সবচেয়ে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ইতিহাস নিয়ে লিখতে গেলে প্রথমেই আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ কোনটি? ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ধর্মতত্ত্ববিদদের গবেষণায় এই প্রশ্নের উত্তর এককভাবে নির্ধারিত নয়। কারণ, পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রথম লিখিত ধর্মগ্রন্থ এবং আজও প্রচলিত ধর্মের প্রাচীনতম সংরক্ষিত ধর্মগ্রন্থ—এই তিনটি বিষয় এক নয়।
প্রাচীন সভ্যতাগুলোর ধর্মীয় বিশ্বাসের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। মেসোপটেমিয়া, প্রাচীন মিসর, সিন্ধু উপত্যকা, চীন এবং বৈদিক ভারত—প্রতিটি সভ্যতায় ধর্মীয় আচার, দেবদেবীর উপাসনা, সৃষ্টি ও মৃত্যু নিয়ে চিন্তাভাবনা এবং পরকাল সম্পর্কে নানা ধারণার বিকাশ ঘটেছিল। এসব বিশ্বাসের অনেক কিছুই প্রথমে লিখিত আকারে ছিল না। মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুখে মুখে ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা, স্তোত্র ও কাহিনি সংরক্ষণ করত। পরে লিপির উদ্ভাবন এবং লেখার উপকরণের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসব ধর্মীয় ধারণার কিছু অংশ লিখিত রূপ পায়।
প্রাচীনতম লিখিত ধর্মীয় সাহিত্য খুঁজতে গেলে আমাদের যেতে হয় মেসোপটেমিয়ায়। বর্তমান ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছিল সুমেরীয়, আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় সভ্যতা। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ৩০০০ সালের মধ্যে সুমেরীয় অঞ্চলে লিখনপদ্ধতির প্রাথমিক বিকাশ ঘটে। প্রথম দিকে হিসাব-নিকাশ, পণ্য বিনিময় ও প্রশাসনিক কাজে লেখার ব্যবহার হলেও ধীরে ধীরে ধর্মীয় ও সাহিত্যিক বিষয়ও লিখিত হতে থাকে।
সুমেরীয় সভ্যতার ধর্মীয় সাহিত্য মানবসভ্যতার প্রাচীনতম লিখিত ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন। মাটির ফলকে কিউনিফর্ম বা কীলকাকার লিপিতে দেবদেবী, সৃষ্টি, বন্যা, রাজত্ব, মৃত্যু এবং পরকাল নিয়ে বিভিন্ন রচনা সংরক্ষিত হয়েছিল। সুমেরীয়দের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন আনু, এনলিল, এনকি, ইনান্না ও উতু। তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবতারা প্রকৃতি, মানবজীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন।
সুমেরীয় ধর্মীয় সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো ‘ইনান্নার অবতরণ’। এতে প্রেম, যুদ্ধ ও উর্বরতার দেবী ইনান্নার পাতাললোকে যাত্রার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই রচনায় মৃত্যু, ক্ষমতা, আত্মত্যাগ এবং পুনরাগমনের মতো বিষয় উঠে এসেছে। এটি কোনো একক ধর্মগ্রন্থের অংশ ছিল না; বরং প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বিস্তৃত ধর্মীয় সাহিত্যভান্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
মেসোপটেমিয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য রচনা হলো ‘আত্রাহাসিস মহাকাব্য’। এতে মানবজাতির সৃষ্টি, দেবতাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহাপ্লাবনের কাহিনি রয়েছে। পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন মহাকাব্য ও ধর্মীয় কাহিনির সঙ্গে এর কিছু বিষয়ের মিল দেখা যায়। বিশেষ করে মহাপ্লাবনের কাহিনি পরবর্তী ব্যাবিলনীয় সাহিত্য এবং বাইবেলের নোয়াহর কাহিনির সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনার বিষয় হয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বা একটির ওপর অন্যটির নির্ভরতা নির্ধারণ করতে ঐতিহাসিক প্রমাণের সতর্ক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
প্রাচীন মিসরেও ধর্মীয় সাহিত্য ও আধ্যাত্মিক চিন্তার বিকাশ ঘটেছিল অত্যন্ত প্রাচীন সময়ে। মিসরীয় সভ্যতায় মৃত্যু, আত্মা, পরকাল এবং দেবতাদের বিচার সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ সালের দিকে মিসরের পিরামিডের অভ্যন্তরে খোদাই করা বিভিন্ন ধর্মীয় মন্ত্র ও প্রার্থনা পাওয়া যায়, যেগুলো ‘পিরামিড টেক্সটস’ নামে পরিচিত। এগুলো বিশ্বের প্রাচীনতম সংরক্ষিত ধর্মীয় লেখাগুলোর অন্যতম।
