আজকের পৃথিবীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলতে আমরা বুঝি অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার, এক্স-রে, এমআরআই, অ্যান্টিবায়োটিক, কৃত্রিম অঙ্গ, জেনেটিক পরীক্ষা কিংবা রোবটের সাহায্যে অপারেশন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে যখন পৃথিবীতে আধুনিক হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কিংবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারের অস্তিত্বই ছিল না, তখন মানুষ কীভাবে রোগের চিকিৎসা করত? কীভাবে ভাঙা হাড় জোড়া লাগাত, ক্ষতস্থান পরিষ্কার করত, দাঁতের চিকিৎসা করত কিংবা মাথার খুলিতে অস্ত্রোপচার চালাত?
ইতিহাসের পাতা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলছে, প্রাচীন মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থা আমাদের প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু উপত্যকা এবং অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতায় চিকিৎসা, ওষুধ তৈরি, শল্যচিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের নানা পদ্ধতি গড়ে উঠেছিল। অবশ্য তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের মৌলিক পার্থক্যও ছিল। পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস, জাদুবিদ্যা এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির ধারণা।
প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে, নীলনদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন মিশর ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মিশরীয়রা শুধু বিশাল পিরামিড নির্মাণ কিংবা মৃতদেহ সংরক্ষণের কৌশলেই দক্ষ ছিল না, মানুষের শরীর সম্পর্কেও তাদের উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ছিল। মৃতদেহ মমি করার প্রক্রিয়ায় তারা বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। যদিও আধুনিক শারীরবিদ্যার মতো পূর্ণাঙ্গ ধারণা তাদের ছিল না, তবু মানবদেহের বিভিন্ন অংশ, ক্ষত এবং রোগের লক্ষণ সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণ ছিল বিস্ময়কর।
প্রাচীন মিশরের চিকিৎসাব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন চিকিৎসাবিষয়ক প্যাপিরাসে। এর মধ্যে এডউইন স্মিথ প্যাপিরাস এবং এবার্স প্যাপিরাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এডউইন স্মিথ প্যাপিরাসের বর্তমান রূপটি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ সালের। তবে গবেষকদের ধারণা, এর কিছু চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান আরও পুরোনো উৎস থেকে এসেছে, সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ পর্যন্ত যার শিকড় বিস্তৃত।
এই প্যাপিরাসে মোট ৪৮টি আঘাতসংক্রান্ত চিকিৎসার বিবরণ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু মন্ত্র বা ধর্মীয় আচার নয়, বরং রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, ক্ষত পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। মাথায় আঘাত, মেরুদণ্ডের সমস্যা, হাড়ের ক্ষতি এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতের বিবরণ এতে পাওয়া যায়।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই প্রাচীন চিকিৎসা নথিতে মস্তিষ্কের বাইরের আবরণ, মাথার খুলির বিভিন্ন অংশ এবং মস্তিষ্কের আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। চিকিৎসকরা রোগীর কথা বলার ক্ষমতা, চলাফেরা এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে আঘাতের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরিবর্তে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হতো। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের একটি চিকিৎসা নথিতে রোগের পূর্বাভাস বা প্রগনসিস নির্ধারণের ধারণাও পাওয়া যায়।
এবার্স প্যাপিরাস প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৫০ সালের এই নথিতে শত শত চিকিৎসাপদ্ধতি, ওষুধের উপাদান এবং রোগের লক্ষণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগ, পেটের অসুখ, প্রস্রাবের সমস্যা এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসার বিবরণ এতে পাওয়া যায়। উদ্ভিদ, খনিজ ও প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার করে ওষুধ তৈরির পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসকরা মধু, তেল, বিভিন্ন উদ্ভিদের নির্যাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতেন। ক্ষতস্থানে মধু প্রয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আধুনিক গবেষণায় নির্দিষ্ট ধরনের মধুর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য প্রমাণিত হয়েছে। তবে প্রাচীনকালে ব্যবহৃত সব ধরনের মধু বা মিশ্রণ যে কার্যকর ছিল, এমন দাবি করা যায় না। একইভাবে কিছু উদ্ভিদে ঔষধি উপাদান থাকলেও সেগুলোর সব ব্যবহার নিরাপদ ছিল না।
শুধু মিশর নয়, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী মেসোপটেমিয়া অঞ্চলও ছিল প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় চিকিৎসা ছিল দুই ধরনের ধারার সমন্বয়। একদিকে ছিলেন এমন চিকিৎসক, যারা বিভিন্ন উদ্ভিদ, খনিজ ও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করতেন। অন্যদিকে ছিলেন ধর্মীয় আচার ও মন্ত্রের মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা।
মেসোপটেমিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত কিউনিফর্ম লিপির মাটির ফলকগুলোতে চোখের রোগ, মাথাব্যথা, জ্বর এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসার বিবরণ পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে চিকিৎসাবিষয়ক লিখিত নথির অস্তিত্ব ছিল। এসব নথিতে রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসার উপকরণ এবং ওষুধ প্রয়োগের পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। অর্থাৎ চিকিৎসাজ্ঞান শুধু একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তা লিখিত আকারে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও তৈরি হয়েছিল।
প্রাচীন মানুষের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি ছিল অস্ত্রোপচার। আজকের দিনে মাথার খুলিতে অস্ত্রোপচারকে অত্যন্ত জটিল চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বলছে, পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি আগে মানুষ মাথার খুলিতে ছিদ্র করার মতো অস্ত্রোপচার করত। এই পদ্ধতির নাম ট্রেপানেশন।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বহু মানুষের মাথার খুলি আবিষ্কার করেছেন, যেখানে পরিকল্পিতভাবে গোলাকার বা অন্য আকৃতির ছিদ্র তৈরি করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু খুলিতে হাড় পুনরায় গজানোর চিহ্ন রয়েছে। এর অর্থ, অস্ত্রোপচারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিছু সময় বেঁচে ছিলেন। অর্থাৎ এটি শুধু মৃতদেহের ওপর কোনো আচার ছিল না; জীবিত মানুষের ওপরও এমন অস্ত্রোপচার করা হতো।
