ঢাকার মাদকবাজারে নতুন এক ভয়াবহ বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—মাদক ব্যবসার জালে জড়িয়ে পড়ছে শিশুরাও। যে বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলার মাঠে সময় কাটানোর কথা, স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই কেউ কেউ হয়ে উঠছে মাদক বিক্রির সহযোগী, বাহক কিংবা সরাসরি বিক্রেতা। রাজধানীর অলিগলি, বস্তি, ফুটপাত ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য এই সমস্যার গভীরতা এবং এর পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। অর্থাৎ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি কৈশোরের আগেই এই অপরাধজগতে প্রবেশ করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ২৯ শতাংশ ফুটপাতে বসবাস করত এবং ১০ শতাংশ ছিল গৃহহীন বা ভাসমান। এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল মাদক ব্যবসার বিস্তারকে নির্দেশ করে না, বরং নগরজীবনের প্রান্তিক শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্র্য, বাসস্থান সংকট এবং সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতাকেও তুলে ধরে।
শিশুদের মাদক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কর্মসংস্থানের অভাব। এর পাশাপাশি জবরদস্তি ও প্রভাবশালী অপরাধী চক্রের চাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশুর কাছে অল্প বয়সেই আয় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা কিংবা ছোট ভাইবোনের খরচ মেটাতে তারা শ্রমে যুক্ত হয়। কিন্তু যখন বৈধ ও নিরাপদ কাজের সুযোগ থাকে না, তখন অপরাধী চক্রের প্রলোভন তাদের সামনে হাজির হয়। অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে মাদক বহন, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া কিংবা ক্রেতার কাছে পণ্য সরবরাহের মতো কাজ দিয়ে শুরু হয় তাদের অপরাধজগতের সঙ্গে পরিচয়।
শিশুরা কেন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, তারও কিছু বাস্তব ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ তুলনামূলক কম থাকে বলে অপরাধী চক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়। তাদের দিয়ে সহজে ছোট ছোট প্যাকেট বহন করানো যায়, বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করানো যায় এবং প্রয়োজনে বড় অপরাধীদের আড়ালেও রাখা যায়। শিশুদের অপরাধে ব্যবহার করার মাধ্যমে মূল হোতারা নিজেদের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করে। ফলে মাদক ব্যবসার দৃশ্যমান অংশে শিশুদের দেখা গেলেও নেপথ্যে থাকা সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
এই বাস্তবতায় শিশুদের কেবল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করলে সমস্যার মূল কারণগুলো অদৃশ্য থেকে যায়। একটি শিশু কীভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলো, কে তাকে কাজে নিয়োগ করল, কীভাবে সে ওই চক্রের কাছে পৌঁছাল এবং তার পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। অপরাধে জড়িত হওয়ার পেছনে যদি দারিদ্র্য, নির্যাতন, পারিবারিক ভাঙন, শিক্ষার অভাব কিংবা জোরপূর্বক নিয়োগের মতো কারণ থাকে, তাহলে শুধু শাস্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। হেরোইন ব্যবসাতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এটি উদ্বেগের বিষয়, কারণ ইয়াবা ও হেরোইনের মতো মাদক শুধু বিক্রি বা পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এগুলোর সংস্পর্শে আসার ফলে শিশুদের নিজেরাও মাদক গ্রহণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মাদক ব্যবসার পরিবেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক, সহিংসতা, ভয়ভীতি এবং আসক্তির মতো ঝুঁকি আরও বাড়ে।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শিশুদের জীবন অনেক সময় দ্বৈত সংকটে আবদ্ধ থাকে। একদিকে তাদের অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন, অন্যদিকে অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ও হুমকি। কোনো শিশু যদি একবার মাদক বহন বা বিক্রির কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয় না। অপরাধী চক্রের সদস্যরা তাকে ভয় দেখাতে পারে, পরিবারের ক্ষতির হুমকি দিতে পারে কিংবা আগের কাজের দায় দেখিয়ে আবারও কাজে বাধ্য করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুরা নিজেরাও মনে করতে শুরু করে যে এই অপরাধজগতের বাইরে তাদের জন্য আর কোনো পথ খোলা নেই।
ঢাকার ফুটপাত ও বস্তি এলাকার শিশুদের জন্য এই ঝুঁকি আরও প্রকট। স্থায়ী বাসস্থান না থাকলে শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, স্বাস্থ্যসেবা পায় না এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। রাস্তায় বসবাসকারী শিশুদের অনেকেই প্রতিদিন খাবার ও আশ্রয়ের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। তাদের কেউ ভিক্ষা করে, কেউ বিভিন্ন ধরনের অনানুষ্ঠানিক শ্রমে যুক্ত হয়, আবার কেউ অপরাধী চক্রের প্রলোভন বা চাপের মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায় যুক্ত হওয়া তাদের কাছে কখনো কখনো বেঁচে থাকার একটি উপায় বলে মনে হতে পারে।
শিশুদের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি লিঙ্গভেদেও আলাদা মাত্রা ধারণ করে। গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। অন্যদিকে যৌন পেশায় যুক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সম্পৃক্ততা বেশি পাওয়া গেছে। এই তথ্য দেখায়, মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহার করে। তবে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে শোষণ, নির্যাতন এবং জবরদস্তির ঝুঁকি বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের অপরাধে সম্পৃক্ততার পেছনে কী ধরনের সামাজিক চাপ ও ক্ষমতার সম্পর্ক কাজ করছে, তা বিশ্লেষণ না করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।
গবেষণায় মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট মাদক ও সেগুলোর সমন্বিত বিক্রির চিত্রও উঠে এসেছে। ২৫৩ জন অংশগ্রহণকারী শুধু গাঁজা, ২৮৫ জন শুধু ইয়াবা, ২২৮ জন গাঁজা ও ইয়াবা এবং ২৫০ জন গাঁজা ও হেরোইন বিক্রির কথা জানিয়েছেন। এই তথ্য মাদক বাজারের পণ্যবৈচিত্র্য এবং বিক্রেতাদের কাজের ধরন সম্পর্কে ধারণা দেয়। একই সঙ্গে এটি বোঝায়, মাদক ব্যবসা কোনো একক পণ্য বা একক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধরনের মাদক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠতে পারে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।
