যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছরেরও বেশি দূরে। কিন্তু মার্কিন রাজনীতিতে সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতার রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে তাদের উপস্থিতি, বক্তব্য এবং দলীয় যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবজমিনের প্রতিবেদনে CNN-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে যেন নতুন একটি নির্বাচনী মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে সক্রিয় হচ্ছেন, যেগুলো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ২০২৮ সালের লড়াই এখন আর কেবল ভবিষ্যতের একটি রাজনৈতিক হিসাব নয়; বরং বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তার প্রাথমিক রেখাচিত্র দেখা যাচ্ছে।
এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—ট্রাম্প ২০২৮ সালে আর প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না, কারণ মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে রিপাবলিকান দলের সামনে ট্রাম্প-পরবর্তী নেতৃত্বের প্রশ্নটি এখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব অবশ্যই তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাইরেও থাকবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলবে; কিন্তু ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নতুন একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বেছে নিতে হবে।
ট্রাম্প নিজেও ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইরানের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আরও আড়াই বছর এখানে থাকব।” বক্তব্যটি মূলত তার বর্তমান মেয়াদের সময়সীমার প্রতি ইঙ্গিত করলেও এর মধ্যে ট্রাম্প-পরবর্তী রাজনৈতিক সময়ের বাস্তবতাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৮ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের উত্তরাধিকার এবং তার রাজনৈতিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।
রিপাবলিকান শিবিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা নামগুলোর একটি বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্পের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভূমিকা এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রেখেছে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য চ্যালেঞ্জও কম নয়। তাকে একই সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ভ্যান্সের পাশাপাশি রিপাবলিকান রাজনীতিতে আরও কয়েকটি নাম সামনে আসছে। সিনেটর টেড ক্রুজ ও সিনেটর র্যান্ড পল প্রকাশ্যেই ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিও ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, তিনি সিনেটে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়াই করার পরিকল্পনা করছেন। ফলে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রশ্নটি কেবল একজনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই।
তবে রিপাবলিকানদের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হতে পারে—ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা MAGA রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ভাষা, নীতি এবং ভোটারভিত্তিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকবে: তারা কি ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে আরও এগিয়ে নেবেন, নাকি দলের ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল ধারার সঙ্গে নতুন সমন্বয় তৈরি করবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রার্থীদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে না। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলও রিপাবলিকান দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। কংগ্রেস, গভর্নরশিপ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে দলগুলোর পারফরম্যান্স সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করবে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরেও ২০২৮ সালের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটি নতুন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ইতোমধ্যেই আবারও জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে তার সক্রিয় উপস্থিতি দেখাচ্ছে যে তিনি এখনও ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় চরিত্র।
তবে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকা কমলা হ্যারিসকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ প্রগতিশীল রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও বিস্তৃত করছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও সংগঠনভিত্তিক কর্মকাণ্ড তরুণ এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নির্দিষ্ট নয়; কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় তার নাম রয়েছে।
জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি বর্তমানে নিজের সিনেট পুনর্নির্বাচনের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচিত হচ্ছে। জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতা তাকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় রেখেছে।
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বশিয়ার এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর নামও সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। তিনজনের রাজনৈতিক অবস্থান, নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাদের পরিচিতি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে এখনই তাদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।
এখানেই ২০২৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—দলটি কী ধরনের নেতৃত্ব চাইবে? ২০২৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর দলটির জন্য শুধু রিপাবলিকান বা ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে দলের প্রগতিশীল অংশের প্রত্যাশা, অন্যদিকে মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের আরেকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে ভোটারদের আস্থা। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর উত্তর খোঁজা এখনো শেষ হয়নি। অর্থনীতি, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পররাষ্ট্রনীতি, জলবায়ু এবং সামাজিক নীতির মতো বিষয়গুলোতে দলটির অবস্থান ভবিষ্যৎ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছে দলের রাজনৈতিক বার্তা কী হবে, সেটিও আলোচনার একটি বড় অংশ।
রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রেও অর্থনীতি, অভিবাসন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। MAGA আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি দলটির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তাদের জন্য তার নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উপস্থিতি ছাড়া নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৮ সালের নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে প্রাথমিক বাছাইপর্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় আইওয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নেভাদা ও সাউথ ক্যারোলিনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। এসব রাজ্যে প্রার্থী হিসেবে আগেভাগে উপস্থিত হওয়া, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়।
এই কারণে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারও সম্ভাব্য ২০২৮ প্রার্থীদের জন্য একটি পরীক্ষামূলক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। একজন নেতা কীভাবে জনসমক্ষে বক্তব্য দেন, কী ধরনের নীতি তুলে ধরেন, স্থানীয় প্রার্থীদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করেন এবং দলীয় কর্মীদের কতটা সংগঠিত করতে পারেন—এসব বিষয় ভবিষ্যতে তার জাতীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখনকার রাজনৈতিক তৎপরতাকে সরাসরি ২০২৮ সালের প্রার্থিতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মার্কিন রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। কেউ শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও করতে পারেন, আবার বর্তমানে আলোচনায় না থাকা কোনো নেতাও পরবর্তী দুই বছরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসতে পারেন।
২০২৮ সালের নির্বাচন তাই শুধু ‘ট্রাম্পের পর কে’—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মার্কিন দুই প্রধান দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয়, নেতৃত্বের পরিবর্তন, ভোটারদের অগ্রাধিকার এবং ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান রাজনীতির চরিত্র। একইভাবে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও ২০২৪ সালের পর দলটি কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা পুনর্গঠন করবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো ২০২৮ সালের নির্বাচনী রাজনীতি নির্ধারিত হওয়ার সময় এখনো আসেনি, কিন্তু তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের মঞ্চ ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন, দলীয় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ যত এগোবে, তার পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়ে আলোচনা তত বাড়বে। রিপাবলিকানদের সামনে থাকবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে বহন করা হবে, আর ডেমোক্র্যাটদের সামনে থাকবে নতুন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পরিচয় গঠনের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই কোন দিকে যাবে, তা এখনই নির্ধারিত নয়। কিন্তু ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে সেই লড়াইয়ের প্রথম অধ্যায় ইতোমধ্যেই লেখা শুরু হয়ে গেছে।
আপনার মতামত জানানঃ