শেখ হাসিনা কি আবার বাংলাদেশে ফিরবেন? আর ফিরলে দেশের মানুষ তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করবে? বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই প্রশ্ন এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। এমনকি গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দল, সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে শেখ হাসিনা এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি একটি জটিল আইনি বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।
কিন্তু সাধারণ মানুষ আসলে কী ভাবছে? শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে কি জনমত রয়েছে, নাকি তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মানুষ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত জনমত জরিপের দিকে তাকাতে হয়। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দলটির প্রতি মানুষের সমর্থন—এগুলো তিনটি আলাদা বিষয়। একটি বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান থাকলেই অন্য দুটি বিষয়ে একই অবস্থান থাকবে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসালটিং পরিচালিত পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভের দ্বিতীয় পর্বে দেশের ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। উত্তরদাতাদের মধ্যে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ তাঁকে শূন্য নম্বর দেন। অর্থাৎ তাঁরা তাঁর প্রতি কোনো সমর্থন প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, একটি অংশ তাঁকে উচ্চ মাত্রায় সমর্থনও জানিয়েছেন। জরিপে শেখ হাসিনার প্রতি জনসমর্থনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মেরুকরণের চিত্র পাওয়া যায়। একই জরিপে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও মানুষের মতামত নেওয়া হয়। সেখানে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। বিপরীতে ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ মনে করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জনমত প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। যারা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, তাঁদের সবাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির প্রত্যাবর্তন চান, এমন নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করা এবং সেই দলকে ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত। কেউ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সব দলের অংশগ্রহণ সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু অতীতের শাসনামলের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের বিচারও চাইতে পারেন। এই পার্থক্যটি না বুঝলে জনমতের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলো ও কেমেকার্স কনসালটিং লিমিটেডের পরিচালিত জাতীয় জনমত জরিপেও বিষয়টি উঠে আসে। জরিপে ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগকে নিঃশর্তভাবে অথবা বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ নিঃশর্ত অংশগ্রহণের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ মনে করেন, বিচার ও সংস্কারের পর দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যেতে পারে। আরও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের মত ছিল, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার পর আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে অনেকেই শর্তসাপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এই জরিপও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেশে ফেরার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করেনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আরেকটি জরিপ দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য দেয়। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজের যৌথ জরিপে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে এই জরিপ পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অতীতের ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন এসেছে। তবে এই তথ্য থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না যে আওয়ামী লীগের সব সমর্থক দলটি ছেড়ে দিয়েছেন। বরং এটি দেখায়, দলটির আগের ভোটব্যাংকের মধ্যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটেছে।
আরও সাম্প্রতিক চিত্র পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের জরিপে। মে মাসের ১৬ তারিখ থেকে জুনের ২৪ তারিখ পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার পাঁচ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। আগস্টে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন মাত্র ২২ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে প্রায় ৭২ শতাংশের মনোভাব ছিল নেতিবাচক। এই জরিপে বিএনপির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৫৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ক্ষেত্রে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবের এই পরিসংখ্যান দলটির বর্তমান জনভাবমূর্তি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক দল সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক মনোভাব এবং কোনো নির্দিষ্ট নেতার দেশে ফেরার পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান এক বিষয় নয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। দলটির দীর্ঘদিনের সমর্থক, সাবেক জনপ্রতিনিধি, নেতা-কর্মী এবং তৃণমূলের কর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলটি আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তাঁদের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন। অন্যদিকে, দলের কিছু সমর্থকের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ফিরে পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এবং নিরাপদে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মধ্যে বাস্তব পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, আন্দোলন-সমর্থক এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করা মানুষের কাছে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের অনেকের কাছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা মানে অতীতের ঘটনাগুলোর জবাবদিহির প্রশ্ন। বিশেষ করে আন্দোলন দমনে প্রাণহানি, গুম, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত না করে তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন অনেকে। তাঁদের অবস্থানের পেছনে রয়েছে বিচার ও জবাবদিহির দাবি। ফলে এই অংশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়, ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও এই বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ভারত এখন পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি। ফলে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আইনি প্রক্রিয়াও জড়িত।
এদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং দলটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু তার সাবেক নেতার প্রত্যাবর্তন যথেষ্ট নয়। দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব, জনসমর্থন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আইনি সুযোগ এবং অতীতের অভিযোগগুলোর বিচার—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও আওয়ামী লীগ আগের অবস্থায় ফিরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার তাঁর অনুপস্থিতি মানেই দলটির সব সমর্থন শেষ হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তাই এখনো অমীমাংসিত। দেশের মানুষ কি শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফিরে আসতে দেখতে চায়? এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য জাতীয় জরিপগুলোতে সরাসরি ও নির্দিষ্টভাবে এই প্রশ্ন করা হয়নি। ফলে ২২ শতাংশ, ৭২ শতাংশ কিংবা ৬৯ শতাংশের মতো কোনো পরিসংখ্যান ব্যবহার করে তাঁর দেশে ফেরার পক্ষে বা বিপক্ষে জনমতের নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের প্রত্যাশা হয়তো একক কোনো অবস্থানে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ শেখ হাসিনার দেশে ফেরা চান, কেউ তাঁর বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন চান না, আবার কেউ মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার—দুটিই সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু প্রতিটি অবস্থানই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশার প্রতিফলন।
শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের ঘটনা হবে না। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, বিচারব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তিনি ফিরবেন কি না, ফিরলে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, আর দেশের মানুষ তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার অধ্যায় এখনো পুরোপুরি আলোচনার বাইরে চলে যায়নি। বরং তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরেই নতুন করে সামনে আসছে একটি বড় প্রশ্ন—দেশের মানুষ কি সত্যিই তাঁকে ফিরে পেতে চায়, নাকি তারা প্রথমে অতীতের সব ঘটনার জবাবদিহি দেখতে চায়?
আপনার মতামত জানানঃ