ঢাকাকে ঘিরে মাদক পাচারের আন্তঃসীমান্ত রুটের বিষয়টিও গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। লাহোর–ওয়াঘা–পাটানা–বাংলাদেশ, মিজোরাম–মেঘালয়–বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার–টেকনাফ–ঢাকা—এই তিনটি রুটের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব রুটের তথ্য মাদক সরবরাহের আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। তবে একটি গবেষণায় উল্লেখিত রুটকে সম্পূর্ণ মাদক সরবরাহব্যবস্থার চূড়ান্ত মানচিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মাদক পাচারের ধরন, ব্যবহৃত পথ ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য, সীমান্ত নজরদারি এবং অপরাধ তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
মাদক ব্যবসার এই বিস্তৃত চিত্রের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতি সবচেয়ে মানবিক ও সামাজিক উদ্বেগের জায়গা। একটি শিশুর অপরাধে জড়িয়ে পড়া শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের সংকট নয়; এটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থারও পরীক্ষা। শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। তাদের শিক্ষা, পুষ্টি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্যাতন থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশু এসব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে। ফলে অপরাধী চক্রের জন্য তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়।
শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এই সমস্যার অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলে শিশুদের দৈনন্দিন জীবন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাবলয় হারিয়ে যায়। শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ অনেক শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে পারে। কিন্তু দারিদ্র্য, পরিবারের আয় সংকট, শিশুশ্রম, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা পারিবারিক সহিংসতার কারণে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের জন্য বিকল্প শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে অপরাধী চক্রের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই শিশুদের মাদক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন। যেসব শিশু জোরপূর্বক মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষায় ফেরার সুযোগ এবং পরিবারের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রণকারী ও মাদক সরবরাহের মূল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত জরুরি।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, স্কুলে ফেরানোর ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কার্যকর হলে শিশুদের উপার্জনের চাপ কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতন, পাচার ও জবরদস্তিমূলক শ্রমের অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মাদক ব্যবসার খুচরা পর্যায়ে শিশুদের গ্রেপ্তার করা হলেও যদি মূল সরবরাহকারী ও অর্থদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাহলে একই জায়গায় নতুন শিশুদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তাই তদন্তে অর্থের প্রবাহ, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্কের ভূমিকা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অপরাধ দমনের কার্যকারিতা পরিমাপ করতে হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা নয়, শিশুদের পুনর্বাসন, পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার হার এবং মাদক সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঢাকার মাদকবাজারে শিশুদের উপস্থিতি আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে—একটি শহর তার সবচেয়ে অসহায় শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারছে? নগর উন্নয়ন, উঁচু ভবন, নতুন সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। যে শিশুরা ফুটপাতে ঘুমায়, স্কুলে যেতে পারে না, কিংবা জীবিকার জন্য অপরাধী চক্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাদের বাদ দিয়ে কোনো নগরকে নিরাপদ বলা যায় না।
শিশুদের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাই কেবল মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন নয়; এটি দারিদ্র্য, শিশুশ্রম, শিক্ষা, আবাসন, সামাজিক বৈষম্য এবং শিশু অধিকার রক্ষার সম্মিলিত সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক নীতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন। গবেষণার পরিসংখ্যান সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখিয়েছে, কিন্তু আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান ছাড়া এর সম্পূর্ণ ব্যাপ্তি বোঝা সম্ভব নয়। কোন এলাকায় শিশুদের ঝুঁকি বেশি, কীভাবে তারা অপরাধী চক্রের সংস্পর্শে আসছে, কোন ধরনের সহায়তা তাদের অপরাধজগৎ থেকে বের করে আনতে পারছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ধারাবাহিক গবেষণা প্রয়োজন।
ঢাকার মাদকবাজারে শিশুদের উপস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এমন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে শৈশবের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অপরাধী চক্রের স্বার্থের কাছে হুমকির মুখে পড়ে। আজ যারা মাদক বহন করছে বা বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের অনেকেরই হয়তো অন্য কোনো জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। সেই সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। শিশুদের হাতে মাদকের প্যাকেট নয়, বই তুলে দেওয়া; ভয় ও জবরদস্তির বদলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; আর অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলার পাশাপাশি বিকল্প জীবনের পথ তৈরি করাই হতে পারে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি।
আপনার মতামত জানানঃ