কেন প্রাচীন মানুষ মাথার খুলিতে ছিদ্র করত? এর সুনির্দিষ্ট উত্তর সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথায় আঘাতের পর চাপ কমানো, আবার কোনো ক্ষেত্রে অসুস্থতা বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আধুনিক নিউরোসার্জারির সঙ্গে প্রাচীন ট্রেপানেশনের সরাসরি সমতুল্য টানা ঠিক হবে না। তাদের কাছে অ্যানেসথেশিয়া, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ কিংবা আধুনিক অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না।
হাড় ভাঙা এবং ক্ষত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রাচীন মানুষের অভিজ্ঞতা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে উদ্ধার করা কিছু কঙ্কালে ভাঙা হাড় সঠিক অবস্থানে জোড়া লাগার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হয়, প্রাচীন চিকিৎসকরা ভাঙা হাড় স্থির রাখতে কাঠ, কাপড় কিংবা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতেন। ক্ষতস্থান বেঁধে রাখা, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ কমানোর চেষ্টা করাও তাদের চিকিৎসার অংশ ছিল।
প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল দন্তচিকিৎসা। মিশরের মমি এবং প্রাচীন কঙ্কাল বিশ্লেষণ করে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং দাঁতের অন্যান্য সমস্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাচীন মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বালি ও ক্ষুদ্র কণাযুক্ত খাবার এবং দাঁতের ওপর দীর্ঘদিনের চাপের কারণে এসব সমস্যা তৈরি হতো। চিকিৎসকরা দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতেন। তবে আধুনিক ডেন্টাল সার্জারির মতো উন্নত পদ্ধতি তখনও গড়ে ওঠেনি।
নারীস্বাস্থ্য এবং প্রসূতিবিদ্যার ক্ষেত্রেও প্রাচীন মিশরের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ১৮০০ সালের কাহুন গাইনোকোলজিক্যাল প্যাপিরাসে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য, গর্ভধারণ এবং বিভিন্ন স্ত্রীরোগের বিবরণ পাওয়া যায়। এতে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করার কিছু পদ্ধতি, নারীদের শারীরিক সমস্যা এবং চিকিৎসার বিভিন্ন নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব পদ্ধতির অনেকগুলো আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়নি, তবু নারীস্বাস্থ্যকে আলাদা চিকিৎসার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন হলো, এতসব চিকিৎসাজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও প্রাচীন মানুষের গড় আয়ু এত কম ছিল কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তৎকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রায়। সংক্রামক রোগ, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অপুষ্টি, প্রসবজনিত জটিলতা এবং শিশুমৃত্যু ছিল ভয়াবহ সমস্যা। অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, আধুনিক অ্যানেসথেশিয়া কিংবা জীবাণু তত্ত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। ফলে সাধারণ সংক্রমণও অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠত।
এখানেই প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। মানুষ রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে পারত, কিছু কার্যকর ওষুধ তৈরি করতে পারত এবং অস্ত্রোপচারও করতে পারত; কিন্তু অধিকাংশ রোগের প্রকৃত কারণ তাদের জানা ছিল না। জীবাণু কীভাবে রোগ ছড়ায়, রক্ত সঞ্চালনের সঠিক প্রক্রিয়া কী কিংবা শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে—এসব প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর তখনও আবিষ্কৃত হয়নি।
তবে ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চিকিৎসাবিজ্ঞান কোনো একটি সভ্যতার একক আবিষ্কার নয়। মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু উপত্যকা, চীন এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিক ও ভারতীয় সভ্যতার অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞান চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজেদের পরিবেশ, রোগ এবং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে পরিচিত হয়ে চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি করেছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জ্ঞান সংরক্ষিত, পরিবর্তিত এবং সম্প্রসারিত হয়েছে।
পাঁচ হাজার বছর আগের মানুষের চিকিৎসাবিজ্ঞানকে তাই একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে সীমাবদ্ধ বলতেই হয়। তারা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো রোগের আণবিক কারণ বুঝতে পারেনি, কিন্তু রোগীর শরীর পর্যবেক্ষণ, ক্ষত পরীক্ষা, ভাঙা হাড় স্থির রাখা, প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি এবং অস্ত্রোপচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পেরেছিল।
আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞান যে বিশাল অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে হাজার হাজার বছরের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, ভুল, ব্যর্থতা এবং আবিষ্কারের ইতিহাস। আধুনিক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে জটিল নিউরোসার্জারি—সবকিছুর ইতিহাস অনুসন্ধান করলে মানবজাতির সেই প্রাচীন সংগ্রামের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়।
পাঁচ হাজার বছর আগে মানুষের হাতে ছিল না আধুনিক যন্ত্রপাতি, ছিল না জীবাণুমুক্ত অপারেশন থিয়েটার কিংবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার। কিন্তু ছিল অসুস্থতাকে বোঝার চেষ্টা, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং অভিজ্ঞতা থেকে নতুন জ্ঞান অর্জনের প্রবল তাগিদ। সেই তাগিদই ধীরে ধীরে চিকিৎসাকে লোকজ অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞানের পথে নিয়ে এসেছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ যাত্রা তাই শুধু রোগ নিরাময়ের গল্প নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য হাজার বছরের নিরন্তর লড়াইয়ের ইতিহাস।
আপনার মতামত জানানঃ