
বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামোর অভাবই একমাত্র সমস্যা নয়। কাগজে-কলমে বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সঞ্চালন লাইন আছে, আমদানির ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু এসব কেন্দ্র চালানোর মতো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, কয়লা, তেল কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় সংকটটি উৎপাদনক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানির প্রাপ্যতা ও অর্থায়নের জায়গায়।
এই বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে সরকারের নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনায়। ১৩ আগস্ট থেকে দোকান, বাজার ও বিপণিবিতান রাত আটটার মধ্যে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং খাবারের ব্যবসা এর বাইরে থাকবে।
সরকারের যুক্তি—সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা কমানো প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা কি দীর্ঘদিন দোকানের বাতি নিভিয়ে, অফিসের সময় কমিয়ে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে চালানো যায়? নাকি এই ব্যবস্থা মূল সমস্যাকে আড়াল করে সংকটের বোঝা সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ওপর সরিয়ে দিচ্ছে?
সক্ষমতা আছে, উৎপাদন নেই
বাংলাদেশ গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের পাশাপাশি তেল, কয়লা ও আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে। বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এক বিষয় নয়। একটি কেন্দ্র তখনই কার্যকর সম্পদ, যখন সেটিকে প্রয়োজনমতো চালানোর জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন সক্ষমতা ও অর্থ থাকে। জ্বালানি না থাকলে হাজার হাজার মেগাওয়াটের স্থাপিত সক্ষমতা কেবল পরিসংখ্যান হয়ে থাকে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। অথচ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও অনুসন্ধানের গতি প্রয়োজনের তুলনায় ধীর। পুরোনো ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা চললেও দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, ১১ আগস্ট সকাল থেকে ১২ আগস্ট সকাল পর্যন্ত এলএনজিসহ মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ২,১০৯.৬ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ, শিল্প, সার কারখানা, সিএনজি ও গৃহস্থালি—সব খাতের সম্মিলিত চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ যথেষ্ট নয়। ফলে সরকারকে প্রায়ই ঠিক করতে হয়, সীমিত গ্যাস কার কাছে যাবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেশি গ্যাস দিলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। শিল্পে গ্যাস দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে। সার কারখানা চালালে অন্য খাতে ঘাটতি তৈরি হয়। অর্থাৎ সংকটটি শুধু বিদ্যুতের নয়; এটি গোটা অর্থনীতির মধ্যে সীমিত জ্বালানি ভাগ করে দেওয়ার সংকট।
আমদানি এখন প্রয়োজন, আবার ঝুঁকিও
দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির পথে গেছে। শুরুতে এটিকে দ্রুত সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু এলএনজি আমদানির সঙ্গে তিনটি বড় ঝুঁকি যুক্ত—আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং ডলারের প্রাপ্যতা।
বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গেলে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। ডলারের সংকট দেখা দিলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমদানি কমাতে হয়। আবার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি বা প্রতিকূল আবহাওয়া দেখা দিলে হঠাৎ করেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে।
চলমান ইরান সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এলএনজির সরবরাহ ও দাম নিয়ে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বাংলাদেশ এমন একটি বাজারে জ্বালানি কিনছে, যেখানে ধনী দেশগুলো বেশি দাম দিয়ে দ্রুত চালান নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশের মতো সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার দেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা সেখানে তুলনামূলকভাবে কম।
রয়টার্সের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন কমে আসায় বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। একটি এলএনজি টার্মিনালের সাম্প্রতিক বিঘ্নও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করেছে।
এই নির্ভরতাই শিরোনামের মূল প্রশ্ন সামনে আনে—বাংলাদেশের আলো এখন কার হাতে? সিদ্ধান্ত ঢাকায় নেওয়া হলেও সেই আলো জ্বলবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ, বিদেশি সরবরাহকারী, ডলারের মজুত এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের ওপর।
রাত আটটায় বাজার বন্ধে কতটা সমাধান?
