একজন দোকানদার মাসের শুরুতে বসে হিসাব মেলাচ্ছেন। পণ্যের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে, বিদ্যুতের বিলও আগের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে যদি ব্যবসা চালাতে স্থানীয়ভাবে কাউকে নিয়মের বাইরে টাকা দিতে হয়, তাহলে রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী—এমন প্রশ্ন তাঁর কাছে খুব একটা অর্থ বহন করে না। তাঁর কাছে সরকারের শক্তির পরীক্ষা অনেক বেশি সরল। তিনি অভিযোগ করলে পুলিশ কি তাঁর পাশে দাঁড়াবে? তদন্ত কি সত্যিই হবে? অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হলে তদন্ত থেমে যাবে, নাকি আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে?
একটি রাষ্ট্রের শক্তি আসলে কতটা, তা বোঝা যায় এমন সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা থেকেই। বড় বড় ঘোষণা, কঠোর বক্তব্য কিংবা প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি রাষ্ট্রের ক্ষমতার চিত্র তুলে ধরতে পারে; কিন্তু সেই ক্ষমতা মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দৈনন্দিন জীবনে কতটা কার্যকর—সেটিই শেষ পর্যন্ত সরকারের গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহের সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, নিত্যপণ্যের দামের চাপ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যার সব দায় একটি সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে অতীতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়। আবার সব সমস্যাকে পূর্ববর্তী সরকারের উত্তরাধিকার হিসেবে দেখলে বর্তমান সরকারের দায়িত্বও এড়িয়ে যাওয়া হয়। মানুষ শেষ পর্যন্ত অতীতের হিসাব নয়, বর্তমানের বাস্তবতা দিয়েই সরকারকে বিচার করে।
তবে শক্তিশালী সরকার মানেই কঠোর সরকার—এই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। যে সরকার সমালোচকদের ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু চাঁদাবাজদের থামাতে পারে না, তার হাতে ক্ষমতা থাকতে পারে; কিন্তু কার্যকর কর্তৃত্ব নাও থাকতে পারে। প্রকৃত শক্তিশালী সরকার হলো সেই সরকার, যে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ়, নিজের ভুল স্বীকারে সৎ এবং নাগরিকের সঙ্গে আচরণে সংযত। অপরাধীর কাছে পুলিশ কঠোর হবে, কিন্তু অভিযোগকারীর কাছে সহজলভ্য ও সহযোগিতাপূর্ণ হবে—এই ভারসাম্যই একটি মানবিক ও কার্যকর রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
এই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে সরকারি দল থেকেই। দলীয় পরিচয় কোনো অপরাধের ঢাল হবে না—সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা আসা প্রয়োজন। তবে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে না। পরিবহন টার্মিনাল, বাজার, নির্মাণকাজ কিংবা স্থানীয় ব্যবসাকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে তার স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার ব্যবস্থা থাকতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাঁর সম্মান ও রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখতে হবে।
কারণ অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। আবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযোগ তদন্তের বাইরে থাকবে—এটিও হতে পারে না। গ্রেপ্তারের ছবি প্রকাশ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দেখানোর জন্য অভিযান চালানোর চেয়ে তদন্ত, বিচার এবং সিদ্ধান্তের অগ্রগতি প্রকাশ করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সাফল্যের মানদণ্ড।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো থানা। সাধারণ মানুষের কাছে থানা যদি ভয় বা হয়রানির জায়গা হয়ে ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাও দুর্বল হয়। একজন নাগরিক থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে তাঁর হাতে অভিযোগ গ্রহণের একটি রসিদ থাকা উচিত। অভিযোগটি কী অবস্থায় আছে, তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, পরবর্তী পদক্ষেপ কী—এসব তথ্য সহজে জানার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। সরাসরি থানায় যাওয়ার পাশাপাশি ফোন বা সহজ অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা যেতে পারে।
অভিযোগ গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে—কত অভিযোগ এসেছে, কতটির তদন্ত শুরু হয়েছে, কতটির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে কত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখেও এমন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা সম্ভব। এতে পুলিশ যেমন জবাবদিহির মধ্যে থাকবে, তেমনি সাধারণ মানুষও বুঝতে পারবেন তাঁর অভিযোগ রাষ্ট্রের কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।
তবে পুলিশের ওপর শুধু জবাবদিহির চাপ দিলেই হবে না। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, জনবল, কাজের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে বেআইনি বলপ্রয়োগ, ঘুষ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পুলিশকে শক্তিশালী করা এবং পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করা—এই দুটি বিষয়কে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার শর্ত।
চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেও শুধু কয়েকজন আদায়কারীকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কারণ একজন ধরা পড়লে তাঁর জায়গায় আরেকজন আসতে পারে। তাই চাঁদাবাজির পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো শনাক্ত করা প্রয়োজন। কোথায় টাকা নেওয়া হয়, কার মাধ্যমে নেওয়া হয়, কী নামে নেওয়া হয় এবং সেই অর্থ কোথায় যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
