পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের রাস্তা। স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষ চলাচল করছে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ পায়ে হেঁটে, কেউবা বাজারের ব্যাগ হাতে। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে বসানো অস্থায়ী একটি চেকপয়েন্ট পুরো দৃশ্যটিকে বদলে দিয়েছে। সেখানে থামানো হচ্ছে মানুষকে, তল্লাশি করা হচ্ছে ব্যাগ, পরীক্ষা করা হচ্ছে মোটরসাইকেল। সীমান্তরক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকেরই সামনে এগোনোর সুযোগ নেই। কাছেই বিস্তৃত এক বাফার জোন—ভারতের ভেতরেই, অথচ সেখানে বসবাসকারীদের দৈনন্দিন জীবন যেন স্বাভাবিক স্বাধীনতার বাইরে চলে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেক মানুষের কাছে পরিচিত। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার নামে কড়াকড়ি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি সীমান্ত এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, যেখানে নিরাপত্তা, অভিবাসন ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের চলাচলও হয়ে উঠেছে পরীক্ষা।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই সীমান্ত কেবল দুটি দেশের ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এর দুই পাশে রয়েছে একই ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মীয়তা ও বহু বছরের সামাজিক যোগাযোগ। কোথাও একটি পরিবারের আত্মীয়স্বজন সীমান্তের দুই পাশে, কোথাও আবার জমি, বাজার কিংবা জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক। সীমান্তের বাস্তবতা তাই মানচিত্রের সরল রেখার মতো নয়।
কিন্তু গত কয়েক বছরে সীমান্তকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপির রাজনীতিতে বাংলাদেশ থেকে কথিত অবৈধ অভিবাসনকে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনমিতিক ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিভিন্ন সময়ে ‘অনুপ্রবেশকারী’দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই নীতির প্রশাসনিক প্রয়োগ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’—অর্থাৎ শনাক্ত করা, বাদ দেওয়া এবং ফেরত পাঠানোর নীতির কথা বলেছেন। রাজ্য সরকারের দাবি, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। জুনে বিধানসভায় অধিকারী দাবি করেন, প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। তবে এসব সংখ্যার পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাঙালি বাসিন্দাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির দাবি, জুনে কয়েকটি ঘটনায় বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিলে কিছু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকা পড়ে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব পদক্ষেপকে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখছে।
এখানেই সীমান্ত রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে—কাকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা হবে?
একজন মানুষের হাতে বৈধ ভারতীয় নথি নেই মানেই তিনি বাংলাদেশি—এমন সরল সমীকরণ বাস্তবে সবসময় কাজ করে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বহু মানুষের জন্ম, বসবাস, বিয়ে, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুই দেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। ফলে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রশ্নটি সেখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে ঘিরে বহু মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, নথিপত্র যাচাই এবং নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুসলিম বাঙালিদের ঘিরে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বড় অংশই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম। অভিযোগ উঠেছে, ভাষা, নাম, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা পারিবারিক শিকড়ের ওপর ভিত্তি করে সন্দেহ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং বসবাস ভারতের নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বেড়া, নজরদারি, চেকপয়েন্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। অমিত শাহ সীমান্তে বেড়াকে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু সীমান্ত যত বেশি সুরক্ষিত হচ্ছে, সীমান্তের মানুষের জীবন তত বেশি নিয়ন্ত্রিতও হচ্ছে।
কিছু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি ছোট রাস্তা পার হতে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়। মোটরসাইকেলের বিভিন্ন অংশ খুলে দেখা, ব্যাগ তল্লাশি, খাবারের বাক্স পরীক্ষা কিংবা পরিচয়পত্র যাচাই—সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় চলে যায়। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অনেক জায়গায় মানুষের চলাচলের পুরোনো পথগুলোকে বিভক্ত করে দিয়েছে।
কোনো কোনো অঞ্চলে বাজার, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। চোরাচালান ঠেকাতে পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তার প্রভাব কখনো কখনো সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেও পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, নিরাপত্তার নামে তৈরি হওয়া ব্যবস্থা তাদের কাছে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের আরেকটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দার প্রশ্ন তাই প্রতীকী হয়ে ওঠে—‘আমরা কি আসলেই ভারতের অংশ?’