পাওয়ার ডিভিশনের নির্দেশনার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই বাজার ও দোকানের সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সন্ধ্যায় বিপণিবিতান, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও বিলবোর্ড বন্ধ হলে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমবে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। জরুরি অবস্থায় চাহিদা ব্যবস্থাপনা একটি স্বীকৃত পদ্ধতিও। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা তখনই যৌক্তিক, যখন তা স্বল্পমেয়াদি এবং সমস্যার উৎস সমাধানের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হয়।
বাংলাদেশে একই ধরনের সাশ্রয়ী নির্দেশনা বারবার ফিরছে। কখনো অফিসের সময় কমছে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে, কখনো বাজার আগে বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, এগুলো আর বিচ্ছিন্ন জরুরি ব্যবস্থা নয়; বরং জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার পুনরাবৃত্ত প্রকাশ।
এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বড় বিপণিবিতান এক ঘণ্টা আগে বন্ধ করলে কিছু বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে। কিন্তু সেই একই ঘণ্টা অনেক ক্ষুদ্র দোকানি, পরিবহনকর্মী, রেস্তোরাঁর সরবরাহকারী ও দৈনিক আয়ের শ্রমিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসময়। দিনের গরম ও যানজট এড়িয়ে অনেক ক্রেতা সন্ধ্যার পর বাজারে যান। সময় কমলে ব্যবসা শুধু অন্য সময়ে স্থানান্তরিত হবে, নাকি মোট বিক্রি কমবে—সরকারের কাছে তার কোনো প্রকাশ্য প্রভাব মূল্যায়ন আছে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।
সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং আর্থিক ক্ষতির তুলনামূলক হিসাব প্রকাশ না করে কেবল নির্দেশনা দিলে নীতিটির কার্যকারিতা যাচাই করা কঠিন। বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন, কিন্তু তার ব্যয় কে বহন করবে—সেটিও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
অতিরিক্ত কেন্দ্র নির্মাণের রাজনৈতিক অর্থনীতি
বাংলাদেশের বিদ্যুৎনীতি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। দ্রুত কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়। পরে বড় কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়।
কিন্তু এই নীতিতে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্র ব্যবহারের হার এবং ভবিষ্যৎ বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছিল কি না—এখন সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলে না। কিছু কেন্দ্র না চললেও চুক্তি অনুযায়ী সক্ষমতা বাবদ অর্থ দিতে হয়। অন্যদিকে জ্বালানির অভাবে কার্যকর কেন্দ্রও বন্ধ রাখতে হয়।
এভাবে ভোক্তা একটি অদ্ভুত দ্বৈত ব্যয় বহন করেন। কর ও সরকারি অর্থের মাধ্যমে কেন্দ্র নির্মাণ ও সক্ষমতার খরচ দিতে হয়; আবার বিদ্যুৎ না পেয়ে জেনারেটর, আইপিএস, ব্যাটারি কিংবা সৌরব্যবস্থার জন্য আলাদা খরচ করতে হয়। শিল্পকারখানা উৎপাদন হারায়, ক্ষুদ্র ব্যবসা বিক্রি হারায় এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় পণ্যের দামের মধ্যে যুক্ত হয়।
বিদ্যুৎ সংকট তাই শুধু অন্ধকারে থাকার অসুবিধা নয়। এটি মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, রপ্তানি প্রতিযোগিতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
কয়লা কি নিরাপত্তা দেবে?
গ্যাস সংকটের মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানো হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বড় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশও আমদানিনির্ভর। অর্থাৎ গ্যাসের বদলে কয়লা ব্যবহার করলেও আন্তর্জাতিক বাজার, সমুদ্রপথ ও ডলারের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
একই সঙ্গে কয়লা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য বড় মূল্য তৈরি করে। তাই এক আমদানিনির্ভর জ্বালানি থেকে অন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানিতে যাওয়া প্রকৃত জ্বালানি নিরাপত্তা নয়। এতে কেবল নির্ভরতার ধরন বদলায়।
বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা এবং বহুমুখী আমদানি ব্যবস্থার সমন্বয়। কোনো একক উৎসকে অলৌকিক সমাধান হিসেবে দেখলে ভবিষ্যতে একই সংকট ফিরে আসবে।
সমাধানের পথ কোথায়?
প্রথমত, স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানকে প্রকৃত জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্র, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, অনুসন্ধানের সময়সীমা এবং ফলাফল নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। দেশীয় গ্যাস আবিষ্কার রাতারাতি সম্ভব নয়, কিন্তু অনুসন্ধান স্থগিত রাখলে ভবিষ্যৎ ঘাটতি নিশ্চিত।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু কত মেগাওয়াট কেন্দ্র তৈরি হলো, সেটিকে সাফল্যের সূচক হিসেবে দেখার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। কেন্দ্রটি বছরে কত সময় চালানো গেল, কী দামে বিদ্যুৎ দিল এবং কত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলো—এসব তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণকে ছাদে কয়েকটি প্যানেল স্থাপনের প্রতীকী কর্মসূচি থেকে বের করতে হবে। শিল্পকারখানা, সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিতে ছাদভিত্তিক সৌরব্যবস্থা দিনের চাহিদার একটি অংশ কমাতে পারে। ব্যাটারি সংরক্ষণ, স্মার্ট গ্রিড এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতি সবার জন্য সমান ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। শুধু দোকানদারকে আগে বাতি নেভাতে বললে হবে না। সরকারি ভবন, বিলাসবহুল স্থাপনা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং বড় বাণিজ্যিক গ্রাহকের দক্ষতা—সব ক্ষেত্রেই পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য প্রয়োজন। সরকারকে জানাতে হবে কোন ব্যবস্থা থেকে কত মেগাওয়াট সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে, জ্বালানি খাতের চুক্তি, মূল্য নির্ধারণ, সক্ষমতা ব্যয় এবং আমদানি সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা আনতে হবে। অস্বচ্ছতা থাকলে সংকটের প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা যায় না। তখন প্রতিবার আন্তর্জাতিক বাজার বা যুদ্ধকে দায়ী করা সহজ হয়, কিন্তু দেশের ভেতরের নীতিগত ভুলগুলো আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ গ্যাস ও এলএনজির ঘাটতি হতে পারে। কিন্তু গভীরতর কারণ হলো এমন এক উন্নয়ন কৌশল, যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে জ্বালানি নিরাপত্তার সমার্থক ধরে নেওয়া হয়েছিল। এখন বোঝা যাচ্ছে, কেন্দ্র থাকা আর আলো থাকা এক কথা নয়।
দোকানের শাটার রাত আটটায় নামিয়ে সাময়িকভাবে কিছু বিদ্যুৎ বাঁচানো যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের আলো নিরাপদ করতে হলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আরও গভীর জায়গায়—দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান, আমদানির ঝুঁকি কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির বাস্তব সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
তা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের মাটিতেই থাকবে, কিন্তু সেগুলো চলবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত থেকে যাবে বিদেশি বাজার, জ্বালানি জাহাজ, ডলারের জোগান এবং দূরদেশের যুদ্ধের হাতে।
আপনার মতামত জানানঃ