টার্মিনাল ও বাজারে অনুমোদিত ফি স্পষ্টভাবে টাঙিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সম্ভব হলে রসিদসহ ডিজিটাল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এতে অনানুষ্ঠানিকভাবে টাকা আদায়ের সুযোগ কমবে। ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে অভিযোগ করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ করার পর তাঁর ব্যবসা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে রাষ্ট্রের ওপর আস্থা আরও কমে যাবে। কোনো এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠলে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও পর্যালোচনা করা দরকার।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সরকারের শক্তি বোঝা যাবে কঠিন সত্য বলার ক্ষমতা দিয়ে। জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম সরকার সব সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী, কতদিন এর প্রভাব থাকতে পারে, সরকারি ব্যয়ের ওপর এর চাপ কতটা এবং সাধারণ মানুষের জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে—এসব তথ্য পরিষ্কারভাবে জানানো সরকারের দায়িত্ব। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপর তার প্রভাব কীভাবে পড়ছে, সেটিও নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সীমিত সরকারি অর্থ দিয়ে সবাইকে একই ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার বদলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবার ও ছোট উৎপাদকদের লক্ষ্য করে সময়সীমাবদ্ধ সহায়তা দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। একইভাবে ব্যবসা ও শিল্পের জন্য জরুরি বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত যদি স্বচ্ছ মানদণ্ডে নেওয়া হয়, তাহলে প্রভাবশালী ব্যক্তির বদলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাবে।
সরকার চাইলে নাগরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি পরীক্ষামূলক ‘১০০ দিনের সরকারি সেবা পরীক্ষা’ চালু করতে পারে। জন্মনিবন্ধন, জমির নামজারি, ব্যবসার অনুমতি কিংবা সামাজিক সহায়তার মতো কয়েকটি সেবা বেছে নিয়ে সরকার স্পষ্ট করে বলতে পারে—কোন সেবা পেতে কত দিন লাগবে এবং সরকারি ফি কত। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আবেদনকারী কেন বিলম্ব হয়েছে তা জানতে পারবেন এবং প্রতিকার চাইতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে কত আবেদন সময়মতো নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই হিসাব প্রকাশ করা যেতে পারে।
একসঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার চেয়ে কয়েকটি নাগরিক সেবায় পরিমাপযোগ্য উন্নতি ঘটানো বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় বড় রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।
মানবিক সরকারের আরেকটি বড় পরীক্ষা হলো ভিন্নমতের প্রতি তার আচরণ। বিরোধী দল, সাংবাদিক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী কিংবা অধিকারকর্মীরা সরকারের সমালোচনা করলেই সরকার দুর্বল হয়ে যায়—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। বরং সমালোচনা অনেক সময় সরকারকে নিজের নীতির দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ দেয়।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি সহিংসতার অভিযোগ উঠলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এখানে দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব যেন আইনের প্রয়োগকে বদলে না দেয়। কারণ মানুষ যখন দেখে একই অপরাধে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষের জন্য ভিন্ন আইন প্রয়োগ হচ্ছে, তখন তারা শুধু সরকারের ওপর নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ন্যায্যতার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে।
সরকার চাইলে প্রতি তিন মাসে একটি সংক্ষিপ্ত ‘জন-আস্থার হিসাব’ প্রকাশ করতে পারে। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি সরবরাহ, চাঁদাবাজির অভিযোগ ও নিষ্পত্তি, পুলিশি আচরণের অভিযোগ, সরকারি সেবা পেতে অপেক্ষার সময় এবং কর্মসংস্থানের কয়েকটি সূচক রাখা যেতে পারে। লক্ষ্য পূরণ না হলে কেন হয়নি, সেটিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ব্যাখ্যা করতে হবে। সব পরিসংখ্যান ভালো দেখাতেই হবে—এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
কারণ খারাপ খবর গোপন করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের পথ দেখাতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি হয়। একটি শক্তিশালী সরকারের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাই ভুলহীন হওয়া নয়; ভুল শনাক্ত করে দ্রুত সংশোধন করার সক্ষমতা।
অবশ্য এসব উদ্যোগের ঝুঁকিও রয়েছে। ডিজিটাল অভিযোগব্যবস্থা চালু হলে প্রযুক্তিতে অনভ্যস্ত বা দরিদ্র মানুষ পিছিয়ে যেতে পারেন। তাই সরাসরি অভিযোগ জানানোর পথও রাখতে হবে। আবার দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির চাপ দিলে পুলিশ প্রকৃত তদন্তের বদলে শুধু পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। সে কারণে কত অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে—এর পাশাপাশি অভিযোগকারীর অভিজ্ঞতাও যাচাই করা জরুরি।
একইভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কিন্তু তদন্তের নামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে রক্ষা করাও চলবে না। অভিযোগ, তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি—প্রতিটি ধাপে ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য এই সূক্ষ্ম ন্যায়বোধ অপরিহার্য।
বাংলাদেশের মানুষ সম্ভবত সর্বক্ষমতাবান কোনো সরকার চান না। তাঁরা চান এমন একটি সরকার, যার ক্ষমতা প্রয়োজনের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং যার কাছে ক্ষমতাবান ব্যক্তিকেও জবাব দিতে হবে। একজন দোকানদার যদি চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন, একজন নারী যদি নিরাপদে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন, একজন তরুণ যদি পরিচয় বা রাজনৈতিক যোগাযোগ ছাড়াই সরকারি সেবা পান এবং একজন সমালোচক যদি ভয় ছাড়াই নিজের কথা বলতে পারেন—তখনই রাষ্ট্রের শক্তি সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হবে।
একটি সরকারের শক্তি কতটা, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়তো তার বিরোধীদের কতটা ভয় দেখাতে পারে, সেটি নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিক কতটা নির্ভয়ে তার দরজায় যেতে পারে, সেটিই আসল পরীক্ষা। ক্ষমতা যখন আইনকে শক্তিশালী করে, দুর্বলকে সুরক্ষা দেয় এবং ক্ষমতাবানকেও জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তখন সেই শক্তিই মানবিক হয়ে ওঠে। আর তখনই রাষ্ট্রের শক্তি শুধু সরকারের ক্ষমতা হিসেবে নয়, মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত জানানঃ