এই প্রশ্নের ভেতরে রয়েছে সীমান্তবাসীর দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। তারা ভারতের নাগরিক, কিন্তু সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসের কারণে তাদের জীবন সবসময়ই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরের মধ্যে। তাদের জন্য সীমান্ত কেবল একটি আন্তর্জাতিক রেখা নয়; এটি বাড়ি, জমি, বাজার, নদী, রাস্তা ও সম্পর্কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাস্তব বাধা।
এই বাস্তবতার সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ‘অনুপ্রবেশ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু ছিল। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন পশ্চিমবঙ্গের জনমিতি ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। ক্ষমতায় আসার পর দলটি সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশাসনিক নীতিতে রূপ দিয়েছে। রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, সীমান্তে নতুন চেকপোস্ট, বেড়া নির্মাণ এবং সন্দেহভাজন বিদেশিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নীতির আরেকটি দিকও রয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ভুল হলে তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে ভুলভাবে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তার জন্য আইনি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি তৈরি হতে পারে। আর সীমান্তে যখন দুই দেশের বাহিনী একই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকার করে, তখন সেই মানুষটি কার্যত রাষ্ট্রহীন অবস্থায় পড়ে যেতে পারেন।
২০২৬ সালের জুনে এমন কয়েকটি ঘটনার কথা মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, যেখানে পরিবারগুলো সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ আটকে পড়েছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ছিল, আবার বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা তাদের গ্রহণ করেনি। ফলে দুই দেশের মাঝখানে থাকা মানুষগুলো কয়েক ঘণ্টা কিংবা কয়েক দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেছে।
এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, ‘পুশব্যাক’ শব্দটি যত সহজে রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহার করা যায়, বাস্তবে এর মানবিক পরিণতি ততটা সহজ নয়।
কারণ একজন মানুষকে একটি দেশের সীমান্তে দাঁড় করিয়ে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া মানেই তার পরিচয়, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায় না। বরং প্রক্রিয়াটি যদি স্বচ্ছ ও আইনি কাঠামোর বাইরে চলে যায়, তাহলে তা নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
এর মধ্যেই ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্নটি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের নির্দিষ্ট অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি বিশেষ পথ তৈরি করেছে। ফলে সীমান্ত রাজনীতিতে মুসলিম ও অমুসলিমদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আচরণ একই কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই বৈষম্য নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক চলছে।
অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য হলো, নির্দিষ্ট আইন ও নাগরিকত্বের কাঠামোর মধ্যে যারা যোগ্য, তাদের অধিকার রক্ষিত হবে; অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও নাগরিকত্বের শৃঙ্খলাকে এর মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে।
দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পুশব্যাক এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নানা ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ভারতও সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ পারাপার ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে কঠোর ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ফলে সীমান্ত এখন শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয় নয়; এটি দুই দেশের কূটনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নাগরিকত্ব আইন এবং মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, সীমান্তের মানুষ এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে বসবাস করেন। দিল্লি বা কলকাতার রাজনৈতিক বক্তব্য যখন সীমান্তে পৌঁছে, তখন তার প্রভাব পড়ে কোনো কৃষকের জমিতে, কোনো দোকানির ব্যবসায়, কোনো শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথে কিংবা কোনো পরিবারের রাতের ঘুমে।
একদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো। অন্যদিকে নাগরিকের পরিচয় নির্ধারণ ও বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই দুইয়ের ভারসাম্য নষ্ট হলে সীমান্ত নিরাপত্তা আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা—দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
আজকের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত তাই শুধু কাঁটাতারের বেড়া, চেকপোস্ট আর সীমান্তরক্ষীদের গল্প নয়। এটি এমন এক ভূখণ্ডের গল্প, যেখানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন স্বাধীনতা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে একটি পরিচয়পত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা থেকে কয়েক দিনের বন্দিত্বের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। যেখানে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি রাজনৈতিক স্লোগান থেকে বাস্তব মানুষের জীবনে নেমে আসে।
আর সেই বাস্তবতায় সীমান্তের গ্রামগুলো ক্রমেই এমন এক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে মানুষ দেশের ভেতরেই থেকেও প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে বাধ্য হচ্ছে—সে আসলে কোন দেশের মানুষ।
সীমান্তের কাঁটাতার হয়তো দুই রাষ্ট্রকে আলাদা করে। কিন্তু সেই তারের ছায়ায় বসবাসকারী মানুষদের জীবনকে আলাদা করা এত সহজ নয়। তাদের ভাষা, স্মৃতি, পরিবার ও ইতিহাস সীমান্তের রেখা মানে না। তাই সীমান্ত যত কঠোর হবে, প্রশ্নটিও তত জোরালো হবে—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে রাষ্ট্র কি তার নিজের নাগরিকদের জীবনকেও এমন এক ব্যবস্থার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে স্বাধীন চলাচল, পরিচয় ও নিরাপত্তা—সবকিছুকেই প্রতিদিন নতুন করে প্রমাণ করতে হয়?
আপনার মতামত জানানঃ