পিরামিড টেক্সটসে মূলত রাজাদের মৃত্যুর পর তাঁদের আত্মার যাত্রা, দেবতাদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং পরকালে অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল, মৃত্যুর পরও জীবনের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। যথাযথ ধর্মীয় আচার এবং দেবতাদের অনুগ্রহের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি পরকালে নিরাপদে পৌঁছাতে পারেন। পরবর্তী সময়ে এই ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটে ‘কফিন টেক্সটস’ এবং বহুল পরিচিত ‘বুক অব দ্য ডেড’-এ। তবে বুক অব দ্য ডেড পিরামিড টেক্সটসের চেয়ে অনেক পরবর্তী সময়ের রচনা।
অন্যদিকে, আজও প্রচলিত প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম ধর্মীয় সাহিত্য হিসেবে বেদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হিন্দুধর্মের প্রাচীনতম ধর্মীয় সাহিত্যিক ভিত্তি হলো বেদ। চারটি বেদ—ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। এগুলোর মধ্যে ঋগ্বেদকে সাধারণত প্রাচীনতম বলে মনে করা হয়। অধিকাংশ গবেষকের মতে, ঋগ্বেদের প্রাচীন স্তরগুলোর রচনাকাল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
ঋগ্বেদ মূলত স্তোত্রের সংকলন। এতে প্রকৃতি, মহাবিশ্ব, দেবতা, জীবন, মৃত্যু এবং সৃষ্টির রহস্য নিয়ে প্রাচীন বৈদিক মানুষের চিন্তাভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। অগ্নি, ইন্দ্র, বরুণ, মিত্র, সোম ও উষার মতো দেবতাদের উদ্দেশে অসংখ্য স্তোত্র রচিত হয়েছে। ঋগ্বেদের বিখ্যাত নাসদীয় সূক্তে মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে গভীর দার্শনিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে সৃষ্টির আদিতে কী ছিল, কীভাবে সবকিছুর উৎপত্তি হলো এবং সৃষ্টির রহস্য আদৌ কেউ জানে কি না—এমন চিন্তাশীল প্রশ্নের দেখা মেলে।
বেদের ইতিহাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মৌখিক সংরক্ষণপ্রথা। প্রাচীন ভারতে দীর্ঘ সময় ধরে বেদ লিখিত পাণ্ডুলিপির পরিবর্তে গুরু থেকে শিষ্যের কাছে মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে। উচ্চারণ, স্বর, ছন্দ ও শব্দের নির্ভুলতা বজায় রাখতে বিশেষ পদ্ধতি গড়ে ওঠে। বৈদিক মন্ত্রের এই মৌখিক সংরক্ষণব্যবস্থা বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম বিস্ময়কর জ্ঞান সংরক্ষণপ্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে বেদ লিখিত আকারে সংরক্ষিত হলেও এর মৌখিক ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে।
বেদের পরবর্তী বিকাশে উপনিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপনিষদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আত্মা, ব্রহ্ম, কর্ম, পুনর্জন্ম ও মুক্তির মতো গভীর দার্শনিক বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীন উপনিষদগুলোর রচনাকাল আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ থেকে ৫০০ সালের মধ্যে বলে মনে করা হয়। উপনিষদের চিন্তাধারা ভারতীয় দর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো জরথুস্ত্র ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ ‘আবেস্তা’। প্রাচীন পারস্যে জরথুস্ত্রের প্রচারিত ধর্মীয় দর্শনের ভিত্তিতে এই গ্রন্থের বিকাশ ঘটে। এতে আহুরা মাজদার উপাসনা, সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব, নৈতিকতা এবং মানুষের সৎকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আবেস্তার প্রাচীনতম অংশ ‘গাথা’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত বিশ্লেষণে গাথাকে প্রাচীন ইরানি ধর্মীয় সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে জরথুস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সময়কাল এবং আবেস্তার বিভিন্ন অংশের রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আবেস্তার মৌখিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা লিখিত আকারে সংরক্ষিত হয়।
চীনের প্রাচীন ধর্মীয় ও দার্শনিক সাহিত্যও মানবসভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। ‘ই চিং’ বা ‘পরিবর্তনের গ্রন্থ’ প্রাচীন চীনের অন্যতম পুরোনো গ্রন্থ। এর মূল কাঠামো আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের শুরুর দিকে বিকশিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রকৃতির পরিবর্তন, ভারসাম্য, ভাগ্য এবং মানবজীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই গ্রন্থে নানা প্রতীক ও ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রাচীন চীনে ভবিষ্যৎ গণনা ও দার্শনিক চিন্তায় এর ব্যবহার ছিল। পরবর্তী সময়ে কনফুসীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রাচীন চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দার্শনিক রচনা হলো ‘তাও তে চিং’। লাওৎসুর নামে পরিচিত এই গ্রন্থে তাও বা মহাজাগতিক পথ, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম, সরলতা, বিনয় এবং ক্ষমতার সংযত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর রচনাকাল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সাধারণভাবে একে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ থেকে তৃতীয় শতকের মধ্যে সংকলিত বলে মনে করা হয়। এটি প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থগুলোর একটি না হলেও চীনের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
আবার ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলামের ধর্মীয় ঐতিহ্যেও প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদি ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ তোরাহ বা পেন্টাটিউক প্রাচীন ইসরায়েলীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভিত্তি। এতে সৃষ্টি, মানবজাতির প্রাথমিক ইতিহাস, ইব্রাহিম, ইসহাক, ইয়াকুব, মুসা এবং ইসরায়েলীয় জাতির ইতিহাস ও বিধান সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে। এই গ্রন্থের বিভিন্ন অংশের রচনাকাল ও সংকলনপ্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা হয়েছে। আধুনিক গবেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তোরাহ একাধিক প্রাচীন উৎস ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এর বর্তমান রূপ আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে সংকলিত হয়েছিল।
বৌদ্ধধর্মের প্রাচীনতম ধর্মীয় সাহিত্যও বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্য দীর্ঘদিন মৌখিকভাবে সংরক্ষিত হয়। পালি ত্রিপিটক থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থসমষ্টি। এতে বিনয় পিটক, সুত্ত পিটক ও অভিধম্ম পিটক—এই তিনটি অংশ রয়েছে। বুদ্ধের শিক্ষা, ভিক্ষুদের জীবনযাপনের নিয়ম এবং বৌদ্ধ দর্শনের বিভিন্ন বিষয় এতে সংকলিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্য অনুযায়ী, আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে ত্রিপিটক লিখিত আকারে সংরক্ষিত হয়। তবে এর অনেক বিষয়বস্তু তারও আগে মৌখিকভাবে প্রচলিত ছিল।
ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন সপ্তম শতকে অবতীর্ণ হয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রায় ২৩ বছর ধরে কোরআনের বাণী অবতীর্ণ হয়। পরবর্তী সময়ে তা সংকলিত হয়ে গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও প্রাথমিক ইসলামি ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কোরআন পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি সপ্তম শতকের একটি ধর্মগ্রন্থ, যার নিজস্ব ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।
প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ধর্মীয় জ্ঞান সংরক্ষণে মৌখিক ঐতিহ্য ও লিখিত পাণ্ডুলিপি উভয়েরই ভূমিকা ছিল। অনেক ধর্মগ্রন্থের রচনাকাল এবং সংকলনকাল এক নয়। কোনো ধর্মীয় বাণী বা স্তোত্র শত শত বছর ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত থাকার পর লিখিত রূপ পেয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রাচীন লিখিত ধর্মীয় রচনা পরবর্তী সময়ে হারিয়ে গেছে, আর কিছু রচনা প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের মাধ্যমে নতুন করে মানুষের সামনে এসেছে।
তাই সব বিবেচনায় পৃথিবীর এককভাবে প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ নির্ধারণ করা কঠিন। লিখিত ধর্মীয় সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে মেসোপটেমিয়ার সুমেরীয় ধর্মীয় রচনা এবং প্রাচীন মিসরের পিরামিড টেক্সটস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, আজও প্রচলিত প্রধান ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে হিন্দুধর্মের ঋগ্বেদ অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ। এই গ্রন্থগুলো শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের দলিল নয়; এগুলো প্রাচীন মানুষের জীবন, চিন্তা, সমাজ, সংস্কৃতি এবং বিশ্বকে বোঝার প্রচেষ্টারও মূল্যবান ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।
আপনার মতামত জানানঃ