একটি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও তার জীবনমান দুর্বল হতে পারে। খাদ্যে মাছ-মাংস কমানো, চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া, সন্তানের কোচিং বন্ধ করা, বাসা বদলানো, সঞ্চয় ভাঙা বা পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার নেওয়া—এসব কোনো মাসিক প্রবৃদ্ধির সূচকে ধরা পড়ে না। অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রথম পর্যায়ে মানুষ অনেক সময় আগের ভোগে ফেরে না; আগে নেওয়া ঋণ শোধ করে এবং ক্ষয় হওয়া সঞ্চয় পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। তাই আয় বাড়লেও জীবনমানের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেরিতে আসে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতাও সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩০.৬ শতাংশে পৌঁছেছিল বলে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে। বড় ঋণগ্রহীতার খেলাপি ঋণ শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের মূলধন, আমানতকারীর আস্থা, সরকারের পুনঃমূলধনীকরণ ব্যয় এবং ভালো গ্রাহকের ঋণের সুদে চাপ সৃষ্টি করে। মে মাসে ঋণের গড় সুদ প্রায় ১২ শতাংশ হওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন। ব্যাংক পরিষ্কার না হলে কর্মসংস্থান ও পরিবারের আয় পুনরুদ্ধারও ধীর হবে।
পুনরুদ্ধারকে মানুষের জীবনে পৌঁছাতে কী প্রয়োজন
প্রথম প্রয়োজন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে শুধু সুদের হারের ওপর ছেড়ে না দেওয়া। খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয়, বাজারে প্রতিযোগিতা, গুদাম ও আমদানি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। কঠোর মুদ্রানীতি চাহিদা কমাতে পারে, কিন্তু সিন্ডিকেট, দুর্বল প্রতিযোগিতা বা সরবরাহের অপচয় দূর করতে পারে না। দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা ও খাদ্য কর্মসূচি এমনভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করা প্রয়োজন, যাতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা পায়।
দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিকে পরিমাপযোগ্য করতে হবে। প্রতি তিন মাসে খাতভিত্তিক নতুন চাকরি, প্রকৃত মজুরি, নারী ও যুব কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণের পর চাকরিপ্রাপ্তি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ঋণপ্রবাহ প্রকাশ করা উচিত। শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা দেখালে কর্মসংস্থানের বাস্তব ফল জানা যায় না।
তৃতীয়ত, ব্যাংক সংস্কারে লোকসান গোপন বা নতুন করে পুনঃতফসিলের বদলে দায় নির্ধারণ, সম্পদ পুনরুদ্ধার, পরিচালকের জবাবদিহি এবং আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাকে উচ্চ সুদের শাস্তি দিয়ে প্রভাবশালী খেলাপিকে ছাড় দিলে উৎপাদনশীল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
চতুর্থত, রাজস্বনীতি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। FY25-এ কর–জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। এত কম রাজস্বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নগরসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো কঠিন। কিন্তু রাজস্ব বাড়ানোর সহজ পথ হিসেবে ভোগ্যপণ্যে পরোক্ষ কর চাপালে নিম্ন ও মধ্যবিত্তই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সম্পদ, উচ্চ আয়, কর ফাঁকি ও অযৌক্তিক কর ছাড়ের দিকে বেশি মনোযোগ না দিলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার খরচ আবার সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ধসের দিক থেকে সরে স্থিতিশীলতার দিকে এসেছে—এই দাবি আংশিক সত্য। রেমিট্যান্স, রিজার্ভ, বিনিময় হার ও বহিঃখাতের উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের ভিত্তি তৈরি করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের বিচারে ঘুরে দাঁড়ানো এখনো অসম্পূর্ণ। মূল্যস্ফীতি উঁচু, প্রকৃত মজুরি চাপের মধ্যে, দারিদ্র্য বেড়েছে, বিনিয়োগ ও বেসরকারি ঋণ দুর্বল, আর উচ্চ সুদ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে আটকে রাখছে।
সরকারের সাফল্য শুধু এই দিয়ে মাপা যাবে না যে রিজার্ভ কত বাড়ল বা মূল্যস্ফীতির হার কত নামল। দেখতে হবে একটি শ্রমজীবী পরিবার আগের তুলনায় ভালো খাবার কিনতে পারছে কি না, চিকিৎসা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে কি না, সন্তানের শিক্ষা চালাতে ঋণ নিতে হচ্ছে কি না এবং একজন তরুণ সম্মানজনক মজুরির কাজ পাচ্ছেন কি না। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার তখনই পূর্ণ হবে, যখন রাষ্ট্রের উন্নত সূচক পরিবারের জীবনমানেও দৃশ্যমান হবে। তার আগে “অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে” বলা সম্ভবত সময়ের আগেই দেওয়া একটি রায়।
আপনার মতামত জানানঃ